প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি ৯৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। অথচ বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ২৬টি অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে অডিট অধিদপ্তর। টাকার অঙ্কে অনিয়মের পরিমাণ ১০ হাজার ৪৭৯ কোটি ১৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।
সম্প্রতি ‘যমুনা রেলসেতু নির্মাণ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন শেষ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এই প্রকল্পের হিসাব-সম্পর্কিত বিষয়ে স্পেশাল অডিট ইন্সপেকশন (২০২৪-২৫ অর্থবছর) প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।
দরপত্র দলিলের শর্ত ভঙ্গের কারণে সেটা বাতিল না করে ইউনিট রেট বাড়িয়ে অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ, নিম্নমানের স্টিলসামগ্রীর ব্যবহার, রেললাইনে ডাউন গ্রেডের পাথর ব্যবহার, ঠিকাদারের বিল থেকে অগ্রিম আয়কর কর্তন না করা, ডিপিপিতে অর্থের সংস্থান না থাকলেও অনুমতি ছাড়াই ৩০টি গাড়ি ক্রয়, ঠিকাদারের কাছ থেকে অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম মূসক আদায় না করে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বকেয়া পরিশোধ, এক প্যাকেজের কাজ অন্য প্যাকেজে দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, মূল চুক্তিতে না থাকলেও নন-টেন্ডার কাজ দেখিয়ে মূল্য পরিশোধ, নির্দিষ্ট খাতে অর্থ বরাদ্দ না থাকলেও অন্য নামে অর্থ পরিশোধ, একই কাজে দুবার বিল পরিশোধ, নির্দিষ্ট ড্রইং ও ডিজাইনের বাইরে কাজ করলেও তার বিল পরিশোধসহ এমন ২৬টি গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা চিহ্নিত করেছে অডিট কর্তৃপক্ষ।
রেল সূত্র জানায়, যৌথভাবে বাংলাদেশ সরকার এবং জাপানের জাইকার আর্থিক ঋণের মাধ্যমে এই প্রকল্পের অর্থায়ন করা হয়। এর মধ্যে জাইকার ঋণ (সংশোধিত) ১২ হাজার ১৪৯ কোটি ১৯ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। জিওবি অর্থায়ন (সংশোধিত) রয়েছে ৪ হাজার ৬৩১ কোটি ৭৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।
দেশের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে যাত্রীসহ দ্রুত পণ্য পরিবহনে সাশ্রয়ী ও নিরাপদ রেল যোগাযোগের স্বার্থে এই প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। যমুনা নদীর ওপর ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ডুয়েলগেজ ট্র্যাকের ডাবল লাইনের নতুন রেলসেতু নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে। ২০২০ সালের মার্চে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর শুরু হয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ।
প্রথম অবস্থায় এই প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ২০২৩ সাল পর্যন্ত। তবে ইতোমধ্যে বিশ্বে (২০২০-২১ সাল) কোভিড মহামারির প্রাদুর্ভাব হওয়ায় প্রকল্পের স্বাভাবিক কাজে গতি কমে যায়। ফলে প্রকল্প মেয়াদ সংশোধন করে নতুন মেয়াদ ধরা হয় ২০২৫ সাল পর্যন্ত। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ১৮ মার্চ সেতুতে রেল চলাচল উদ্বোধন করা হয়।
‘যমুনা রেলসেতু’ প্রকল্প বাস্তবায়নকালে বেশ কিছু গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তরের ‘স্পেশাল অডিট ইন্সপেকশন’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকল্পের আর্থিক মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। তা ছাড়া প্রকল্পে সরকারি ক্রয় নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে অডিট প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়, সেতু নির্মাণে একটি মাত্র পদ্ধতিকে নির্মাণকাজে গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া কাজের বিল পরিশোধে নন-কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট (এনসিআর) প্রতিবেদন অনুযায়ী যথাসময়ে নির্মিত কাজের ত্রুটিগুলো সংশোধন না করায় প্রকল্পের কাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপন করেছে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তর।
প্রকল্পের আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে অডিট অধিদপ্তরের প্রতিবেদন প্রসঙ্গে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) ও যমুনা রেলসেতু নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রতিবছরই নিয়ম অনুযায়ী অডিট প্রতিবেদন তৈরি হয়। এখানে অডিট অধিদপ্তর থেকে গত পাঁচ বছরের একটি স্পেশাল অডিট দল গঠন করে পাঠানো হয়েছিল। দলটি সেতু প্রকল্পের কাগজপত্র দেখেছে। কিন্তু আমার ধারণা, তারা অনেক ডকুমেন্ট ঠিকমতো না দেখে এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রকল্প কাজ বাস্তবায়নসংক্রান্ত প্রক্রিয়াগুলো অনুধাবন না করেই বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেছে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন কাগজপত্র দিয়ে জবাব দিয়েছিলাম। তার পরও সংশ্লিষ্ট অডিট দল অনেক দিন তাদের কাছে এসব কাগজপত্র স্টাডি করেছে।
পরে এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো একসময় বৈঠক করে আরও বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা হবে এবং আমরা যথাযথ জবাব দেব, এমন একটা সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু তাদের সঙ্গে বৈঠকটি বা আলোচনাটি আর হয়নি। এরপরই তারা তাদের অডিট প্রতিবেদনটি পাঠিয়ে দিয়েছে। প্রমাণসহ এর জবাব আমরা তৈরি করেছি। এরই মধ্যে কিছু জবাব তাদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। আর যা কিছু অবশিষ্ট আছে তার জবাবও দ্রুত পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আশা করছি, প্রমাণসহ সব কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই করলে অডিট অধিদপ্তর সন্তুষ্ট হবে এবং অধিকাংশ আপত্তি নিষ্পত্তি হবে।’
প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জিত হয়েছে কি না তা মূল্যায়নে প্রকল্পের প্রধান কার্যালয়ের প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম (Who), প্রতি প্যাকেজের আওতায় সব নির্মাণ কার্যক্রম (What, Where), নিরীক্ষার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময়কাল (When) বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে অডিট অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে কাজের বিভিন্ন অংশের অনিয়ম সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রকল্পের শর্ত লঙ্ঘন হওয়া সত্ত্বেও দরপত্র বাতিল না করে কাজের পরিমাণ কমিয়ে ইউনিট রেট বৃদ্ধি করে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে অতিরিক্ত মূল্যে চুক্তি করে বিল পরিশোধ করায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ৭২৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৫৬৭ টাকা। কান্ট্রি অব অরিজিনের শর্ত ভঙ্গ করে জাপান/ভিয়েতনামের পরিবর্তে মায়ানমার থেকে নিম্নমানের স্টিল গার্ডার ট্রাস ব্রিজ আমদানি করায় ক্ষতি হয় ১ হাজার ১৪৪ কোটি ৫১ লাখ ৮০ হাজার ৫৪৪ টাকা, ব্রিজ নির্মাণে অপ্রয়োজনীয়ভাবে এসপিএসপি (স্টিল পাইপ শিট পাইল) প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৭ হাজার ৪৬ কোটি ৮৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকার।
তা ছাড়া স্পেসিফিকেশন পরিবর্তনের মাধ্যমে রেলওয়ে ট্র্যাকে (রেললাইন) ৬০ মিমি ডাউন গ্রেডের পাথর (ব্যালাস্ট) সরবরাহ না করে ৬০ মিমির বেশি অর্থাৎ ৯০ মিমি পর্যন্ত সাইজের নিম্নমানের পাথর সরবরাহ করলেও অনিয়ম করে ঠিকাদারকে অর্থ (বিল) পরিশোধ করা হয়েছে। এতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ৪৫ কোটি ৫৬ লাখ ৯৯ হাজার ১০৬ টাকা। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর অগ্রিম আয়কর প্রযোজ্য না হলেও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের আদায় করা অগ্রিম আয়কর ঠিকাদারের বিল থেকে কর্তন না করায় প্রকল্পের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৮১ কোটি ৯৩ লাখ ৯৮ হাজার ২০৮ টাকা। ডিপিপিতে প্রভিশন না থাকা সত্ত্বেও এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া ঠিকাদারের মাধ্যমে ৩০টি গাড়ি ক্রয় করায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ২৮ কোটি ৪১ লাখ ৯৩ হাজার ১৩৫ টাকা। ঠিকাদারের রক্ষণযোগ্য অর্থ (রিটেইনশন মানি) থেকে ভ্যাট/এইটি কর্তন না করায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৭২ কোটি ৭৫ লাখ ৭৫ হাজার ৪৪২ টাকা। স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত নিম্নমানের স্টিল গার্ডার ট্রাস দিয়ে ব্রিজের কাজ করায় সিডি ভ্যাট বাবদ সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৫ কোটি ১৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯২ টাকা। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের (কনসালটেন্ট) ত্রুটিপূর্ণ নকশা দিয়ে কাজ করা এবং এ জন্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৩৯ টাকা। বিদেশ থেকে মালামাল আমদানির সময় আমদানি শুল্ক বাবদ ঠিকাদরকে অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম মূসক পরিশোধ করতে হয়। অথচ এ ক্ষেত্রে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এই আয়কর ও মূসক পরিশোধ করে। ফলে এ ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ ৫৪ হাজার ৯৩ টাকা। পিএস (প্রভিশনাল সাম) আইটেমের ওপর (প্রাইস অ্যাডজাসমেন্ট) মূল্য সমন্বয় প্রদান করায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৭ কোটি ৬৯ লাখ ২৬ হাজার ৫৭০ টাকা। বিল অব কোয়ান্টিটি অপেক্ষা অতিরিক্ত পরিমাণ এসপিএসপি আমদানি দেখিয়ে সিডি ভ্যাট পরিশোধ করায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১০৬ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার ৯৮৫ টাকা। ডব্লিউডি-১ প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত কাজ অনিয়মের মাধ্যমে ভেরিয়েশন করে ডব্লিউডি-২ প্যাকেজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৪৫ লাখ টাকা।
মূল চুক্তিতে না থাকলেও নন-টেন্ডার আইটেম (মাটি ভরাট) মাটির কাজ দেখিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করায় ৮ কোটি ৭৪ লাখ ৪৩ হাজার ২৫৮ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ভ্যাট, আইটির ওপর ওভার হেড পরিশোধ (প্রদান) করায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি ২২ লাখ ১০ হাজার ৮০৯ টাকা। ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ডের বিপরীতে কোনো বরাদ্দ না থাকলেও একই নামে অফিস সরঞ্জাম বাবদ বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৮৪ লাখ টাকা। এটাও আর্থিক ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ‘স্পেশাল অডিট ইন্সপেকশন’ প্রতিবেদনে।
তা ছাড়া একই আইটেমের বিপরীতে দুবার বিল পরিশোধ করা হয়েছে উল্লেখ করে এই খাতে ১ কোটি ৮০ লাখ ২৫ হাজার ২২৭ টাকার আর্থিক ক্ষতির কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। কনসালটেন্ট দিয়ে সার্ভে ও নকশা করার শর্ত থাকলেও এ ক্ষেত্রে আলাদাভাবে সাব-কনসালটেন্ট দিয়ে এই কাজগুলো করে অনিয়মিতভাবে বিল পরিশোধ করেছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। এই অনিয়মের কারণে এ খাতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৩ কোটি ৯৮ লাখ ৬৬ হাজার ৫৩৫ টাকা। জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের (শিপিং) নামে সোনালী ব্যাংকের দর্শনা শাখার হিসাবে অব্যয়িত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না করায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৬২ কোটি ৭৫ লাখ ৭১ হাজার ৫০৩ টাকা। নির্ধারিত জাহাজ দিয়ে মালামাল খালাস না করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে মালামাল খালাস করায় রেলওয়ের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৫ কোটি ৯৫ লাখ ৪৪ হাজার ২২৩ টাকা। নির্বাচিত ড্রয়িং ও ডিজাইনবহির্ভূতভাবে কাজ করা সত্ত্বেও চুক্তির বাইরে ঠিকাদারকে অনিয়মের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৬২ কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। এটিও সরকারের বড় আর্থিক ক্ষতি হিসেবে অডিট অধিদপ্তর উল্লেখ করেছে প্রতিবেদনে। প্রাপ্যতা না থাকলেও অনিয়মের মাধ্যমে কনসালটেন্টদের অর্থ পরিশোধের কারণে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৮ কোটি ৫০ লাখ ৭১ হাজার ৫৫৯ টাকা। সোর্স ছাড়া পাথর ব্যবহার করা সত্ত্বেও চুক্তি ছাড়াই অনিয়মের মাধ্যমে ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করায় ক্ষতি হয়েছে ১০ কোটি ৭ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫৫ টাকা। মূল নকশা পরিবর্তন হলেও ভেরিয়েশন অনুমোদন না করে ঠিকাদারকে অনিয়মের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৪৪ কোটি ১৮ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫৬ টাকা, যা সরকারি অর্থের চরম অপব্যবহার বা ক্ষতি। এ ছাড়া চুক্তি অনুযায়ী দেশীয় উৎস্য থেকে সংগ্রহযোগ্য আইটেমের বিপরীতে ঠিকাদারকে সিডি-ভ্যাট বাবদ পরিশোধ করায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৩০ লাখ ৪৬ হাজার ১২৮ টাকা। এ ছাড়া রেল চলাচলের সময় সেতুর কম্পন অনমিত মাত্রা অপেক্ষা বেশি হওয়ায় সেতুর গুণগত মান ও এর স্থায়িত্ব নিয়েও প্রতিবেদনে প্রশ্ন তুলেছে বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তর।