জিলহজ মাসের এমন একটি জিকির—যা মাত্র একবার না পড়লে আপনি গুনাহগার হবেন! আবার এমন একটি রাত, যাতে একটুখানি ইবাদত করলেই আপনার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যেতে পারে! হ্যাঁ, আমরা কথা বলছি ‘তাকবিরে তাশরিক’ এবং ‘ঈদের রাতের’ এক মহা সুযোগ নিয়ে। কীভাবে ও কখন পড়বেন এই তাকবির? চলুন জেনে নিই সহজ ভাষায়।
শরীয়তের পরিভাষায় তাকবিরে তাশরিক হলো: ‘আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’ পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে তাঁর নাম স্মরণের যে নির্দেশ দিয়েছেন, সাহাবিদের মতে সেটাই হলো তাকবিরে তাশরিক। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এই দিনগুলোর জিকিরের চেয়ে উত্তম কোনো আমল আর নেই।
৯ জিলহজ ফজর নামাজ থেকে শুরু করে ১৩ জিলহজ আসর নামাজ পর্যন্ত—মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর এই তাকবির পড়া প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ওয়াজিব। নামাজ একা পড়েন বা জামাতে, শহরে থাকুন বা গ্রামে, এমনকি নারী-পুরুষ সবার জন্যই এটি আবশ্যক।
তবে মনে রাখতে হবে, প্রতি ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পরপরই, কোনো কথাবার্তা বলার আগেই এই তাকবির মাত্র একবার বলতে হবে।
অনেকে সুন্নত মনে করে তিনবার পড়েন, যা ইসলামে মাকরুহ বা অপছন্দনীয়। পুরুষেরা এটি উচ্চস্বরে পড়বেন এবং নারীরা পড়বেন মৃদু আওয়াজে।
যদি ইমাম সাহেব সালামের পর তাকবির বলতে ভুলেও যান, মুক্তাদিরা ইমামের অপেক্ষা না করে নিজেই তাকবির বলে উঠবেন। আর যদি নামাজ শেষে মসজিদ বা নামাজের স্থান ত্যাগ করার পর মনে পড়ে, তবে এই ওয়াজিব ছুটে যাবে এবং এর কোনো কাজা নেই। আবার জামাতে কারও কোনো রাকাত ছুটে গেলে, তিনি নিজের নামাজ শেষ করে তবেই তাকবির পড়বেন।
জিলহজের এই দিনগুলোর পাশাপাশি ঈদের রাতটিও এক মহাসুযোগ। হাদিস অনুযায়ী, পাঁচটি রাতে ইবাদত করলে জান্নাত ওয়াজিব হয়, যার মধ্যে অন্যতম হলো ঈদুল আজহার রাত এবং আরাফাতের রাত। তাই ঈদের আনন্দের পাশাপাশি এই রাতগুলোতে অলসতা না করে বেশি বেশি ইবাদত করা উচিত।
কোরবানি ও ঈদের এই দিনগুলোতে মহান আল্লাহর মহিমা প্রকাশ করুন। ২৩ ওয়াক্তের এই বিশেষ ওয়াজিব আমলটি যেন কোনোভাবেই ছুটে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক