অন্য সময়ের তুলনায় ঈদের ছুটিতে বিনোদন কেন্দ্রগুলো বেশি দর্শনার্থীর পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে। আর এবার ৯ দিনের লম্বা ছুটি। এতদিন বাসায় শুয়ে-বসে টিভি দেখে কাটানোও বিরক্তিকর। তাই এই সময় ঘরে বসে না থেকে নগরবাসীর অনেকে পরিবার নিয়ে ছুটবেন বিনোদনকেন্দ্রে। ঢাকা অনেকটা ফাঁকা থাকায় ঈদকে স্বস্তিতে ঘোরার উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নেন অনেকে। কিন্তু অনেক সময় এই বিনোদনের জন্য ভোগান্তির শিকার হতে হয় মানুষকে। বিশেষ করে চিড়িয়াখানায় প্রবেশের ক্ষেত্রে। প্রতি ঈদে চিড়িয়াখানায় খুব ভিড় হয়।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদে এক-দেড় লাখ দর্শনার্থীর সমাগম হয়। তখন প্রবেশে বাধে বিপত্তি। টিকিট কাটা থেকে প্রবেশ; দুই ক্ষেত্রেই লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তা ছাড়া ওই এলাকায় দেখা দেয় যানজট।
শুধু চিড়িয়াখানাই নয়; বিনোদন কেন্দ্রগুলোর আশপাশে ঈদের সময় যানজট লেগেই থাকে। সে কারণে স্বস্তিতে ঘোরার আনন্দ অস্বস্তিতে রূপ নেয়। তাই এবার যাতে ওই ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে না হয় সেই প্রস্তুতি নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবেশের জন্য এবার ১৪টি বুথে টিকিটি বিক্রি করা হবে। এর বাইরে ছোট গাড়ি রাখার পার্কিংয়েও একটি বুথে টিকিট বিক্রি হবে। এ ছাড়া ১৬টি লম্বা লাইন দিয়ে প্রবেশ করার ব্যবস্থা থাকবে। আশপাশে যাতে যানজট না থাকে সেই বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘প্রতিবছরই ঈদে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীর সংখ্যা এক থেকে দেড় লাখ ছাড়িয়ে যায়। গেটে অনেক জটলা হয়। বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর চিড়িয়াখানায় প্রবেশ যেন মসৃণ হয়, সে জন্য লাইনের সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া এবং লাইন লম্বা করে দেওয়া হচ্ছে। যানজট যাতে এড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশপাশে যাতে যানজট না থাকে, সে জন্য এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ, র্যাব, আর্মি, যৌথ বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় মিটিং করা হয়েছে। যানজট এড়াতে ট্রাফিক পুলিশ, র্যাব দর্শনার্থীর নিরাপত্তায় সমন্বয় মিটিং করা হয়েছে।
চিড়িয়াখানায় প্রবেশের টিকিটের মূল ৫০ টাকা। দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর টিকিট লাগবে না। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী এবং প্রতিবন্ধীর সঙ্গে যিনি অ্যাটেনডেন্ট থাকবেন, তার টিকিট লাগবে না।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ভেতরের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। রং করা হয়েছে। পতাকা বসানো হয়েছে। নিষ্ক্রিয় সিসি ক্যামেরাগুলো সক্রিয় করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা কোন দিক থেকে কোন দিকে যাবেন, সেই নির্দেশনার বোর্ডগুলোও যেখানে যেখানে দরকার, বসানো হচ্ছে।
চিড়িয়াখানার ভেতরে বাইরের কোনো খাবার পাওয়া যায় না। খাবার বিক্রি করে শুধু পর্যটন করপোরেশন। আগে দুটি জায়গা খাবার বিক্রি করা হতো। গত বছর পর্যটন করপোরেশনের দুটি রেস্তোরাঁর আওতায় দুটি বিক্রয়কেন্দ্র বাড়ানো হয়। এবার আরেকটি অস্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি বসানো হবে জিরাফের খাঁচার বিপরীত পাশে।
জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘পানি বা পানীয় জাতীয় খাবার একটি বড় বিষয়। এগুলো খুব দরকার পড়ে। পানি বা পানীয় জাতীয় খাবারের জন্য দর্শনার্থীদের যাতে সমস্যায় পড়তে না হয়, সেজন্য অস্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র থাকবে। ঈদের দিন থেকে শুরু করে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত এটি থাকবে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের সময় দর্শনার্থীর ভিড় থাকায় প্রাণীদের ওপর খুব ধকল যায়। সেই ধকল যাতে মোকাবিলা করতে পারে সে জন্য প্রাণীগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী ভিটামিন ও মিনারেলস দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত ঠাণ্ডা পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
চিড়িয়াখানা ছাড়া হাতিরঝিল, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ধানমন্ডি লেক, জিয়া উদ্যান, বোটানিক্যাল গার্ডেন, শ্যামলী শিশু মেলাসহ বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে দর্শনার্থীর ভিড় জমে। ঈদের এসব জায়গায় অন্য সময়ের তুলনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হবে বলে জানা গেছে।