মানবজীবন বড়ই বিচিত্র। অবচেতনে তার মধ্যে দ্বৈত চরিত্রের ধারা স্রোতের মতো বহমান। আমি আমার বাবাকে দেখেছি ধর্মের প্রতি তার কী যে প্রগাঢ় অনুরাগ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন মসজিদে গিয়ে। তাহাজ্জুদও পড়েন নিয়মিত। কোনো হারাম কাজে তিনি নেই। এত যে ধর্মের প্রতি অগাধ বিশ্বাস অথচ সেই মানুষটি একটি মাত্র হারাম কাজ করেন। তা হলো তিনি সংগীত প্রেমে মাতোয়ারা। এই নিষিদ্ধ জিনিস থেকে তাকে নিবৃত করা যায়নি। ইসলাম ধর্মে সংগীতকে হারাম করা হয়েছে। কথাটা বলেছেন স্কুলের মৌলবি স্যার। আমি একদিন বাড়ির আঙিনায় গলা ছেড়ে গান গাইছিলাম। স্যার শুনে ফেলেছিলেন। ক্লাসে আমাকে সাবধান করে বললেন, ‘সংগীত হারাম। আর কোনোদিন গান গাইবে না।’
আমি মৃদু স্বরে বলেছিলাম, কবি নজরুল ইসলাম যে গায়, তাহলে তার কী হবে?’
‘তার জন্য কেয়ামতে কঠিন আজাব অপেক্ষা করছে। তাকে তো মৌলানা সাহেবরা ‘কাফের’ ‘নাস্তিক’ বলে ফতোয়া দিয়েছে। তুইও কি তাই হতে চাস?’
এ কথার পর আমি আর কিছু বলতে সাহস পাইনি। মনে মনে ভীষণ কষ্ট পেয়েছি। নজরুল ইসলাম এত বড় কবি, সে নাকি কাফের!
ইসলামে সংগীত হারাম, তার পরও অসংখ্য মুসলিম শিল্পী সংগীতচর্চা করেন, সংগীত নিয়ে গবেষণা করেন। যেমন আমার বাবা। তিনি সংগীত নিয়ে গবেষণা করেন না। কিন্তু সংগীত তার ভীষণ পছন্দ।
আমাদের গ্রামে রফিকুল আলম নামে একজন কিশোর আমার বাবাকে নানা বলে ডাকেন। নানা-নাতির মধ্যে দারুণ সখ্য। রফিকুল আলমরা শহরে থাকেন। তার বাবা শহরে চাকরি করেন। তার পুরো পরিবারের শহরে বাস। মাঝে-মধ্যে গ্রামে এলে রফিকুল আলম বাবার সঙ্গে দেখা করতে আমাদের বাড়ি আসেন। বারান্দায় চৌকিতে বসে তিনি বাবাকে গান শোনান। বাবা তন্ময় হয়ে তার গান শোনেন। পড়া বাদ দিয়ে আমরাও সেই গানের আসরে শ্রোতা হয়ে যাই।
আমার ক্লাস ফাইভে পড়ার সময়কার কথা। রফিকুল আলম গ্রামে বেড়াতে এসেছেন। আমি তাকে মামু বলে ডাকি। আমার চেয়ে মামু পাঁচ-ছয় বছরের বড়। যেমন মিষ্টি চেহারা তেমনই তার মিষ্টি কণ্ঠ। বারান্দায় চৌকিতে বসে তিনি যখন বাবাকে গান শোনান তখন আমাদের আর অন্যকিছু ভাববার অবকাশ থাকে না। আমরাও মুগ্ধ শ্রোতা বনে যাই। রফিক মামু গান গাচ্ছেন আর আমরা মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম। বাবা হঠাৎ বলে ওঠেন, ‘নাতি তোমার আজকের গানগুলো যেন কেমন। আগের মতো না। একদম অন্যরকম।’
‘কী রকম?’ রফিক মামু জিজ্ঞেস করলেন।
বাবা বললেন, ‘আগে যে ধরনের গান শুনিয়েছ আজকের গানগুলো সে ধরনের না।’
‘কেন, ভালো লাগছে না?’
বাবা বললেন, ‘অবশ্যই ভালো লাগছে। অতি চমৎকার গানের কথাগুলো, বেশ আকর্ষণ করে।’
রফিক মামু বললেন, ‘এগুলো কাজী নজরুল ইসলামের গান।’
আমি তো অবাক। পাঠ্যবইয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলামের ছড়া-কবিতা পড়েছি। তিনি যে গানও লেখেন সেটা আগে জানতাম না। এই প্রথম জানলাম সে কথা। একটি গানের কথা এবং সুর আমার শিশুমনে ভীষণ দাগ কেটে যায়। ‘খেলিছ এ বিশ্ব লয়ে বিরাট শিশু আনমনে, প্রলয় সৃষ্টি তব পুতুলও খেলা, নিরজনে প্রভু নিরজনে।’
বেশ কয়েকদিন এই গানটি আমার মনে নীরবে সুরের ধ্বনি তুলেছে। একা একা গাইবারও চেষ্টা করেছি। কিন্তু মৌলবি সাহেবের সেই সাবধান বাণীর কথা মনে হওয়ায় আর শব্দ করে গাইনি।
হাইস্কুলে ভর্তি হওয়ার পর নজরুল সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানার সুযোগ হয়। তার ‘বিদ্রোহী’ কবিতা পড়ে আমি যেন নিজেই বিদ্রোহী হয়ে পড়ি। ক্লাসের বাংলার টিচার আরও চমৎকার করে নজরুল সম্পর্কে বুঝিয়ে পড়ান। স্যারের চেহারা আর পোশাক দেখলে সবাই ধারণা করবেন তিনি হয়তো ধর্মের টিচার। তার লেবাস মৌলবি স্যারের মতো। তার মুখে মেন্দিমাখা দাড়ি। মাথায় সাদা টুপি। কথায় কথায় তিনি আলহাম্দুল্লিাহ, সোবাহানাল্লাহ বলেন।
একদিন তিনি ক্লাসে কাজী নজরুল ইসলামের ‘মহররম’ কবিতা পড়াতে পড়াতে নজরুলের অনেক প্রশংসা করে বললেন, ‘নোবেল পুরস্কার তো নজরুলরেই পাওয়ার কথা। কিন্তু হিন্দু কবি রবীন্দ্রনাথ তার ভাস্তিকে তার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে তার মাধ্যমে ষড়যন্ত্র করে নজরুলকে বিষ খাইয়ে পাগল বানিয়ে নিজে গিয়ে নোবেল পুরস্কার বাগিয়ে নিয়ে আসে।’
আমাদের একজন জিজ্ঞেস করল, ‘নোবেল কী স্যার?’
স্যার বললেন, ‘নোবেল হলো বিরাট পুরস্কার। অনেক টেকা তার মূল্য। রবীন্দ্রনাথ ওই টেকা দিয়ে ফুর্তি-ফার্তি করেছে। আর অন্যদিকে নজরুলকে বিষ খাইয়ে পাগল করে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরিয়েছে।’ স্যার আরও বললেন, ‘আসল ব্যাপার কি তোরা জানস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কার পাইছে নজরুলের লেখা চুরি করে। নজরুলকে পাগল বানিয়ে তার লেখা চুরি করে নিয়ে গিয়ে নোবেল কমিটিতে জমা দিয়ে পুরস্কার বাগিয়ে নিয়েছে।’
স্যারের কথা শুনে আমাদের সবারই মন খারাপ হয়ে যায়। হিন্দু রবীন্দ্রনাথের ওপর আমাদের প্রচণ্ড ঘৃণা তৈরি হয়। পারলে তখনই তাকে কেটে ফালা ফালা করে ফেলি। ভাগ্যিস আমাদের ক্লাসে কোনো হিন্দু ছাত্র ছিল না। থাকলে তার কপালে শনির দশা হতো। স্যারের এই গল্পে আমাদের সবার মনে হিন্দুবিদ্বেষ প্রবলভাবে মাথা চাড়া দেয়।
মন্টু নামের একজন দুষ্টু প্রকৃতির ছাত্র প্রশ্ন করে, ‘স্যার বিষ খেলে তো মইরা যাওয়ার কথা। পাগল হবে ক্যা?’
‘সেটা আসল বিষ না। ধুতরার বিষ। ধুতরার বিষ খেলে কেউ মরে না। পাগল হয়ে যায়।’
আমাদের বাড়ির আশপাশে অনেক ধুতরার গাছ। থোকা থোকা ধুতরা ধরে থাকে। ভয়ে আমি ধুতরার গাছ এড়িয়ে চলি। সেই থেকে বাংলা স্যারের নাম হয় ‘ধুতরার বিষ’। বাংলার স্যার ক্লাসে আসছিলেন, মন্টু সবার উদ্দেশে বলে, ‘সাবধান, ধুতরার বিষ আসতেছে।’ বাংলার স্যারকে দেখে সবাই হেসে ওঠে। স্যার ক্লাসে আসার পরও কেউ কেউ ঠোঁট টিপে হাসতে থাকে। সেই থেকে বাংলা স্যারে নাম ধুতরার বিষ হয়ে যায়।
আমার ধারণা, মন্টু স্যারের কথা বিশ্বাস করেনি। বিশ্বাস করলে স্যারকে নিয়ে ধুতরার বিষ বলে ঠাট্টা করত না। ছুটির পর আমি মন্টুকে জিজ্ঞেস করি, ‘আচ্ছা মন্টু, স্যার যে বলল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ধুতরার বিষ খাইয়ে নজরুল ইসলামকে পাগল করেছে, তোর কি মনে হয় কথাটা ঠিক?’
মন্টুদের বাড়িতে অনেক বই। ওদের পরিবারের সবাই নানা ধরনের বই পড়ে। মন্টুও পড়ে। এজন্য কথাটা মন্টুকে আমি জিজ্ঞেস করি। মন্টু বলে, শোন বিলু, কথাটা নিয়ে আমি একা একা অনেক ভেবেছি। দেখ, সবাই কিন্তু রবীন্দ্রনাথকে বিশ্বকবি বলে, তাহলে তার মানে কী? সে যদি নজরুলের লেখা চুরি করবে তবে কেন তাকে বিশ্বকবি বলবে?’
এ ব্যাপার নিয়ে ক্লাসের ফার্স্টবয় আতাউরের সঙ্গে আলাপ করতে গেলে সে বলে, ‘তাকে বিশ্বকবি কারা বলে, তা জানিস?’
‘না জানি না। কারা বলে?’
‘ওই হিন্দুরা বলে। তারা তো সবকিছুতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে। হিন্দুরা কেউ মুসলমানদের ভালো দেখতে পারে না। নজরুল সবাইকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে এইটা দেইখা রবীন্দ্রনাথের সহ্য হয় নাই।’
‘কিন্তু আমার যেন কেমন সন্দেহ হয়।’
‘ক্যা? সন্দেহ হবি ক্যা?’
‘আমি শুনছিলাম নজরুলের বউ রবীন্দ্রনাথের ভাস্তি না।’
‘কেডা কইলো তোরে?’
‘কেডা জানি কইছিল।’ আমি আমতা আমতা করতে থাকলে ও খেকিয়ে ওঠে। বলে, ‘না জাইনা কিছু কবি না। নজরুলের বউ নিশ্চিত রবীন্দ্রনাথের ভাস্তি। চালাকি কইরা ভাস্তির সাথে বিয়া দিয়া ষড়যন্ত্র কইরা তারে পাগল বানাইছে।’
এই কথাগুলো আমাকে তুষ্ট করে না। বরং আমার মনে দ্বিগুণ সন্দেহ তৈরি করে। আমি ব্যাপাটা কারও সঙ্গে আলাপ করতে না পেরে নিজে নিজে ভাবতে থাকি। এর মধ্যে আমি আমার মামাতো ভাই আবীর যে কি না কলেজে পড়ে। তাকে বললাম, ‘আচ্ছা আবীর ভাই, তোমাকে একটা কঠিন প্রশ্ন করতে চাই। তুমি সঠিক জবাব দিবা?
‘কী প্রশ্ন তা না কইরা আগেই সঠিক জবাবের কথা বলছিস কেন?’
আমি বললাম, ‘নজরুলের বউ কি রবীন্দ্রনাথের ভাস্তি?’
সে উত্তর না দিয়া আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করল, ‘তোকে এই কথা কে বলেছে?’
আমি বললাম, ‘আমাদের ক্লাসের বাংলা স্যার বলেছে।’
‘সে তো দেখছি একটা গাধা। নজরুলের স্ত্রীর নাম হলো প্রমীলা দেবী। তার বাড়ি বাংলাদেশে, কুমিল্লা। সে রবীন্দ্রনাথের ভাস্তি হবে কেন?’
‘আমি কী জানি? স্যার বলছে তাই বলতেছি।’
আমার মামাতো ভাই এবার মৃদু ধমকের সুরে বলল, ‘দেখ, তোর এসব নিয়া ভাবার সময় এখনো হয়নি। তুই বড় হ। কলেজে ওঠ। বইপুস্তক পড়। তার পর দেখবি সব পরিষ্কার হয়ে গেছে।’ সে এর বেশি কিছু না বলে আমাকে আরও ঘোরের মধ্যে ফেলে দেয়। সত্যি বলতে কী, মামাতো ভাই আবীরের কথায় আমার মাথায় আরও জট পাকিয়ে যায়। দিনে দিনে রবীন্দ্রসংগীতের ওপর আমার ঘেন্না ধরে যায়। রবীন্দ্রসংগীত শুনলে আমার মেজাজ খারাপ হয়। কখনো কখনো ঘুম পায়। মনে হয় নাকি সুরে কেউ কান্না করছে।
দিনে দিনে আমি নজরুলের গানের প্রেমে পড়ছি। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর জলিল নামের একজন বন্ধুর সঙ্গে গাঢ় সম্পর্ক হয়। সে ভালো গান গাইতে পারে। সে শুধু সিনেমার গান গায়। আমি একদিন তাকে বললাম, ‘তুই নজরুল ইসলামের গান গাইতে পারিস?’
বলল, ‘হ্যাঁ পারি।’
‘গা।’
জলিল শুরু করল, ‘মোর ঘুমো ঘোরে কে এলে মনোহর, নম নম, নম নম, নম নম।’
গানটি কঠিন এবং এর সঙ্গে নম নম শব্দ আছে। তার মানে নজরুল হিন্দু ধর্মের প্রতি অনুগত। ভেতরে ভেতরে আমি ঘেমে যাচ্ছি। নজরুল তাহলে হিন্দু বউ বিয়ে করে ভেতরে ভেতরে হিন্দু হিন্দু ভাবে চলে গিয়েছিল। অর্থাৎ সে বউয়ের কথায় ওঠবস করত। এ জন্য কি মৌলবিরা তাকে কাফের বলেছিল? এটা আমার নিজে নিজে কল্পনা। কাউকে বলতে পারি না।
কলেজে বাংলার টিচার রবীন্দ্রনাথের ‘সোনারতরী’ কবিতা পড়াচ্ছিলেন। এমন সুন্দর করে কবিতার মানে বোঝাচ্ছিলেন আমরা সবাই মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম। একই সঙ্গে তিনি রবীন্দ্রনাথের কবিতা এবং গানের ভীষণ প্রশংসা করছিলেন। আমার তখন হাইস্কুলের বাংলা স্যারের সেই ধুতরার বিষের কথা মনে পড়ল। কথাটা স্যারকে জিজ্ঞেস করব কি না ভাবছি। এসময় পেছনের বেঞ্চিতে বসা একজন সহপাঠী বলে ওঠে, ‘স্যার, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?’
‘বলো।’
‘অনেকে বলে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ভাস্তিকে নজরুলের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নজরুলকে পাগল বানিয়ে রবীন্দ্রনাথ সেই পুরস্কার নিজে গ্রহণ করে।’
এই কথা শুনে স্যার হো হো করে হেসে ওঠেন। তার হাসি যেন থামতেই চায় না। স্যারের সঙ্গে অনেক ছাত্রছাত্রীও হাসিতে যোগ দেয়। মনে মনে আমি ভাবি, যাক বাবা বড় বাঁচা বেঁচে গেছি। প্রশ্নটা আমি করলে আমিও হাসির পাত্র হতাম। স্যার হাসি থামিয়ে সেই ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি এ আজগুবি কথা কোথায় পেয়েছ?’
ছাত্রটি আমতা আমতা করে বলে, ‘স্যার অনেকেই বলে।’
‘তাদের আমার কাছে ধরে নিয়ে এসো। কানটা ছিঁড়ে দেব। কেউ বলতে পারবে নজরুল কত সালে জন্মগ্রহণ করেছেন?’
অনেকেই বলল, ‘স্যার, ১৮৯৯ সালে।’
‘রবি ঠাকুর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কত সালে?’
একসঙ্গে বলল কয়েকজন, ‘১৯১৩ সালে।’
‘তখন নজরুলের বয়স কত?’
‘স্যার ১৪ বছর।’
‘তখন কি নজরুল বিয়ে করেছেন?’
‘না।’
শোন, এসব ফালতু কথা আমিও শুনেছি। এটা রবীন্দ্রবিদ্বেষীদের একটা মিথ্যা প্রচারণা। রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পুরস্কার পান তখনো নজরুল কবিতা লেখা শুরু করেননি। দুজনের বয়সের ব্যবধান সত্ত্বেও তাদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত মধুর। নজরুল রবি ঠাকুরকে গুরু বলে সম্বোধন করতেন। রবি ঠাকুরের মৃত্যুর পর নজরুল তাকে নিয়ে ‘রবি হারা’ নামে অত্যন্ত বেদনার্ত একটি কবিতা লেখেন। নজরুলকে ভীষণ স্নেহ করতেন রবি ঠাকুর। নজরুলকে বই উৎসর্গ করেছেন তিনি। কবিতা লেখার জন্য ব্রিটিশ সরকার কবি নজরুলকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠালে জেলের অব্যবস্থার বিরুদ্ধে নজরুল অনশন শুরু করেন। তাকে অনশন ভঙ্গের জন্য অনুরোধ করে টেলিগ্রাম করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। অতএব, এখন বুঝে নাও তাদের সম্পর্ক কেমন ছিল।’
শুনে আমি থ হয়ে যাই। মুহূর্তে আমার ভাবনা স্তব্ধ হয়ে যায়।