ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনী নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে গত মার্চে বের হয়ে এসে দেশটি হামলার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবিতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাতে কর্ণপাত করছেন না। তিনি গাজায় অভিযান আরও জোরদার করার হুমকি দিচ্ছেন। এমতাবস্থায় সরব হয়েছেন খ্রিষ্টধর্মের ক্যাথলিক চার্চের নেতা পোপ ফ্রান্সিসও।
রবিবার (২০ এপ্রিল) খ্রিষ্টধর্মের উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে হাজারও ধর্মপ্রাণ মানুষের সামনে দেওয়া বিশ্বশান্তির বার্তায় গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে গাজায় গতকাল ভোর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ২৯ জন নিহত হয়েছেন। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর সংবাদ সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য দিয়েছে।
‘উরবি এট অরবি’ শীর্ষক আশীর্বাদ বার্তায় পোপ ফ্রান্সিস গাজার মানবিক সংকট এবং ১৮ মাস ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পোপ যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আহ্বান জানান এবং জিম্মিদের মুক্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি শান্তি, সহানুভূতি ও মানবিক সহায়তার মাধ্যমে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
পোপের একজন সহকারী ‘উরবি এট অরবি’ বা ‘শহর ও বিশ্বের প্রতি’ আশীর্বাদ পাঠ করেন। সেখানে পোপ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের ১৮ মাসব্যাপী যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট শোচনীয় মানবিক পরিস্থিতির নিন্দা করেন। পোপ বলেন, ‘আমি যুদ্ধরত পক্ষগুলোর কাছে আবেদন করছি- যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করুন, জিম্মিদের মুক্তি দিন এবং শান্তির ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা পোষণকারী ক্ষুধার্ত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসুন।’
সম্প্রতি শারীরিক জটিলতা নিয়ে পাঁচ সপ্তাহ ধরে রোমের জেমেলি হাসপাতালে থাকার আগেও ফ্রান্সিস গাজায় ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের সমালোচনা চালিয়ে গেছেন। তিনি গাজার পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত গুরুতর এবং লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছিলেন। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে ইসরায়েলি ‘গণহত্যার’ তদন্ত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। সূত্র: এএফপি, আল-জাজিরা, বিবিসি