কল্পনা করুন এমন একজন মানুষের কথা, যিনি জনসমুদ্রে দাঁড়ালে সবার চেয়ে আলাদা দেখাতেন, অথচ উচ্চতায় তিনি অতিদীর্ঘ ছিলেন না। যাঁর গায়ের রং দুধে-আলতা সাদা ছিল না, আবার তামাটেও ছিল না। তিনি আমাদের প্রিয় নবি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আমরা অনেকেই তাঁর জীবনের নানা ঘটনা জানি, কিন্তু তাঁর শারীরিক গঠন বা অবয়বের নিখুঁত পরিমাপ এবং তাঁর বয়স নিয়ে একটি সূক্ষ্ম গাণিতিক রহস্যের কথা কি জানি? চলুন, আজ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দৈহিক সৌন্দর্যের সেই অনন্য অধ্যায়ে প্রবেশ করি।
সাহাবি হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর বর্ণনা থেকে জানা যায়, আল্লাহর রাসুল (সা.) অতি দীর্ঘকায় বা বেমানান লম্বা ছিলেন না, আবার খাটোও ছিলেন না। আধুনিক পরিভাষায় যাকে বলা হয় ‘পারফেক্টলি প্রোপোরশনেট’ বা নিখুঁত শারীরিক সামঞ্জস্য। তবে তিনি একেবারে নিখাদ মাঝারি গড়নের চেয়ে সামান্য একটু দীর্ঘ ছিলেন, যা তাঁকে যেকোনো মজলিসে এক অনন্য মর্যাদা ও ব্যক্তিত্ব দিত। তাঁর চুল মোবারক একদম সোজা বা জটা ধরা কোঁকড়ানো ছিল না, বরং ছিল হালকা ঢেউ খেলানো। তিনি ছিলেন এক অলৌকিক সৌন্দর্যের অধিকারী, যা দূর থেকে মানুষকে আকর্ষণ করত এবং কাছে এলে শ্রদ্ধায় মাথা নত করিয়ে দিত।
হাদিসের একটি জায়গায় বলা হয়েছে, মহানবি (সা.) মক্কায় ১০ বছর ও মদিনায় ১০ বছর কাটিয়েছেন এবং ৬০ বছর বয়সে ওফাত পেয়েছেন। কিন্তু আমরা সবাই জানি তাঁর বয়স ছিল ৬৩ বছর এবং মক্কায় নবুওয়াতপরবর্তী জীবন ছিল ১৩ বছরের। এখানেই লুকিয়ে আছে একটি নতুন জানার বিষয়। তৎকালীন আরবের ঐতিহ্য ও ভাষারীতি অনুযায়ী, অনেক সময় হিসাবের সুবিধার্থে দশকের পরের ভাঙা সংখ্যা (যেমন ৩) বাদ দিয়ে ‘পূর্ণ সংখ্যা’ বা রাউন্ড ফিগার (Round Figure) ধরা হতো। অর্থাৎ, ১৩-কে ১০ এবং ৬৩-কে ৬০ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি কোনো তথ্যের ভুল নয়, বরং প্রাচীন আরবের চমৎকার এক ভাষাতাত্ত্বিক প্রকাশভঙ্গি।
৪০ বছর বয়সে নবুওয়াত পাওয়ার পর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তা সমকালীন ইতিহাসে বিরল। অথচ ওফাতের সময়েও তাঁর মাথা ও দাড়ির মাত্র ২০টির মতো চুল পেকেছিল। অর্থাৎ, পক্বতা বা বার্ধক্য তাঁর রূপকে স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি ছিলেন চিরযৌবনের এক জীবন্ত প্রতীক। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই অতুলনীয় শারীরিক অবয়ব ও সৌন্দর্যের বর্ণনা আমাদের শুধু মুগ্ধই করে না, বরং তাঁর প্রতি ভালোবাসাকে আরও গভীর করে।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক