কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যে কতটা শক্তিশালী হতে পারে, তার এক নতুন উদাহরণ তৈরি করেছে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি ‘মিথোস’ নামের এমন একটি এআই সিস্টেমের কথা প্রকাশ্যে এনেছে, যা সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। অ্যানথ্রোপিক দাবি করেছে, এই সিস্টেম এতই শক্তিশালী যে এটি ইন্টারনেটের নিরাপত্তার মৌলিক ভিত্তিগুলোকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মিথোস এমন সব সফটওয়্যার বা নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে বের করতে সক্ষম, যা এখনো সংশোধিত হয়নি। এর ফলে আমাদের ব্যক্তিগত বার্তা, ব্রাউজিং তথ্য এবং অন্যান্য সংবেদনশীল ডেটা সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত এনক্রিপশন ব্যবস্থাগুলো ভেঙে পড়তে পারে। সাইবার অপরাধীরা যদি এই প্রযুক্তির নাগাল পায়, তবে তারা খুব সহজে ইন্টারনেটের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারবে। অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, এআই এখন কোডিংয়ের এমন স্তরে পৌঁছেছে, যেখানে তারা বিশ্বের সেরা দক্ষ মানুষের চেয়েও নিখুঁতভাবে ত্রুটি শনাক্ত ও ব্যবহার করতে পারে।
এই ভয়াবহ বিপদ মোকাবিলায় অ্যানথ্রোপিক ‘প্রজেক্ট গ্লাসউইং’ নামে একটি নতুন উদ্যোগ চালু করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্পে অ্যামাজন, অ্যাপল, গুগল, মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া ও সিসকোর মতো বড় বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করছে। বর্তমানে মিথোসের পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ উন্মোচন না করে কেবল এর একটি ‘প্রিভিউ’ সংস্করণ চালু রাখা হয়েছে।
অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক সংস্করণটি ইতোমধ্যে প্রধান সব অপারেটিং সিস্টেম ও ওয়েব ব্রাউজারে হাজার হাজার মারাত্মক নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান জনপ্রিয় চ্যাটবট ‘ক্লড’ যে ওপাস ৪.৬ মডেল দিয়ে পরিচালিত হয়, মিথোস তার চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী। বিশেষ করে এটি নিজে থেকে সিস্টেম ডিজাইন করা এবং জটিল গাণিতিক যুক্তি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
এই ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তারা সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা দ্বি-স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যবহার এবং নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অ্যানথ্রোপিক মনে করে, এআইয়ের এই অগ্রগতি জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তাই এই শক্তিকে ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যবহারের বদলে রক্ষণাত্মক উদ্দেশ্যে কাজে লাগানোই এখন প্রধান লক্ষ্য।