যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নতুন প্রশাসনে নিয়োগের জন্য অনেকের নাম ঘোষণা করেছেন। এদের মধ্যে অন্তত চারজনের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা থেকে শুরু করে ধর্ষণসহ বিভিন্ন যৌন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) হাফিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প নিজেও ২৪ জন নারীকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত। ৯০-এর দশকে ই. জি ক্যারলকে যৌন নিপীড়নের জন্য গত বছর একটি ফেডারেল জুরি ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করেছে। নারী বিদ্বেষী মনোভাব এবং নারীদের মানবাধিকার উপেক্ষা করা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।
২০২৪ সালের নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমরা আমাদের দেশের নারীদের রক্ষা করব... তারা যাই ভাবুক না কেন।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, যৌনতা নিয়ে ট্রাম্পের নির্লজ্জ বক্তব্য তার কিছু অনুসারীর জন্য সিগন্যাল হিসেবে কাজ করে। যারা ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিল দখল করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়। তাদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে নারীদের প্রতি সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে।
ডেমোক্র্যাট উইমেনস ককাসের ভাইস চেয়ারপারসন এবং নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য তেরেসা লেজার ফার্নান্দেজ হাফিংটন পোস্টকে বলেন, ‘যখন আমরা একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করি, আমরা আশা করি সেই প্রেসিডেন্ট নারীদের সুরক্ষা দেবেন। কিন্তু যখন তিনি এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেন যারা নারীদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার জন্য অভিযুক্ত, তখন তিনি তার নারী ভোটারদের সঙ্গে অর্থাৎ আমেরিকার সব নারীদের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করেন।’
এদিকে সাবেক রিপ্রেজেন্টেটিভ ম্যাট গেটজকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে মনোনীত করায় রিপাবলিকানরাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
গেটজের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণ, যৌন নিপীড়ন ও মাদকদ্রব্য ব্যবহারের অভিযোগে বিচার বিভাগ এবং হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভের সদস্যদরা দুটি তদন্ত শুরু করেছিলেন। তবে গত বছর বিচার বিভাগ তাদের তদন্ত বন্ধ করে দেয়।
এদিকে গত সোমবার গেটজ সম্পর্কে হাউস এথিকস কমিটির তদন্তের কিছু বিবরণ সামনে আসে।
কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেওয়া দুই নারীর আইনজীবী বলেন, ‘২০১৭ সালে গেটজ ওই দুই নারীকে যৌনতার জন্য অর্থ দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে এক নারী বলেছেন, তিনি গেটজকে একটি পার্টিতে এক নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে দেখেছিলেন।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গেটজ।
ট্রাম্পের ট্রানজিশন টিমের একজন মুখপাত্র সোমবার এই অভিযোগকে ‘অযৌক্তিক’ বলে দাবি করেছেন।
এ ছাড়া ট্রাম্প ফক্স নিউজের টিভি উপস্থাপক পিট হেগসেথ এবং সেনানীকে পরবর্তী সেক্রেটারি অব ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগের পরিকল্পনা করেছেন।
হেগসেথের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরিতে এক নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছিল। ওই নারীকে পরবর্তীতে চুপ রাখতে একটি নন-ডিসক্লোজার চুক্তির মাধ্যমে ২০২০ সালে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তবে হেগসেথের দাবি, উভয়ের সম্মতিতেই এটি ঘটেছিল।
এদিকে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সেক্রেটারি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রকে। যার বিরুদ্ধে ৯০-এর দশকের শেষের দিকে তার পরিবারের এক নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে রয়েছে।
কয়েক মাস আগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কেনেডি মেসেজের মাধ্যমে ওই নারীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ককে ট্রাম্প ডিপার্টমেন্ট অব গভার্নমেন্ট অ্যাফিশিয়েন্সির নেতৃত্বের জন্য মনোনীত করেছেন। যার বিরুদ্ধেও ২০১৬ সালে বিমানের একজন ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টকে তার যৌনাঙ্গ প্রদর্শন এবং যৌনকর্মে লিপ্ত হতে উপহার দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার কোম্পানি স্পেসএক্স ওই নারীকে ২০১৮ সালে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছিল।
মাস্ক দাবি করেছেন, এই অভিযোগ ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ।’
এ ধরণের মনোনয়নের জন্য সিনেটের সম্মতি আদায়ে ট্রাম্প চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সংগঠন রেইন-এর কমিউনিকেশনস ভাইস প্রেসিডেন্ট জেনিফার সিমন্স কালেবা বলেন, ‘হাউস এথিকস কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনা না করে সিনেটের সদস্যরা যেন গেটজের পক্ষে ভোট না দেয় সেই আহ্বান থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘এই মনোনয়নগুলোর মাধ্যমে আমরা দেখছি উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরা যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত এবং অভিযোগগুলো সঠিকভাবে পর্যালোচনা না করা হলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ সূত্র: হাফিংটন পোস্ট
তাওফিক/পপি/