বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডসের দ্বিপক্ষীয় লড়াইয়ের ইতিহাসে স্পষ্টভাবেই এগিয়ে টাইগাররা। পাঁচবারের মুখোমুখিতে চারবার জয় পেয়েছে বাংলাদেশ, হেরেছে মাত্র একবার। সেটিও ২০১২ সালে ডাচদের মাটিতে। এরপর টানা তিন ম্যাচে জয়ের ধারা গড়েছে বাংলাদেশ। আজ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন দল। ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা ৯টায়।
আসন্ন এশিয়া কাপের আগে এই সিরিজ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। স্বাগতিকরা ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চাইছে। তবু প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিচ্ছে না কেউ। বাংলাদেশ দলের নতুন হেড কোচ ফিল সিমন্স সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, প্রতিটি ম্যাচকে আন্তর্জাতিক লড়াই হিসেবেই দেখতে হবে। তার ভাষায়, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন দুর্বল দল বলে কিছু নেই। সবাই জেতার মতো ক্রিকেট খেলছে। তাই আমাদেরও মান ধরে রেখে সেরা খেলাটা খেলতে হবে।’
প্রস্তুতি ও কন্ডিশন
বাংলাদেশ শিবির সিলেটে অনুশীলন করেছে গত কয়েক দিন। আবহাওয়া ও কন্ডিশন নিয়ে সন্তুষ্ট কোচ সিমন্স। তার মতে, সিলেটের উইকেট মানসম্মত এবং প্র্যাকটিস উইকেটও ভালো। বৃষ্টির শঙ্কা থাকলেও কন্ডিশন আদর্শ বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। ম্যাচের দিন সন্ধ্যায় ডিউ ফ্যাক্টর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
টিম কম্বিনেশন নিয়ে ভাবনা
প্রথম ম্যাচের একাদশ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে বেশ কিছু জায়গায় প্রতিযোগিতা স্পষ্ট। বিশেষ করে ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডারদের জায়গায়। তানজিম হাসান সাকিব ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন দুজনই কোচের নজরে আছেন। সিমন্স জানিয়েছেন, তানজিম এখন দলে নাম্বার ওয়ান ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডার। তবে সাইফউদ্দিনও সুযোগ পেলে ভালো করে। দুজনই একে অপরকে চাপের মধ্যে রাখছে। এটিই দলের জন্য ইতিবাচক।
পাওয়ার হিটিং ও ডেথ ওভার চিন্তা
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মানেই পাওয়ার হিটিং। এ নিয়ে বাংলাদেশ দলে কাজ চলছে জুলিয়ানের অধীনে। সিমন্স মনে করেন, প্রাকৃতিক শক্তি যাদের আছে তারা দ্রুত উন্নতি করবে, আর বাকিদের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তন আসবে। ডেথ ওভারে বোলিং নিয়েও আশাবাদী তিনি। সাইফউদ্দিনের সামর্থ্যকে উল্লেখ করে সিমন্স বলেন, ‘ওর সব ধরনের দক্ষতা আছে, ডেথ ওভারে বোলিংয়ের দায়িত্বও সামলাতে পারবে।’
প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস
যদিও আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে অনেক নিচে (১৩তম), তারপরও নেদারল্যান্ডসকে হালকাভাবে নিচ্ছে না বাংলাদেশ। গত দুই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ডাচরা দারুণ লড়াই করেছে। পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলকে হারিয়ে দিয়েছে তারা। ফলে সিমন্সের মন্তব্য, তারা বিশ্বকাপে খেলেছে এবং ভালো করেছে। তাই ওদের হারাতে হলে আমাদের সঠিক ক্রিকেট খেলতে হবে।
সিরিজের গুরুত্ব
বাংলাদেশ ক্রিকেটের দৃষ্টিকোণ থেকে এই সিরিজ শুধু জয়-পরাজয়ের নয় বরং প্রস্তুতিরও মঞ্চ। এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে দল গঠনে স্থিতিশীলতা আনতে চাইছে টিম ম্যানেজমেন্ট। সিমন্স পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তার মূল লক্ষ্য হলো শ্রীলঙ্কা সফরে যেভাবে মান ধরে রাখা হয়েছিল, সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা।
আজকের ম্যাচে কী আশা
সিলেটের উইকেটে সাধারণত ব্যাটিং উপযোগী পরিবেশ থাকে। ফলে দর্শকরা রানপ্রবাহের খেলা দেখার অপেক্ষায়। লিটন দাস, তৌহিদ হৃদয়রা থাকবেন ব্যাটিং শক্তির ভরকেন্দ্র। অন্যদিকে বোলিংয়ে নজর থাকবে তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমানদের দিকে। নেদারল্যান্ডসও তাদের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ও অপ্রত্যাশিত বোলিং আক্রমণে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চাইবে।
সব মিলিয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচ থেকেই দারুণ লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ইতিহাস, ঘরের মাঠ ও বর্তমান প্রস্তুতির কারণে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও নেদারল্যান্ডসের চ্যালেঞ্জকে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। ফিল সিমন্সের ভাষায়, আমরা হারার কথা ভাবি না, আমরা ভাবি কীভাবে খেলব। যদি মান ধরে রাখতে পারি, আমরা জিতব।
আজকের সিলেটের ম্যাচে তাই বাংলাদেশের কাছে শুধু জয়ের প্রত্যাশাই নয় বরং ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পরীক্ষাও।
চঞ্চল/নিলয়/










