শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট সিরিজ শেষ হতেই অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর থেকেই জল্পনা চলছে কে হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী টেস্ট অধিনায়ক? এখন পর্যন্ত বিসিবি থেকেও আসেনি কোনো ঘোষণা।
তবে এরমধ্যেই ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজে অধিনায়ক হতে নিজের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন অভিজ্ঞা বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাইজুল বলেন, ‘অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। দল যখন অধিনায়কের ওপর আস্থা রাখে, তখন ফলাফল ভালো হয়। যদি (নেতৃত্বের) সুযোগ আসে, আমি কেন না বলব? আমার অভিজ্ঞতা আছে, এমন কোনো দিক নেই যেটা আমার মধ্যে অনুপস্থিত।’
প্রস্তুতি থাকলেও অধিনায়কত্ব পেতেই হবে এমন কোনো চিন্তা নেই তাইজুলের মাঝে। সেটিও তিনি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ‘আমি বলছি না যে অধিনায়কত্ব চাই, তবে যদি দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেটা পালনে আমি প্রস্তুত।’
নিজের নেতৃত্ব না চাইলেও এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার জানিয়েছেন কেমন হওয়া উচিত নেতৃত্ব, ‘টেস্ট অধিনায়কত্ব কোনো গ্ল্যামারাস কিছু নয়। একজন অধিনায়কের দৃষ্টিভঙ্গি থাকা দরকার, সে কেমন দল চায়, দুই বছর পর দলকে কোথায় দেখতে চায় এই লক্ষ্য ঠিক করাই আসল।’
তিন সংস্করণে আলাদা তিন অধিনায়ক রাখার পক্ষে বিসিবি। নাজমুল হোসেন শান্তকে ওয়ানডে থেকে সরিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজকে অধিনায়ক করায় তিন সংস্করণে তিন অধিনায়ক অধ্যায় শুরু হয়ে গিয়েছিল ফের বাংলাদেশের। তবে সেটি দলের জন্য ভালোকিছু বয়ে আনবে না বলে মন্তব্য করে পদত্যাগ করেন শান্ত।
অনেকেই মিরাজকে নতুন টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে বিবেচনা করলেও, তেমনটা হতে যাচ্ছে না বলেই আভাস রয়েছে। তিন সংস্করণে তিন অধিনায়কই রাখার বিষয়টি চূড়ান্ত বলা চলে। তাইজুল ইসলামের ফর্মও কথা বলছে অধিনায়ক হওয়ার বিষয়টির প্রতি।
তাইজুলও বাস্তব দিকগুলো তুলে ধরেছেন সেই সাক্ষাৎকারে, ‘বয়স ও অভিজ্ঞতা, দুটোই এখন আমার পক্ষে কাজ করছে। ২০২১ সালের আগে দেশের বাইরে খুব বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পাইনি। তবে এখন অভিজ্ঞতা বাড়ছে, পারফরম্যান্সও উন্নত হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নতুন কেউ দলে এসেই পারফর্ম করবে, এটা কঠিন। সময় দিতে হবে। আলহামদুলিল্লাহ, আমি সেই সময় পেয়েছি এবং উন্নতিও করছি।’