দেশের অভ্যন্তরীণ কাজের অভিজ্ঞতা আর বাইরের জগতের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা একেবারে ভিন্ন। কাজেই কূটনীতির জগৎটা পেশাদার কূটনীতিকদের নিয়ে পরিচালিত করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা তার সাম্প্রতিক কিছু উদ্যোগের মধ্যদিয়ে তা মনে করিয়ে দিয়েছেন।…
পররাষ্ট্রনীতিতে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ আগামী দিনে মোকাবিলা করব, সেই প্রেক্ষাপটে আমাদের প্রতিনিধিদের সংস্কার বা আধুনিকায়ন প্রয়োজন। এখন সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের ব্যাপারে যেভাবে জোরালো আলোচনা চলছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা হচ্ছে না। যেহেতু বাংলাদেশে এখন একটা বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন হচ্ছে, বাইরের পৃথিবীতেও অনেক নতুন নতুন ঘটনা ঘটছে বা নতুন ট্রেন্ড আমরা দেখতে পাচ্ছি, তা নিয়েও আলোচনার সুযোগ আছে। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা এবং আগামী দিনে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে, এবং কীভাবে তা পরিচালনা করা যায়, সেই আঙ্গিকে দু-একটি কথা বলব।
বাংলাদেশে সম্প্রতি একটা বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে, বহু আত্মত্যাগের বিনিময়ে একটা অন্তর্বর্তী সরকার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশে টেকসই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধরে রাখার জন্য এই সংস্কার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সংস্কার উদ্যোগের সফলতা কামনা করি। অভ্যন্তরীণ ঘটনাপ্রবাহ বাইরের দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটা প্রভাব বিস্তার করছে। অর্থাৎ সাম্প্রতিক এই পরিবর্তনকে সবাই যে ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন তা কিন্তু নয়। অনেকেই এই বিষয়টাকে জড়িয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে। মনে রাখতে হবে, এই প্রবণতা সাময়িক প্রবণতা নয়। কূটনৈতিক জগতের মানুষ হিসেবে আমরা বুঝি এটা এক ধরনের মানসিকতার প্রতিফলন এবং তা নীতিগত পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। সেই বাস্তবতাকে মাথায় রাখতে হবে। বর্তমান যে সংস্কার প্রক্রিয়া তা সুদূরপ্রসারী এ চলমান প্রক্রিয়া। এটা রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, এমনি সামজিক পর্যায়েও থাকবে। কাজেই এর প্রভাব বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে সংযুক্ত করা কূটনৈতিক জগতে যারা আছেন তাদের কাজ। অর্থনৈতিক অগ্রগতি যেভাবে হচ্ছে আগামী দিনেও সেটা অব্যাহত থাকবে।
আরেকটা নতুন বিষয় চিন্তায় আনতে হবে। তা হলো, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য ২০২৬ সাল। তখন আমাদের জন্য বাইরের বাস্তবতাটা অনেক কেন্দ্রীভূত হয়ে যাবে। কারণ, ১৯৭৫ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত পর্যন্ত স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে যে সুবিধাগুলো পেয়েছি, তা সবই ব্যবসাবাণিজ্যের ক্ষেত্রে। ২০২৬ সালের পর সেই সুবিধা অনেকটাই সংকুচিত হবে। আমাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতার মূল শক্তি প্রবাসী কর্মী অর্থাৎ রেমিট্যান্স। এই যে বহুমাত্রিক সুবিধাগুলো আমরা পেয়ে আসছি, সেখানেও পরিবর্তন আনতে হবে। দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে মৌলিক স্বার্থসংক্রান্ত ব্যাপারে নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে হবে। আর একটা কথা- বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমাদের কূটনৈতিক জগৎটাকে বড় ধরনের একটা ঝাঁকুনি দিয়েছেন। বড় ধরনের বৈপ্লবিক এনার্জি বা শক্তি নিয়ে এসেছেন।
গত মাসের শেষ সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিউইয়র্কে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরেন। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি সবার সমর্থন চেয়েছেন।
ড. ইউনূস কূটনীতির নতুন মিশনকে সামনে তুলে নিয়ে এসেছেন। এখানে তার নতুন যে ধারা অর্থাৎ কূটনীতি মাল্টিলেবেল বা বাইলেবেল- এই দুটোকে একসঙ্গে সংযুক্ত করে এবং বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে এগিয়ে যাওয়া। আমাদের বন্ধু যারা আছেন, তাদের কাছ থেকে সমর্থন আদায় করা- এটা একটা অসাধারণ দৃষ্টান্ত। ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নেতৃত্বের জায়গায় বিশ্বের সামনে এক বিরল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করলেন। এখন সেটাকে ফলোআপ করতে হবে বা চালিয়ে যেতে হবে। কূটনীতিকদের জন্য এটা একটা নতুন চ্যালেঞ্জ। যদিও আমরা খুশি। বাংলাদেশের নেতা হিসেবে তার যা করা দরকার ছিল, সফলভাবে সেই কাজটা তিনি করেছেন। সেটা দ্বিপক্ষীয় বলেন, বহুপক্ষীয় বলেন- দুই ক্ষেত্রেই তিনি সফলভাবে করেছেন। এখন আমাদের বাকি কাজ নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ড. ইউনূস নতুন নতুন চিন্তাভাবনা আমাদের সামনে তুলে এনেছেন। তিনি বলেছেন, সার্ক পুনর্জীবিত হোক। সার্ক পুনর্জীবিত করতে গেলে কাজটা সহজ নয়, এটা আমরা বুঝি। তার পরও তিনি বক্তব্য দিয়ে এসেছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে গেছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় তিনি তা তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সংস্থায় বাংলাদেশের সদস্য হওয়ার কথা বলেছেন। যদিও এটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া, নিশ্চয়তাও এখন পর্যন্ত পাওয়া মুশকিল। এর পর শুনলাম তিনি মালয়েশিয়ার সঙ্গেও কথা বলেছেন। সেটার আলোচনাও আমরা আগে করেছি। যদি এসব বিষয়ের প্রেক্ষাপট দেখি তাহলে লক্ষ্য করি, ড. ইউনূস বেশ সৃজনশীলভাবে কূটনৈতিক জগৎটাকে সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন বা খুলে দিচ্ছেন। কূটনীতিকরা এই ভিশন কীভাবে বাস্তবায়ন করবেন তা নিয়ে ভাবতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা কূটনীতিতে যারাই সংশ্লিষ্ট আছেন, সবার জন্যই পরিবর্তনটা অনুভবের বিষয়। কারণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় কর্মকাণ্ড পরিচালনা বেশ কঠিন। এখন বিপ্লবী সময়, তা নতুন করে চিন্তাভাবনায় থাকা দরকার। রুটিন অ্যাপ্রোজের বাইরে গিয়ে এই মানবিক প্রত্যাশা, বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষের নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা কূটনীতিকরা সংযুক্ত করতে পারেন, সে বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে।
১৯৯৫ সালে মোরশেদ খান কমিটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, কর্মপদ্ধতি, তার কাঠামো বা বড় ধরনের রিপোর্ট সংস্কারের পরিকল্পনা দিয়েছিল। আজ পর্যন্ত তার বাস্তবায়ন হয়নি। কাজেই এখনকার বাস্তবতা, আগামী দিনের কূটনীতিতে কী প্রয়োজন, যে চ্যালেঞ্জগুলো আসছে, সেই চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে কীভাবে পররাষ্ট্র কূটনৈতিক কাঠামোকে পুনর্বিন্যাস করা যায়, তা ভাবতে হভে। এ জন্য কূটনীতিকদের সক্ষমতা বাড়াতে সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক পরিবেশ দেখলে বোঝতে যায়, কীভাবে দূরের বন্ধুরা আমাদের সহযোগিতা করছেন। সেটা যে শুধু দ্বিপক্ষীয়, তা নয়। তার একটা ত্রিপক্ষীয় অনুকরণও আছে। তা উপলব্ধিতে আনা দরকার। কাজেই এখন এশিয়া অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি, বিশ্ব অর্থনীতির বাস্তবতা, নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, অসুবিধা, তরুণ প্রজন্মের আশা- সবকিছু নিয়ে আমরা এখন নতুন প্রজন্মের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। প্রবাসে যে বাংলাদেশি ভাইবোনরা আছেন, তাদের স্বার্থ কীভাবে সংরক্ষণ করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে। আরব আমিরাতে যে ৫৭ জন সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশি ছিলেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সে দেশের সরকারের সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের মুক্ত করে এনেছেন। এটা একটা অসাধারণ কূটনৈতিক দৃষ্টান্ত।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় এসেছিলেন। কিছুদিন আগে ১৮ হাজার শ্রমিক বিমানের টিকিট জটিলতায় সে দেশে যেতে পারেননি, তাদের কীভাবে আবার সেখানে নেওয়া যায়, তার জন্য প্রধান উপদেষ্টা নেতৃত্ব পর্যায়ে কূটনৈতিক আলোচনা করছেন। সে বিষয়ে তিনি ফলপ্রসূ পদক্ষেপও নিয়েছেন। সত্যিই এটা প্রশংসার যোগ্য। আমাদের দেড় কোটি প্রবাসী; যারা ২০-২২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠান, তাদের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ কেমন হওয়া উচিত, তার একটা অসাধারণ দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ প্রধান উপদেষ্টা আমাদের দেখিয়েছেন। এই দৃষ্টান্ত সামনে রেখে কূটনৈতিক কাঠামো সাজানো দরকার। সে ক্ষেত্রে আমাদের যে কর্মিবাহিনী আছে, তাদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়াতে পারি। এ জন্য আর্থিক সক্ষমতা ও পেশাগত দক্ষতার উৎকর্ষতা দরকার। অনেক দূতাবাসে লোকবল স্বল্পতা আছে। সেখানে দক্ষ ও পেশাদারি মান বজায় রেখে কূটনীতিকদের নিয়োজিত করা প্রয়োজন।
দেশের অভ্যন্তরীণ কাজের অভিজ্ঞতা আর বাইরের জগতের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা একেবারে ভিন্ন। কাজেই কূটনীতির জগৎটা পেশাদার কূটনীতিকদের নিয়ে পরিচালিত করতে হবে। প্রত্যেক দেশের অভ্যন্তরীণ কাজের ধরন আলাদা। আমাদের মিশনগুলো পরিচালনায় অনেক বেশি পেশাগত উৎকর্ষতা প্রয়োজন। কূটনৈতিক জগতের বাস্তবতা থেকেই এই মিশনগুলো তৈরি করা দরকার। এই কূটনৈতিক মিশনগুলো বাংলাদেশিদের নিয়ে গঠন করতে হবে। প্রবাসীদের যথোপযুক্ত প্রয়োজনীয় উপকার করতে হবে। তারা আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। আমাদের প্রবাসী ভাইবোনেরা বিনিয়োগে অংশগ্রহণ করতে পারেন। তাদের বিনিয়োগের ব্যাপারে উৎসাহিত করতে সেখানেও একটা পেশাগত কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা দরকার। প্রধান উপদেষ্টা তার সাম্প্রতিক কিছু উদ্যোগের মধ্যদিয়ে তা মনে করিয়ে দিয়েছেন। কূটনৈতিক জগতের কাজ শুধু সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ নয়। প্রবাসে যারা আছেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে সহায়তার হাত বাড়ানো কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আমরা লক্ষ্য করছি, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে পৃথিবীর কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। এ কাজটি বেশির ভাগই ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে করা হচ্ছে। এটা কষ্টের বিষয়। আমরা এখন পর্যন্ত কূটনীতিকে ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারিনি। শক্তি বৃদ্ধি করার কাজটা এখনো করতে পারিনি। এখন যেহেতু সংস্কারের কথা উঠেছে, পরিবর্তনের জোয়ার আসছে। সে কারণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ডিজিটাল কূটনীতি পরিচালনার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার বক্তব্যগুলো হাজির করে সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই বিষয়টি নিয়ে খুব একটা উদ্যোগ দেখি না। ডিজিটাল কূটনীতিতে মনোযোগী হওয়া দরকার। এখানে যতটা বিনিয়োগ দরকার, সেটা জরুরিভিত্তিতে করা উচিত। যাতে করে আমরা নতুন কূটনৈতিক চাহিদা পূরণ করতে পারি। অভ্যন্তরীণ এবং বাইরের প্রেক্ষাপট সব পরিবর্তন হচ্ছে। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট যদি সময়োপযোগী থাকে, তাহলে এই কাজগুলো করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
নৈতিক জগৎটাকে আমরা উন্নয়নের জগৎ বলে মনে করি। অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন এবং বাহ্যিক কূটনীতি- এই দুটোর মধ্যে সুষ্ঠু এবং কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। উন্নয়ন ও কূটনীতির মধ্যে সমন্বয় দরকার। বাইরের পৃথিবীতে আমাদের প্রকৃত বাস্তব অবস্থাকে তুলে ধরতে পারি। আমরা যেহেতু উন্নয়নশীল দেশের কথা ভাবছি, সেই জায়গায় যাওয়ার জন্য আমাদের পথচলা সহজ করতে হলে এ বিষয়গুলো ভাবতে হবে।
যেকোনো ক্ষেত্রে পেশাদারত্বের বিকল্প নেই। কাজেই কূটনীতিকেও পেশাদারত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতার পর দুটো প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছিল- একটা সামরিক বাহিনী, অন্যটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই দুটো হচ্ছে আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। কাজেই এই দুটো প্রতিষ্ঠানে যথোপযুক্ত বিনিয়োগ, দক্ষতা, পেশাদারত্ব প্রয়োজন। সময় এখন পরিবর্তনের। সবার প্রতি আহ্বান- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তনের ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃবৃন্দ যারা আছেন, তারা এই বিষয় নিয়ে ভাববেন। মন্ত্রণালয় ও কূটনীতিকে নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেভাবে তৈরি করা দরকার, সেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আমি মনে করি, আমরা শক্তিশালী হতে পারব। অভ্যন্তরীণভাবে যেমন শক্তিশালী হতে পারব, তেমনি পৃথিবীতে সম্মান নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব।
লেখক: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত