শ্রীলঙ্কার পুলিশ প্রধান দেশবান্দু টেন্নাকুনকে বরখাস্ত করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। দেশটির ১৫৯ বছরের ইতিহাসে টেন্নাকুন হলেন প্রথম পুলিশ প্রধান যিনি অভিশংসন প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন।
একটি অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির সংসদের স্পিকার।
শ্রীলঙ্কার গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শ্রীলঙ্কার ৮৫ হাজার পুলিশ সদস্যের একটি শক্তিশালী বাহিনীর নেতৃত্ব দেয়ার জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হন টেন্নাকুন।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) পার্লামেন্টের স্পিকার জগৎ বিক্রমারত্ন জানান, শ্রীলঙ্কার একটি সংসদীয় কমিটি বরখাস্তকৃত পুলিশ প্রধান দেশবান্দু টেন্নাকুনকে অসদাচরণ এবং ক্ষমতার গুরুতর অপব্যবহারের জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং তাকে অপসারণের সুপারিশ করেছে।
সংসদে ভাষণ দেওয়ার সময় বিক্রমারত্নে নিশ্চিত করেন, তিনি তদন্ত কমিটির সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পেয়েছেন, যা পুলিশ মহাপরিদর্শকের পদ থেকে টেন্নাকুনকে অপসারণের সুপারিশ করেছে।
বিক্রমারত্ন জানান, এই কমিটি তাদের তদন্ত পরিচালনা করে সর্বসম্মতিক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছে। এটি আমাদের সাংবিধানিক যাত্রার একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
এছাড়া, ২২৫ সদস্যের সংসদে এই অভিশংসনের জন্য ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে এবং এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকের সরকার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছে, হেফাজতে থাকা একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির যৌনাঙ্গে নির্যাতন করেছিলেন। তারপরও ২০২৩ সালের নভেম্বরে টেন্নাকুনকে পুলিশ প্রধান নিযুক্ত করা হয়।
এছাড়া, তার বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে একটি দুর্ভাগ্যজনক অভিযানের অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। শ্রীলঙ্কার উপকূলীয় শহর ওয়েলিগামায় প্রতিদ্বন্দ্বী পুলিশ ইউনিটগুলোর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের সূত্রপাতের জন্য সেই অভিযানের অনুমোদন দেওয়াতে ফেব্রুয়ারিতে আদালত তাকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেয়। এই অভিযানে গুলিবিনিময়ের সময় একজন অফিসার নিহত হন।
গত মার্চের মাঝামাঝি সময়ে আত্মসমর্পণের আগে তিনি দুই সপ্তাহ পালিয়ে ছিলেন।
সুলতানা দিনা/