বিশ্বকাপের আঙিনায় প্যারাগুয়ে মানেই ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগ, শারীরিক ফুটবল আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার এক লড়াকু মানসিকতার প্রদর্শনী। লাতিন আমেরিকার এই ঐতিহ্যবাহী পরাশক্তি দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফিরছে এক বুক স্বপ্ন আর হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে। আর মাঠের লড়াইয়ে স্বপ্নসারথী হয়ে আছেন মিগুয়েল আলমিরন। ৩২ বছর বয়সী উইঙ্গার দলটির আক্রমণের নিউক্লিয়াস। গতিশীল, বেশ টেকনিক্যাল এবং অক্লান্ত পরিশ্রম করতে পারেন। নিউক্যাসল ইউনাইটেডে তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। সবচেয়ে বড় শক্তি হলো কাউন্টার অ্যাটাকে তার ক্ষিপ্র গতি। প্যারাগুয়ে বল পায়ে পেলে আলমিরন চোখের পলকে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ঢুকে যান। ২০১০ সালে প্যারাগুয়ে যখন শেষবার বিশ্বকাপ খেলেছিল, আলমিরনের বয়স তখন মাত্র ১৬ বছর। নিজের ঘরে টিভিতে বসে দেখা সেই সোনালি দলের স্মৃতি মনে করে দলটির সময়ের বড় তারকা বলেন, ‘দেশের হয়ে এই বিশাল মঞ্চে খেলাটা সব সময়ই এক পরম গর্বের... আপনি সব সময় এটারই স্বপ্ন দেখবেন।’
২০০৮ সালে স্বদেশি কেরো পোর্তোর যুব দল হয়ে সেখানেই সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরু ২০১৩ সালে। দুই বছর পর পাড়ি জমান আর্জেন্টাইন ক্লাব অ্যাটলেটিকো লানউসে। ২০১৬-২০১৯ পর্যন্ত মার্কিন মুলুকে আটলান্টা ইউনাইটেডের হয়ে ৬২ ম্যাচে করেন ২১ গোল। এরপরই শুরু নিউ ক্যাসলে তার স্বর্ণালি সময়। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটির হয়ে গত বছর পর্যন্ত খেলেছেন ১৮৬ ম্যাচ। করেছেন ২১ গোল। এরপর ফিরে যান আটলান্টা ইউনাইটেডে। সব মিলিয়ে প্রায় চার বছর যুক্তরাষ্ট্রে লিগে খেলার অভিজ্ঞতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কোচ গুস্তাভো আলফারো যেমন বলছিলেন, ‘ও জাতীয় দলে আছে প্রায় দশ বছর। গত বছর থেকে ফিরেছে আটলান্টায়। সব মিলিয়ে আমেরিকান ক্লাব ফুটবলে চার বছর। আলমিরনের অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য হতে পারে অমূল্য সম্পদ। সে পুরো দলকে একসুতোয় বেঁধে সেরাটা বের করে আনবে। প্রত্যাবর্তনের বিশ্বকাপ ঘিরে সবাই বেশ রোমাঞ্চিত। এবার মাঠে সেরাটা নিংড়ে দেওয়ার পালা।’
উল্লেখ্য, ২০১৫ থেকে প্যারাগুয়ের জার্সিতে ৭৬ ম্যাচে ১০ গোল করেছেন আলমিরন। প্যারাগুয়ের মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের সেতুবন্ধন হিসেবে ভরসা জোগাবেন অভিজ্ঞ উইঙ্গার অ্যানহেল রোমেরো। আর গোল করার মূল দায়িত্ব থাকবে ক্রেমোনেসের ফরোয়ার্ড অ্যান্তোনিও সানাব্রিয়ার ওপর, যিনি বাছাইপর্বে দলের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি গোল করে দলের নতুন ট্রাম্পকার্ড হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। যদিও আক্রমণভাগে বড় কোনো মহাতারকা নেই।
কিন্তু দিয়েগো গোমেজ বা হুলিও এনসিসোর মতো তরুণ তুর্কিরা যেকোনো মুহূর্তের জাদুতে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সানাব্রিয়ার সেই অবিশ্বাস্য বাইসাইকেল কিক এখনো ভক্তদের চোখে লেগে আছে।










