প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনলাইন প্রতারণা বা স্ক্যাম। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মনস্তাত্ত্বিক কৌশল কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা এখন আরও অভিনব সব ফাঁদ পাতছে। শুধু সাধারণ ব্যবহারকারীই নন, প্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞরাও অনেক সময় অজান্তে পা দিচ্ছেন এসব ফাঁদে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, একটু সচেতন হলে এসব বিপদ এড়ানো সম্ভব। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকটাইমসের তথ্যানুসারে অনলাইনে প্রতারণার শীর্ষ ১১টি কৌশল ও তা থেকে বাঁচার উপায় তুলে ধরা হলো।
এআই ফিশিং ও স্মিশিং
ব্যাংক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের আদলে ভুয়া ই-মেইল ও বার্তা পাঠানো হয়। দেখতে হুবহু আসলের মতো হওয়ায় অনেকে বিভ্রান্ত হন। এ ছাড়া এসএমএস ও ফিশিংয়ের সমন্বয়ে তৈরি ‘স্মিশিং’-এর মাধ্যমেও ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ওটিপি চুরির চেষ্টা করা হয়।
রোমান্স স্ক্যাম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া প্রোফাইল বা এআই দিয়ে তৈরি ‘ডিপফেক’ ভিডিও ব্যবহার করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়। এরপর আবেগের সুযোগ নিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা।
অনলাইন কেনাকাটা ও ভ্রমণ প্রতারণা
নকল ই-কমার্স সাইট, ভুয়া ছাড় বা রিফান্ড বার্তার মাধ্যমে গ্রাহকের কার্ডের তথ্য চুরি করা হয়। একইভাবে সস্তায় হোটেল বুকিং, ট্যুর প্যাকেজ বা ভুয়া বাড়ি ভাড়ার চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়েও অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
টেক সাপোর্ট স্ক্যাম
প্রযুক্তি সেবাদাতার পরিচয়ে ফোন বা বার্তা দিয়ে বলা হয়, আপনার ডিভাইস হ্যাক হয়েছে বা ভাইরাসে আক্রান্ত। এরপর সমস্যা সমাধানের কথা বলে ডিভাইসের রিমোট অ্যাকসেস নেয় অথবা অর্থ দাবি করে।
লটারি ও পুরস্কারের প্রলোভন
হঠাৎ বার্তা আসে, আপনি লটারি জিতেছেন। তবে পুরস্কার পেতে হলে ‘প্রসেসিং ফি’ বা কর বাবদ কিছু টাকা পাঠাতে হবে। এটি পুরোনো হলেও এখনো কার্যকর একটি ফাঁদ।
বিনিয়োগ ও ক্রিপ্টো জালিয়াতি
অল্প সময়ে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে ভুয়া বিনিয়োগ স্কিম বা ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মে টাকা ঢালতে প্ররোচিত করা হয়।
ভুয়া চাকরি
চাকরির বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি নিশ্চিত করার কথা বলে প্রশিক্ষণ ফি বা জামানত দাবি করা হয়।
চ্যারিটি বা দান
বড় কোনো দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ভুয়া দাতব্য সংস্থা বা তহবিল খুলে মানুষের আবেগ কাজে লাগিয়ে অর্থ সংগ্রহ করে প্রতারকরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছদ্মবেশ
পরিচিত বা বন্ধুর হ্যাক হওয়া আইডি থেকে মেসেজ দিয়ে জরুরি প্রয়োজনে টাকা চাওয়া হয়।
সাবস্ক্রিপশন ও অ্যাপ স্ক্যাম
বিনামূল্যে ব্যবহারের (ফ্রি ট্রায়াল) কথা বলে ক্ষতিকর অ্যাপ নামাতে বলা হয়। পরে গোপনে গ্রাহকের অজান্তে টাকা কেটে নেওয়া হয় বা তথ্য চুরি করা হয়।
র্যানসমওয়্যার আতঙ্ক
ভুয়া ই-মেইল বা লিংকের মাধ্যমে ডিভাইসে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করানো হয়। এতে ডিভাইসের সব ফাইল লক হয়ে যায় এবং তা ফিরিয়ে দিতে অর্থ দাবি করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৫ সালে এআই ব্যবহার করে মানুষের কণ্ঠস্বর নকল বা ভিডিও কল জালিয়াতির ঘটনা আরও বাড়তে পারে। অনলাইন দুনিয়ায় নিরাপদ থাকতে যে বিষয় মেনে চলা জরুরি-
- যেকোনো লিংক বা বার্তায় ক্লিক করার আগে যাচাই করুন।
- ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য শেয়ার করার আগে ভাবুন।
- প্রতিটি অ্যাকাউন্টে জটিল পাসওয়ার্ড ও টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা দ্বি-স্তরের নিরাপত্তা ব্যবহার করুন।
- নিয়মিত ব্যাংক ও অনলাইন অ্যাকাউন্টের তথ্যে নজর রাখুন।
- অপরিচিত নম্বর বা লোভনীয় অফার এড়িয়ে চলুন।
- তথ্যজ্ঞান ও সচেতনতাই অনলাইন প্রতারণা থেকে বাঁচার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
/আবরার জাহিন