বিশ্বখ্যাত তথ্যকোষ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেরিয়াম-ওয়েবস্টার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ওপেনএআই তাদের তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে অবৈধভাবে এআই মডেল প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
গত শুক্রবার দায়ের করা অভিযোগে ব্রিটানিকা জানিয়েছে, মাইক্রোসফট সমর্থিত ওপেনএআই তাদের অনলাইন নিবন্ধ, বিশ্বকোষের তথ্য ও অভিধানের ভুক্তিগুলো ব্যবহার করে চ্যাটজিপিটিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এর ফলে চ্যাটজিপিটি এখন ব্যবহারকারীদের প্রশ্নের উত্তরে ব্রিটানিকার তথ্যের সারাংশ প্রদান করছে। এতে ব্রিটানিকার নিজস্ব ওয়েবসাইটের ট্রাফিক কমে যাচ্ছে, যাকে প্রতিষ্ঠানটি ‘তথ্য আত্মসাৎ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
বর্তমানে লেখক, সংবাদমাধ্যম ও কপিরাইট মালিকদের পক্ষ থেকে টেক জায়ান্টগুলোর বিরুদ্ধে এমন অনেক মামলা চলছে। অনুমতি ছাড়া তথ্য ব্যবহারের অভিযোগে গত বছর এআই স্টার্টআপ ‘পারপ্লেক্সিটি এআই’-এর বিরুদ্ধেও একটি মামলা করেছিল ব্রিটানিকা, যা এখনো চলমান। যদিও এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, তারা কপিরাইট করা তথ্যগুলোকে রূপান্তর করে নতুন কিছু তৈরি করছে, যা আইনের ভাষায় ‘ফেয়ার ইউজ’ বা ন্যায্য ব্যবহারের মধ্যে পড়ে।
ব্রিটানিকার মামলায় বলা হয়েছে, ওপেনএআই তাদের প্রায় ১ লাখ নিবন্ধ অবৈধভাবে কপি করে জিপিটি ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। চ্যাটজিপিটি অনেক সময় ব্রিটানিকার বিশ্বকোষের তথ্যগুলো হুবহু উপস্থাপন করছে। এতে পাঠকরা মূল ওয়েবসাইট দেখার প্রয়োজনবোধ করছেন না। এ ছাড়া ব্রিটানিকা আরও অভিযোগ করেছে যে, চ্যাটজিপিটি অনেক সময় ভুল বা মিথ্যা তথ্য (হ্যালুসিনেশন) প্রদানের ক্ষেত্রেও ব্রিটানিকার নাম ব্যবহার করছে, যা তাদের ব্র্যান্ডের সুনাম নষ্ট করছে।
এই মামলার মাধ্যমে ব্রিটানিকা বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। পাশাপাশি আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে যেন ওপেনএআই ভবিষ্যতে তাদের অনুমতি ছাড়া আর কোনো তথ্য ব্যবহার করতে না পারে। এ বিষয়ে ওপেনএআইয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলার রায় এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ও মেধাসম্পদ আইনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
/আবরার জাহিন