পরিবেশের ওপর চাপ কমাতে অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি ডেটা সেন্টার নির্মাণ করছে, যেখানে পানির ব্যবহার হবে নগণ্য। গুগল জানিয়েছে, এই কেন্দ্রে মূলত উন্নত ‘এয়ার-কুলিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
সাধারণত ডেটা সেন্টারের সার্ভারগুলো সচল রাখতে এবং অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণে প্রচুর পরিমাণ বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয়। তবে গুগলের দাবি, তাদের নতুন এই কেন্দ্রে পানির ব্যবহার শুধু রান্নাঘরের মতো ‘অত্যন্ত জরুরি’ কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। টেক্সাসে গত দুই বছরে গুগলের ঘোষিত ৪০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পরিবেশবাদীদের মতে, ডেটা সেন্টারগুলো বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ করে ও গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের পানির উৎসেও টান ফেলে। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা বিতর্ক ও সমালোচনা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে গুগলের এই শীতলীকরণ প্রযুক্তি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি টেক্সাসের বিদ্যুৎ গ্রিডে অতিরিক্ত ৭ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে গুগল।
ডেটা সেন্টারের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে প্রযুক্তিবিশ্বে নানা মতভেদ রয়েছে। ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান অবশ্য পানির সংকট নিয়ে উদ্বেগকে কিছুটা নাকচ করে দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইলন মাস্কের মতো ব্যক্তিরা পরিবেশদূষণ এড়াতে ডেটা সেন্টার মহাকাশে স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, মহাকাশে এ ধরনের স্থাপনা তৈরির পরিবেশগত ঝুঁকিও ভয়াবহ হতে পারে।
গুগলের এই নতুন উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে ডেটা সেন্টার পরিচালনায় পানির ওপর নির্ভরশীলতা অনেকটা কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
/আবরার জাহিন