ঈদের খুশির দিনে আমরা সবাই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বলি—‘ঈদ মোবারক’। কিন্তু আপনি কি জানেন, প্রিয় নবীজি (সা.) এবং তাঁর সাহাবিরা ঈদের দিন দেখা হলে ঠিক কোন শব্দে শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন? তাঁরা এমন একটি বাক্য বলতেন, যা একই সাথে শুভেচ্ছা আবার চমৎকার একটি দোয়া! অথচ আমাদের অবহেলায় আজ হারিয়ে যেতে বসেছে সেই সুন্দর সুন্নাহ। কী সেই দোয়া? চলুন জেনে নিই আজকের আলোচনায়।
পবিত্র ঈদের আনন্দঘন দিনে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে সাধারণত ‘ঈদ মোবারক’ বলে থাকেন। আরবি ‘ঈদ’ শব্দের অর্থ হলো আনন্দ বা খুশি, আর ‘মোবারক’ শব্দের অর্থ হলো কল্যাণময় বা বরকতপূর্ণ। সুতরাং ‘ঈদ মোবারক’ এর অর্থ দাঁড়ায়—আপনার এই আনন্দের দিনটি বরকতময় হোক।
আমাদের সমাজে এই প্রচলিত বাক্যটি বলা অন্যায় বা নাজায়েজ নয়। তবে ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর আগে একে অপরকে সালাম দেওয়া বাঞ্ছনীয়। কারণ, অনেক সময় দেখা যায় সরাসরি শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গিয়ে আমরা সালামের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল সম্পূর্ণ ভুলে যাই। তাই সুন্নাত হলো, প্রথমে সালাম দিয়ে এরপর শুভেচ্ছা বিনিময় করা।
হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামের আমল থেকে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সর্বোত্তম এবং সবচেয়ে চমৎকার একটি দোয়া পাওয়া যায়। ঈদের দিনে সাহাবিরা যখনই পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তাঁরা বলতেন— যার অর্থ হলো: মহান আল্লাহ আমাদের এবং আপনার পক্ষ থেকে সমস্ত নেক আমলগুলো কবুল করুন।
হাদিস শরিফে এসেছে, হযরত ওয়াসীলা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে ঈদের দিন সাক্ষাৎ করে বললাম, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’। নবীজি (সা.)-ও উত্তরে একই বাক্য ফিরে বললেন, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’।’
দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখা বা কোরবানির পর এই দোয়াটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ইবাদত কবুলের আকুতি জানানো হয়।
ঈদ মোবারক’ বলা ভুল কিছু নয়, তবে সাহাবায়ে কেরামের পথ অনুসরণ করে ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ বলা অনেক বেশি সওয়াব ও বরকতের কাজ। আসুন, এবারের ঈদে আমরা নিজেরা এই সুন্নাহটি চর্চা করি এবং আমাদের সন্তানদেরও এই সুন্দর দোয়াটি শেখাই। আমাদের ঈদের আনন্দ হয়ে উঠুক সুন্নাহর আলোয় মায়াময়।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক