দাম্পত্য জীবন কেবল একই ছাদের নিচে বসবাস নয়, বরং এটি একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং সহনশীলতার এক পবিত্র বন্ধন। কিন্তু বর্তমানে আমাদের ক্ষুদ্র আচরণের কারণে এই সুন্দর সম্পর্কেও অনেক সময় তিক্ততা তৈরি হয়। সুখী দাম্পত্যের জন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখা জরুরি।
আমরা যখন রেগে যাই বা স্বামীর কোনো আচরণে বিরক্ত হই, তখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু পাইকারি শব্দ ব্যবহার করি। যেমন- তুমি সব সময় আমার সঙ্গে এমন করো, তোমার কাছে কোনো দিন ভালো ব্যবহার পেলাম না কিংবা কখনো তুমি আমায় সময় দাও না ইত্যাদি।
হাদিস শরিফে নারীদের এই স্বভাবের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। একজন স্বামী হয়তো সারা দিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সামান্য একটি ভুল বা সময়ের অভাবে যখন স্ত্রী বলে ওঠেন যে, তিনি কখনো স্বামীর থেকে ভালো কিছু পাননি, তখন স্বামীর মনে চরম আঘাত লাগে। এই একটি কথা তার অতীতের সব ত্যাগ ও অনুগ্রহকে মুছে দেয়। তাই অভিযোগ করার সময় সব সময় বা কখনো না-জাতীয় শব্দগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।
পুরোনো দিনের নারীদের আদর্শ ছিল বিস্ময়কর। স্বামী যখন উপার্জনের জন্য বের হতেন, স্ত্রীরা বলতেন–আমরা অভাব ও ক্ষুধার কষ্ট সইতে পারব, কিন্তু জাহান্নামের আগুন সইতে পারব না। তাই আমাদের জন্য শুধু হালাল রুজি নিয়ে আসবেন। দুর্ভাগ্যবশত, বর্তমান যুগের চিত্র ভিন্ন। অনেক ক্ষেত্রে স্বামীর সামর্থ্যের বাইরে লম্বা চাহিদার তালিকা ধরিয়ে দেওয়া হয়। স্বামী যখন নিজের অসহায়ত্বের কথা বলেন, তখন অনেকে তা বুঝতে চান না।
মনে রাখা জরুরি, স্বামীর ওপর অহেতুক চাপ সৃষ্টি করলে তিনি অনেক সময় অসদুপায়ে উপার্জনে বাধ্য হন। পরিবারের বরকত নষ্ট হয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সিরাত আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। স্বামী হিসেবে যেমন কোমল হওয়া প্রয়োজন, স্ত্রী হিসেবেও তেমন কৃতজ্ঞ হওয়া জরুরি। আসুন, আমরা অভিযোগের ভাষা পরিবর্তন করি এবং অল্পে তুষ্ট থাকার মানসিকতা তৈরি করি। তবেই আমাদের ঘরগুলো প্রশান্তির জান্নাতে পরিণত হবে।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক