যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। ইরান গতকাল শনিবার বলেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দুই দেশ সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) কাঠামোতে সই করতে পারে। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী আজ রবিবার চুক্তি সই হওয়ার কথা থাকলেও তা হবে না বলে স্পষ্ট করেছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই গত শুক্রবার জানায়, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, উভয় পক্ষ একটি খসড়া পাঠে সম্মত হয়েছে এবং ওয়াশিংটন আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের আশা করছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ গতকাল বলেন, দুই পক্ষ একটি শান্তিচুক্তির কাঠামোতে একমত হয়েছে এবং ইসলামাবাদ ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে। তিনি বলেন, প্রাথমিক চুক্তিটি আজ রবিবারই স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে পরে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
বাঘাই বলেন, ‘সমঝোতা স্মারক ঠিক কবে স্বাক্ষরিত হবে, তা দেখতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটি আজ হবে না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু অপর পক্ষের দ্বিধার কারণে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
এর আগেও একাধিকবার দুই দেশ যুদ্ধ বন্ধের প্রাথমিক চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়নি। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা শান্তিচুক্তির যতটা কাছে এখন আছি, আগে কখনো ছিলাম না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি, তবে তিনি শরিফের পোস্টটি রিপোস্ট করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে যুদ্ধের সূচনা হয়। এরপর ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় এবং লেবাননে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালালে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়।
এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছেন। যাদের বেশির ভাগই ইরান ও লেবাননের নাগরিক। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে।
যুদ্ধের প্রথম দিন বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। পরে তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, জানাজাসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৯ জুলাই আলী খামেনিকে জন্মশহর মাশহাদে দাফন করা হবে। সূত্র: রয়টার্স