প্রশ্ন: বক্ষব্যাধি বা শ্বাসকষ্টের জন্য অনেকে ‘ভেন্টোলিন ইনহেলার’ (Ventolin Inhaler) ব্যবহার করেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এটি মুখের ভেতর স্প্রে করতে হয়। রোজা অবস্থায় এই ইনহেলার ব্যবহার করলে কি রোজা ভেঙে যাবে?
উত্তর: আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞ আলেমদের সম্মিলিত গবেষণায় ভেন্টোলিন ইনহেলার ব্যবহারের শরয়ী বিধান নিচে স্পষ্ট করা হলো:
ভেন্টোলিন ইনহেলার যখন মুখের ভেতর স্প্রে করা হয়, তখন এর ওষুধের ক্ষুদ্র কণাগুলো শ্বাসনালির পাশাপাশি সরাসরি খাদ্যনালি হয়ে পাকস্থলীতেও প্রবেশ করে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সচিত্র ব্যাখ্যা এবং বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইনহেলার ব্যবহারের সময় ওষুধের কিছু অংশ গিলে ফেলার ফলে তা পেটে চলে যায়। শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ওষুধ বা তার অংশবিশেষ পাকস্থলীতে পৌঁছালে রোজা ভেঙে যায়।
সুতরাং রোজা অবস্থায় ভেন্টোলিন ইনহেলার ব্যবহার করলে ওই দিনের রোজাটি ভেঙে যাবে।
অধিকাংশ বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, খুব জটিল রোগী ছাড়া অন্য সবার ক্ষেত্রেই ইনহেলারের ডোজ সমন্বয় করা সম্ভব।
রোগী সেহরির শেষ সময়ে এক ডোজ ইনহেলার নিতে পারেন এবং পরবর্তী ডোজ ইফতার পর্যন্ত বিলম্ব করতে পারেন। এতে সারা দিন ইনহেলার ছাড়াই রোজা পূর্ণ করা সম্ভব হয়।
যদি কোনো রোগীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হয় এবং ডাক্তার তাকে অবশ্যই দিনের বেলা ইনহেলার ব্যবহারের পরামর্শ দেন, তবে জীবন রক্ষার্থে তিনি ওষুধটি ব্যবহার করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে করণীয় হলো: অসুস্থতার কারণে দিনের বেলা ইনহেলার ব্যবহারে কোনো গুনাহ হবে না। ওই রোজাটি ভেঙে যাওয়ায় রমজানের পর সুবিধাজনক সময়ে তিনি একটি রোজা কাজা করে নেবেন। ইনহেলার ব্যবহারের ফলে ওষুধের অংশবিশেষ পেটে চলে যায় বলে রোজা নষ্ট হয়। তাই সম্ভব হলে সাহরি ও ইফতারের মধ্যবর্তী সময়ে এর ব্যবহার এড়িয়ে চলাই ইসলামের বিধান। তবে নিরুপায় রোগীর জন্য শিথিলতা রয়েছে।
আপনার শ্বাসকষ্টের মাত্রা অনুযায়ী ডোজ পরিবর্তনের বিষয়ে আগেভাগেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মাসআলার চূড়ান্ত সমাধানের জন্য নির্ভরযোগ্য কোনো ‘দারুল ইফতা’ বা মুফতি সাহেবের শরণাপন্ন হোন।