রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ১০ মাস বয়সী শিশু মাহাজাবি। গত সপ্তাহে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় নেওয়া হয়েছিল আইসিইউতে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
শনিবার (৯ মে) সকাল ১০টার দিকে মাহজাবি ঢলে পড়ে মৃত্যুর কোলে। মা শিউলি আক্তারের গগনবিদারী চিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ।
শিশু মাহজাবিকে নিয়ে শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এ বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে, হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৫২টি শিশুর মৃত্যু হলো।
হামের এমন প্রাদুর্ভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে দিকে দিকে। হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আতঙ্কিত অভিভাবক ছুটে বেড়াচ্ছেন এ হাসপাতাল থেকে ওই হাসপাতালে। আর্থিক সংগতি থাকলেও এনআইসিউয়ের অভাবে আক্রান্ত শিশুরা মারা যাচ্ছে। দেশের টিকাদান কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা ও হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক। যদি ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা না যায়, তবে এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করা কঠিন।
হামে শিশু মৃত্যুর জন্য স্বাস্থ্য খাতে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকাকে সরাসরি দায়ী করেছেন ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্যাভি, বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ ও প্রতিনিধিরা।
শনিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিটের রিপোর্টারদের সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, কেন শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে এবং কোথাও কোনো ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা সম্প্রসারণ কর্মসূচির তথ্য পায়নি দাতা সংস্থা ইউনিসেফ। এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি ‘আফটার অ্যাকশন রিভিউ’ করবে। ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে।
হাসপাতালে কাতরাচ্ছে ৩ হাজার ৮৮৫ জন শিশু
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৪৭ হাজার ৬৫৬ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ৬ হাজার ৯৭৯ জনের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৩ হাজার ৬৩১টি শিশু। তাদের মধ্যে ২৯ হাজার ৭৪৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও ৩ হাজার ৮৮৫ জন শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে, শনিবার পর্যন্ত মারা গেছে ৩৫২ জন।
হামের টিকায় গাফিলতি: তদন্তের ঘোষণা স্বাস্থ্য সচিবের
দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং টিকাদান কার্যক্রমে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, কেন শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে এবং কোথাও কোনো ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গোলটেবিল বৈঠকে তিনি জানান, ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এর প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।
বক্তব্যে সচিব জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি টিকার সংস্থান নিয়ে কাজ শুরু করেন। তিনি বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অব্যবহৃত ৬০৪ কোটি টাকা দিয়ে ইউনিসেফের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্চের শেষে আমরা বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শ নিয়েছি এবং ৫ এপ্রিল থেকে দেশের অতি ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি জেলার ৩১টি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার কথাও জানান তিনি।
সচিব আরও বলেন, ইতোমধ্যে দেশে পর্যাপ্ত টিকা চলে এসেছে। প্রায় পৌনে দুই কোটি টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ চলছে। তবে বরিশাল ও সিলেট বিভাগে টিকাদানের হার তুলনামূলক কম হওয়ায় সেখানে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সিটি করপোরেশন এলাকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইস্যুতে সচিব বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে থাকা কেন্দ্রগুলোকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য ইউনিটে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এতে বড় হাসপাতালগুলোর ওপর প্রায় ৪০ শতাংশ চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেই বলে তিনি পরিষ্কার জানান।
টিকাদান কার্যক্রমে যুক্ত কর্মীদের বেতন-ভাতাসংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসনের আশ্বাস দিয়ে সচিব বলেন, ‘আমরা কর্মীদের ডেকে কথা বলেছি। তাদের বকেয়া পাওনা ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নতুন করে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের জন্য একটি কমিটি কাজ করছে।’
বৈঠকে সচিব নিজস্ব ল্যাবে আন্তর্জাতিক মানের ভ্যাকসিন উৎপাদনের (লেভেল-৩ সক্ষমতা অর্জন) লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জে একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথাও জানান।
আক্রান্তদের ৬৫ শতাংশই কোনো টিকা পায়নি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
দেশে গত কয়েক বছরে বিশালসংখ্যক শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যাওয়ায় বর্তমানে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান তুলে ধরে গোলটেবিল আলোচনার বিশেষ অতিথি প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৮৫ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের কম। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্তদের ৬৫ শতাংশই কোনো টিকা পায়নি এবং ২১ শতাংশ পেয়েছে মাত্র এক ডোজ।
অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ২০২০ সালের পর বড় ধরনের কোনো জাতীয় ক্যাম্পেইন না হওয়ায় টিকার বাইরে থাকা শিশুর সংখ্যা প্রতিবছর বেড়েছে। যখন এই সংখ্যা এক বছরে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তখনই হামের মতো সংক্রামক ব্যাধি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে।
রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালেও হামের রোগীদের জন্য বিশেষায়িত শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, ‘আমরা আইইডিসিআরকে ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং করার অনুরোধ জানিয়েছি। গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সামনের দিনগুলোতে গাইডলাইন আরও উন্নত করা হবে।’
মাঠপর্যায়ে টিকা কর্মসূচি ‘কার্যত অচল’
দেশে পর্যাপ্ত টিকার মজুত থাকা সত্ত্বেও পরিবহন ব্যয় ও অব্যবস্থাপনার কারণে তা মাঠপর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আব্দুস সবুর। বিশ্বব্যাংকের সাবেক এই পরামর্শক বলেন, ‘২০২৫ সালে আমরা জানতে পারি যে মাঠপর্যায়ে টিকা কর্মসূচি কার্যত অচল। সদর দপ্তরে টিকা থাকলেও জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে মানুষ টিকা পাচ্ছে না। এর মূল কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেছে, সেক্টর প্রোগ্রাম ডিসকন্টিনিউ (বন্ধ) করার ফলে অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) থেকে তেলের টাকা আসা বন্ধ হয়ে গেছে।’
তিনি আরও জানান, কোভিড মহামারির সময় ইউএসএআইডির দেওয়া ফ্রিজিং ভ্যানগুলো মহাখালীতে অলস বসে আছে। বাজেট বরাদ্দের জটিলতায় জ্বালানি খরচ মেটানো যাচ্ছে না বলে সেগুলো জেলা অভিমুখে যাচ্ছে না।
টিকা বিতরণের ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের ‘পোর্টার’ বা নিম্ন আয়ের কর্মীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে ডা. আব্দুস সবুর বলেন, ‘যারা একেবারে দুর্গম এলাকায় টিকা পৌঁছে দেয়, তারা দীর্ঘ ২০-২৫ বছর ধরে কাজ করলেও তাদের চাকরি স্থায়ী করা হচ্ছে না। সেক্টর প্রোগ্রাম বন্ধ হওয়ায় তাদের বেতন-ভাতাও বন্ধ। এসব কর্মীর গলার স্বর উঁচুতে পৌঁছায় না বলে তারা অবহেলার শিকার হচ্ছেন।’
সরকার ঘোষিত এক লাখ নতুন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনায় মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞ পোর্টারদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান অধ্যাপক সবুর। তিনি মনে করেন, এদের স্থায়ী করা হলে টিকাদান কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।
১ কোটি ৭৬ লাখ শিশু টিকার আওতায়, শহরে বাদ পড়ার হার বেশি: ইউনিসেফ
দেশের চলমান হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন ও রুটিন টিকাদান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় ইউনিসেফ প্রতিনিধি সংস্থাটির হেলথ ম্যানেজার রিয়াদ মাহমুদ দেন ভয়াবহ তথ্য। তিনি জানান, চলমান বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৭৬ লাখের বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি বলছে, লক্ষ্যমাত্রার ৯৮ শতাংশ অর্জিত হলেও শহর এলাকায় এখনো ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে।
রিয়াদ মাহমুদ জানান, এবারের ক্যাম্পেইনে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১ কোটি ৭৬ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা একটি বড় অর্জন। তবে মাঠপর্যায়ের মনিটরিং ডেটা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শহর এলাকায় বিশেষ করে বস্তি ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ শিশু এখনো টিকা পায়নি। অন্যদিকে গ্রামে এই বাদ পড়ার হার প্রায় ১৫ শতাংশ।’
ক্যাম্পেইনে সাফল্য এলেও রুটিন টিকাদানে ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ। প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ করেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে টিকাদান কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য তাদের দেওয়া হয়নি। সংস্থাটির তথ্যমতে, রুটিন টিকাদানে হামের প্রথম ডোজের কাভারেজ ৮৬ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজে তা ৮১ শতাংশে নেমে আসে। রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ‘রুটিন টিকার এই ১৯ শতাংশ গ্যাপ পূরণ না হলে বারবার ক্যাম্পেইন করেও শিশুদের মৃত্যু ঠেকানো যাবে না।’
রিয়াদ মাহমুদ সতর্ক করে বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে অন্তত ৯৫ শতাংশ হার্ড ইমিউনিটি নিশ্চিত করতে হবে। যারা এখনো টিকা নেয়নি, তাদের আগামী ২০ মের মধ্যে টিকা কেন্দ্রে আনার অনুরোধ জানান তিনি। আগে টিকা দেওয়া থাকলেও ক্যাম্পেইনের এই বাড়তি ডোজ নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশ থেকে হাম কখনো নির্মূল হয়নি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
এবারের হামের প্রাদুর্ভাবের আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা একাধিকবার দেশ থেকে হাম নির্মূলের দাবি তোলেন। কিন্তু সেই দাবি নাকচ করে দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার (ইমিউনাইজেশন) ডা. চিরঞ্জিত দাস আলোচনার টেবিলে জানান, বাংলাদেশে হাম কখনোই পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। তিনি বলেন, “আমাদের ভাইরোলজিস্টদের তথ্য অনুযায়ী এই ভাইরাসটি আমাদের দেশের মধ্যেই সার্কুলেশনে ছিল। কোনো নির্দিষ্ট এলাকা বা ক্যাম্প থেকে এটি নতুন করে ছড়িয়েছে–এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি বা ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ থাকার কারণে এটি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে।”
সঠিক সময়ে টিকা দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, টিকা দেওয়া এবং সঠিক সময়ে টিকা দেওয়ার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সময়মতো টিকা পাওয়া খুবই জরুরি। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে আগ্রহী করতে হবে যাতে তারা সচেতনভাবে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করে।
চলমান ক্যাম্পেইনগুলোতে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিচের কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের অনুরোধ জানান তিনি।
টিকাদানের কার্যকারিতা যাচাই করতে পরামর্শ
দেশের টিকাদান কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা ও হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইসিডিডিআরবির সাবেক গবেষক ও টিকা বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম এ বারি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বিশেষ ক্যাম্পেইন সাময়িক সুরক্ষা দিলেও টিকাদানের ‘মেরুদণ্ড’ বা রুটিন ইমিউনাইজেশন শক্তিশালী করা না গেলে শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
টিকার কার্যকারিতা নিয়ে ডা. বারি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তিনি জানান, টিকা দেওয়ার বয়সের ওপর এর কার্যকারিতা অনেকাংশেই নির্ভর করে। তিনি বলেন, ৬ থেকে ৯ মাস বয়সে টিকা দিলে মাত্র ৫০ শতাংশ শিশুর শরীরে প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। ৯ মাস বয়সে টিকা দিলে কার্যকারিতা বেড়ে হয় ৮৫ শতাংশ। ১২ মাস বয়সে টিকা দিলে কার্যকারিতা বেড়ে দাঁড়ায় ৯০ শতাংশে। ১৫ মাস বয়সে টিকা দিলে তা প্রায় ৯৩ শতাংশ কার্যকর হয়। উন্নত বিশ্বে ৪ থেকে ৬ বছর বয়সে দেওয়া টিকার কার্যকারিতা ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত হয়।
টিকাদানের মাধ্যমে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা সামষ্টিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অর্জনের কথা বলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ।
তিনি বলেন, কাগজে-কলমে টিকাদানের হার ১০০ বা ১৫০ শতাংশ দেখানো হলেও বাস্তবে এর কার্যকারিতা যাচাই করতে ‘কাভারেজ সার্ভে’ করা প্রয়োজন। বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে এই হার অন্তত ৯৫ শতাংশে উন্নীত করার পরামর্শ দেন তিনি।