নির্বাচন কমিশনের কর্মচারী নিয়োগবিধি, ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্সের (এনএসআই) ৯৫টি পদ সৃষ্টি এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের কর্মচারী নিয়োগবিধি অনুমোদনের প্রস্তাব আজ সচিব কমিটির এক সভায় পাস হতে পারে।
প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির আজকের সভায় সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ।
সভায় দুটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর একটি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জন্য রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে সিনিয়র সহকারী সচিব/সহকারী সচিবের চারটি পদ সৃষ্টি। অপরটি নির্বাচন কমিশনের কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-২০২৩-এর সংশোধনী।
অনুমোদনের জন্য সচিব কমিটিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ মোট ১৬টি প্রস্তাব দিয়েছে। এসব প্রস্তাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে ৩১০টি পদ সৃজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও যে প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে সেগুলো হলো- নাবিক ও প্রবাসী কল্যাণ পরিদপ্তরের নাম পরিবর্তন করে নাবিক কল্যাণ পরিদপ্তর করা, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদটি গ্রেড-১-এ উন্নীত করা, পেট্রোবাংলার সাংগঠনিক কাঠামোতে যেসব পদনাম ইংরেজিতে আছে সেসব বাংলায় অনুবাদ/পরিবর্তন করা, নির্বাচন কমিশন কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালার সংশোধনী প্রস্তাব, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি, নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা-বিধান এবং কর্মের অন্যান্য শর্তাবলি) বিধিমালা-২০২৫, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর (কর্মচারী) বিধিমালা-২০২৫ অনুমোদনসহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ সংশোধনী।
ইসির পাঠানো দুটি প্রস্তাবের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ইসি সচিবালয়ের আওতাধীন মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ের বিভিন্ন পদে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি নিয়ে ৫৫টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। ইসির কাজকে গতিশীল করতে বিদ্যমান নিয়োগ বিধিমালায় (ক) মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞ কর্মচারীদের ১০ গ্রেডে পদোন্নতির সুযোগ বাড়িয়ে সহকারী উপজেলা ও সহকারী থানা নির্বাচন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি ও সরাসরি নিয়োগের আনুপাতিক শতকরা হার ৪০ ভাগ ও ৬০ ভাগের পরিবর্তে যথাক্রমে ৫০ ভাগ ও ৫০ ভাগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। (খ) কম্পিউটার অপারেটর ও ডেটা এন্ট্রি অপারেটররা সরকারি প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার পার্সোনেল নিয়োগ বিধিমালা-২০১৯-এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত এবং সুবিধাপ্রাপ্ত হওয়ায় একজন কর্মচারী একই সময়ে ভিন্ন ভিন্ন দুটি বিধিমালার সুযোগ নিতে পারেন না। তাই প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পদের ফিডার পদ থেকে কম্পিউটার অপারেটর ও ডেটা এন্ট্রি অপারেটর পদ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। (গ) বাংলাদেশ সচিবালয় (ক্যাডারবহির্ভূত গেজেটেড কর্মকর্তা এবং নন-গেজেটেড কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা-২০১৪ (সংশোধিত ২০২০) বিবেচনায় নিয়ে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে শতকরা ৩০ ভাগের পরিবর্তে ৪০ ভাগ এবং বিভাগীয় প্রার্থীর ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৩৫ বছর পর্যন্ত শিথিল করা ও দপ্তরি পদে পদোন্নতির যোগ্যতা অন্যূন পাঁচ বছরের পরিবর্তে তিন বছর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। (ঘ) বিদ্যমান নিয়োগবিধিতে নিরাপত্তা প্রহরীর কোনো পদোন্নতির সুযোগ না থাকায় দপ্তরি পদের ফিডার পদ হিসেবে নিরাপত্তা প্রহরীর পদ অন্তর্ভুক্ত করা। (ঙ) সরাসরি নিয়োগের বয়সসীমা ৩০-এর স্থলে ৩২ বছর করা এবং (চ) ১৩-২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে পরীক্ষা পদ্ধতি হিসেবে নিয়োগ বিধিমালায় তফসিল-৫.৬.৭৬৮ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব সংশোধনীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগবিধি পরীক্ষণসংক্রান্ত উপকমিটির সুপারিশ রয়েছে।
এনএসআইয়ের প্রস্তাবের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে- জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের জন্য রাজস্ব খাতে অতিরিক্ত পরিচালক পদ ৩০টি, যুগ্ম পরিচালক পদ ২৫টি এবং সহকারী পরিচালকের ৪০টি পদসহ মোট ৯৫টি পদ সৃজনের প্রস্তাব অনুমোদন প্রয়োজন। এনএসআই দেশের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং নিরাপত্তাবিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। ৯৫টি পদ সৃষ্টি হলে ওই সব কার্যক্রম আরও সহজ ও গতিশীল হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরে নতুনভাবে সৃষ্ট পদসমূহে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর (কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫’ অনুমোদন প্রয়োজন। এর ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম আরও সহজ, গতিশীল ও কার্যকর হবে।
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি, নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মের অন্যান্য শর্তাবলি) বিধিমালা-২০২৫ অনুমোদনের প্রস্তাব দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন আইন ও বিচার বিভাগ। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠনসহ এই সার্ভিসে নিযুক্ত ব্যক্তিদের কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি, নিয়ন্ত্রণ এবং কাজের অন্য শর্তাবলি সম্পর্কে বিধান প্রণয়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই আলোকে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি, নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা-বিধান এবং কর্মের অন্যান্য শর্তাবলি) বিধিমালা-২০০৭’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এরই মধ্যে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা জারি হওয়ায় বিদ্যমান বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি, নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা-বিধান এবং কর্মের অন্যান্য শর্তাবলি) বিধিমালা-২০০৭ ‘পরিমার্জন করা প্রয়োজন রয়েছে বলে আইন ও বিচার বিভাগের প্রস্তাবে বলা হয়েছে। তাই সুপ্রিম কোর্টের সম্মতি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগবিধি পরীক্ষণসংক্রান্ত উপকমিটির সুপারিশসহ প্রস্তাবিত বিধিমালার খসড়া অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।