প্রথমবার গৃহায়ণ বিনিয়োগ নিতে চাওয়া ব্যক্তিদের জন্য পরামর্শ হচ্ছে, যেহেতু এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং মাসিক কিস্তি গ্রাহকের মাসিক আয় থেকে সমন্বয় করা হবে এ জন্য গ্রাহকের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে জমা দিলে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
খবরের কাগজ: গৃহঋণের চাহিদা কেমন?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: মানুষের মৌলিক চাহিদার একটি হচ্ছে বাসস্থান। বর্তমানে অধিকাংশ মানুষের নিজস্ব আবাসনের চাহিদা বাড়ছে। শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক মানুষের এই মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। গ্রাহকরা যাতে সহজে গৃহায়ণ বিনিয়োগ পায় সে জন্য আমরা ২০২৪ সালে গৃহায়ণ বিনিয়োগ নীতিমালা গ্রাহকবান্ধব করেছি। এ ছাড়াও দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের বাড়ির স্বপ্ন পূরণে মানুষের বাস্তব প্রয়োজন মেটানোর জন্য শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক এগিয়ে এসেছে। মূলত কোভিড-১৯-এর সময় সব ধরনের বিনিয়োগই কিছুটা স্থবির ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় গৃহায়ণ বিনিয়োগ কিছুটা স্থবির ছিল। কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে গৃহায়ণ বিনিয়োগের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। আগামীতে তা আরও বাড়বে বলে আশা করছি।
খবরের কাগজ: কোন ধরনের বাড়ির প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: সাশ্রয়ী হয় এমন বাড়ির প্রতিই এখন মানুষের আগ্রহ বেশি। মূলত প্রিমিয়াম বাড়িগুলো শহরকেন্দ্রিক। তবে বিভাগীয় শহরগুলোর বাইরে ছোট শহরগুলোতেও বাড়ছে গৃহায়ণ বিনিয়োগের চাহিদা। যেহেতু আমরা সমগ্র বাংলাদেশেই গৃহায়ণ বিনিয়োগকে ছড়িয়ে দিয়েছি সেহেতু সাশ্রয়ী বা প্রিমিয়াম আমাদের কাছে খুব বেশি পার্থক্য তৈরি করে না।
খবরের কাগজ: আপনার ব্যাংকে কত ধরনের গৃহঋণ আছে? ঋণের সর্বোচ্চ সীমা এবং সুদহার কেমন?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী আমরা সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত গৃহায়ণ বিনিয়োগ দিতে পারি। তবে গ্রাহকের প্রয়োজন বিবেচনায় ২ কোটি টাকার নিচে যেকোনো পরিমাণের বিনিয়োগ শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক দিয়ে থাকে। বর্তমানে গৃহায়ণ বিনিয়োগে বার্ষিক ১২ শতাংশ মুনাফা নেওয়া হয়। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে আমরা সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা নিয়ে থাকি। বর্তমানে অনেক ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান গৃহায়ণ বিনিয়োগ দিচ্ছে কিন্তু তা গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। সেক্ষেত্রে বর্তমান প্রেক্ষাপটের কথা চিন্তা করে গৃহায়ণ বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
খবরের কাগজ: আবেদন করার সময় কোন কোন ডকুমেন্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: আবেদন করার সময় গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, আয় এবং জমিজমার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনুমোদিত নকশা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) জমা দিতে হয়। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে আমাদের ব্যাংকে গড়ে ৭ দিনে গৃহায়ণ বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। তবে ক্ষেত্রবিশেষে ১ থেকে ২ দিনের মধ্যেও অনুমোদন দিয়ে থাকি।
খবরের কাগজ: ঋণগ্রহীতার যোগ্যতা কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: বিনিয়োগ গ্রহীতার যোগ্যতা নির্ণয়ের অন্যতম নির্ধারক হলো বিনিয়োগ পরিশোধ করার সক্ষমতা এবং জমিজমার কাগজপত্রের সঠিকতা।
খবরের কাগজ: আবেদনকারীরা সাধারণত কী কী ভুল করে থাকেন ? গড়ে কত শতাংশ আবেদন বাতিল হয় এবং তার প্রধান কারণ এবং করণীয় কী?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: আবেদনকারীরা সাধারণত বিনিয়োগ গ্রহণ করার সক্ষমতার চেয়ে বেশি বিনিয়োগের জন্য আবেদন করেন। এ ছাড়াও অনুমোদিত নকশার চেয়ে বেশি আয়তনের ভবন নির্মাণ এর জন্য বিনিয়োগের আবেদন করেন। কখনো কখনো মালিকানায় ত্রুটিযুক্ত জমিতে বিনিয়োগ নিতে চান। আমাদের এখানে গৃহায়ণ বিনিয়োগের জন্য আবেদন করলে বাতিল খুব কমই হয়। বাতিল হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে ভবন নির্মাণে ব্যত্যয় এবং বিনিয়োগের সক্ষমতার চেয়ে বেশি পরিমাণ বিনিয়োগের জন্য আবেদন করা। এক্ষেত্রে করণীয় হচ্ছে, গ্রাহকদের অনুমোদিত নকশা মেনে এবং ত্রুটিমুক্ত জমিতে ভবন নির্মাণ বা ক্রয় করা।
খবরের কাগজ: কারা সহজে গৃহঋণ পান?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: আমাদের কাছে সব ধরনের গ্রাহকই সমান। এক্ষেত্রে চাকরিজীবী নাকি ব্যবসায়ী আলাদা করে মূল্যায়ন করা হয় না। বিনিয়োগ পরিশোধে সক্ষম যেকোনো পেশার লোকদের আমরা গৃহায়ণ বিনিয়োগ দিয়ে থাকি।
খবরের কাগজ: তরুণদের মধ্যে গৃহঋণ নেওয়ার প্রবণতা কেমন?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: একটা সময় ছিল যেখানে একটু বয়স্ক মানুষদের বেশি পরিমাণ গৃহায়ণ বিনিয়োগ নেওয়ার প্রবণতা থাকত। ইদানীং তরুণদের মধ্যেও নিজস্ব আবাসভূমির চাহিদা বাড়ছে। তারাও গৃহায়ণ বিনিয়োগ নেওয়ার আবেদন করছে।
খবরের কাগজ: আপনার ব্যাংক সম্প্রতি কোনো নতুন গৃহঋণ কর্মসূচি চালু করেছে কি না?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকে গৃহায়ণ বিনিয়োগের আওতায় নতুন বাড়ি নির্মাণ বা ক্রয়, নতুন বা পুরাতন ফ্ল্যাট ক্রয়, বাড়ির সংস্কার, গৃহসজ্জা এবং অন্য ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ টেকওভারসহ বিভিন্ন গৃহায়ণ বিনিয়োগ প্রকল্প চালু আছে। মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে আমাদের ব্যাংক সেমিপাকা ভবন নির্মাণের জন্য ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করে থাকে। এ ছাড়াও শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকে বর্তমানে একটি গৃহায়ণ বিনিয়োগ কর্মসূচি চলমান। উক্ত কর্মসূচিতে গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে আকর্ষণীয় মুনাফায় এবং প্রসেসিং ফি ছাড়া বিনিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।
খবরের কাগজ: প্রথমবার গৃহঋণ নিতে চাওয়া গ্রাহকের জন্য আপনার পরার্মশ কী?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: প্রথমবার গৃহায়ণ বিনিয়োগ নিতে চাওয়া ব্যক্তিদের জন্য পরামর্শ হচ্ছে, যেহেতু এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং মাসিক কিস্তি গ্রাহকের মাসিক আয় থেকে সমন্বয় করা হবে এ জন্য গ্রাহকের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।