পবিত্র ঈদুল আজহা এলে সাধারণত মসলার চাহিদা বাড়ে। বিভিন্ন মসলা উপকরণের মধ্যে বাজারে সব সময় এলাচের বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকতে দেখা যায়। তবে ঈদুল আজহার মাস ঘনিয়ে এলেও পাইকারি বাজারে এবার মসলাটির দামে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে এলাচের দাম কেজিতে কমেছে ২০০ টাকা।
তবে এর প্রভাব পড়েনি খুচরা বাজারে। উল্টো খুচরা পর্যায়ে মসলাটি কিনতে সাধারণ ক্রেতারা হিমশিম খাচ্ছেন। তারা জানিয়েছেন, ভোক্তাদের খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কেনাকাটা করতে হয়। সরকারের উচিত সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া। অন্যদিকে ভোক্তার অধিকার নিয়ে কাজ করা এক অধিকারকর্মী বলছেন, ঈদ এলে অসাধু ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খাতুনগঞ্জে সর্বশেষ কিছুটা কম দামে এলাচ বিক্রি হয় গত বছরের (২০২৪ সাল) নভেম্বরে। সে সময় প্রতি কেজি এলাচ ৩ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়। ওই বছরের ডিসেম্বর এবং চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে দাম বেড়ে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হয় ৪ হাজার ১৫০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৪৫০ টাকায়। তবে ছয় মাস পর বর্তমানে দাম কমে পণ্যটি কেজিপ্রতি ৪ হাজার ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সপ্তাহখানেক আগেও খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হয়েছিল ৪ হাজার ২৭০ টাকায়। কিছু কিছু দোকানে ৪ হাজার ৩০০ টাকা চাইতেও দেখা গেছে। বর্তমানে কেজিপ্রতি ২০০ টাকা কমে এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৭০ টাকায়।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে এলাচসহ অন্যান্য মসলাজাতীয় পণ্যের আমদানি ও সরবরাহ বেড়েছে। তার ওপর খাতুনগঞ্জে বেচাবিক্রিও কম। এ কারণে এলাচসহ সব ধরনের মসলার দাম নিম্নমুখী। পণ্যটির দাম আরও কমে যাবে বলে জানিয়েছেন তারা।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘কোনো পণ্যের সরবরাহ যখন বেশি থাকে তখন দামটা কমে যায়। বর্তমানে এলাচসহ অন্যান্য মসলাপণ্য, চিনি, চালসহ অধিকাংশ ভোগ্যপণ্যের দাম কমতির দিকে রয়েছে। সে হিসেবে আমাদের এখানে বেচাবিক্রি বাড়েনি। ঈদের সময় ঘনিয়ে আসছে। আশা করছি সামনে কেনাবেচা বাড়বে।’
জানা গেছে, খাদ্যপণ্য ছাড়াও ওষুধ, কনজ্যুমার পণ্য উৎপাদনে এলাচের ব্যবহার হয়। গুয়েতেমালা, ভারত, তানজানিয়া, শ্রীলঙ্কা, লাওস, ভিয়েতনাম, পাপুয়া নিউগিনি, নেপাল, থাইল্যান্ড, হন্ডুরাস, ইন্দোনেশিয়া ও ভুটানে এলাচ উৎপাদন হয়। তবে গুয়েতেমালা ও ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি এলাচ বাংলাদেশে আমদানি হয়।
চলতি অর্থবছরের প্রতিটি মাসেই এলাচ আমদানি হয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্র। দপ্তরটির তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই মাসে ৪১৮ টন, আগস্টে ২২৭ টন, সেপ্টেম্বরে ২৩৯ টন, অক্টোবরে ১৩০ টন, নভেম্বরে ১০০ টন, ডিসেম্বরে ৭০ টন, জানুয়ারিতে ১৫ টন, ফেব্রুয়ারিতে ৮০ টন এবং মার্চ ও এপ্রিল মিলে ৩৩৫ টন এলাচ আমদানি হয়েছে।
তবে পাইকারি বাজারে দাম কমার প্রভাব পড়েনি খুচরা বাজারে। উল্টো মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি এলাচে ২০০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে খুচরা দোকানগুলোতে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮০০ টাকায়। তবে দাম বাড়ার উপযুক্ত কারণ জানাতে পারেননি খুচরা ব্যবসায়ীরা।
নগরের পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. জোবায়ের খবরের কাগজকে বলেন, ‘১০০ গ্রাম এলাচ কিনতে গুনতে হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকা। ভয়াবহ অবস্থা। সামনে ঈদুল আজহা আসছে। ভোক্তাদের কেনাকাটা করতে হয় খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। কাজেই সরকারের উচিত মসলাসহ সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া। এতে করে খুচরা ব্যবসায়ীরা বাড়তি অর্থ আদায় করার সুযোগ পাবে না। পাশাপাশি খুচরা পর্যায়ে বাজার তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা দরকার।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা অনেক সময় ঈদ ঘনিয়ে এলে নানা অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি অনেক অসাধু ব্যবসায়ী হলুদ-মরিচসহ অন্যান্য গুঁড়া মসলার সঙ্গে কাঠের গুঁড়া বা রং মিশিয়ে বিক্রি করেন। কোরবানির ঈদের আর বেশি সময় নেই। কাজেই জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।’