যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে দায়িত্ব পালনকালে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষবিদায় দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) নিউইয়র্কের পার্কচেস্টার জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস, অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল, পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশসহ স্থানীয় ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
জানাজার পর পুলিশের চারটি হেলিকপ্টার আকাশে টহল দিয়ে দিদারুলকে সালাম জানায়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ তাকে মরণোত্তর পদোন্নতি দিয়ে ‘ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড’ পদে উন্নীত করে। দাফনের আগে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ‘গার্ড অব অনার’ দেয়, যা সাধারণত পুলিশ বাহিনীর বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি সর্বোচ্চ সম্মান।
দিদারুল ইসলাম ছিলেন মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ার সন্তান। তিন বছর ধরে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। নিউইয়র্কে তিনি তার মা-বাবা, স্ত্রী, দুই সন্তানের সঙ্গে বসবাস করতেন।
গত সোমবার নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনের পার্ক অ্যাভিনিউর একটি বহুতল ভবনে এক বন্দুকধারী হঠাৎ রাইফেল নিয়ে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে গেলে দিদারুল গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই ঘটনায় আরও তিনজন নিহত হন এবং পরে হামলাকারী নিজেও আত্মহত্যা করে।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন, ‘দিদারুল ছিলেন নিঃস্বার্থ ও সাহসী। নিজের জীবন দিয়ে তিনি অন্যদের রক্ষা করেছেন। তিনি আমাদের জন্য একজন বীর।’
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস জানান, দিদারুল ইসলাম একজন আদর্শ পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হয়ে এসে এই শহরে নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘এই শহরের প্রতিটি মানুষ আজ শোকাহত। আমরা একজন সত্যিকারের নায়ককে হারালাম।’
দিদারুলের স্ত্রী এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, ‘দিদার ছিলেন আমাদের পরিবারের সবকিছু। তার মৃত্যু আমাদের ভেঙে দিয়েছে, তবে আমরা গর্বিত যে, তার আত্মত্যাগে অনেক মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে।’
জানাজা শেষে দিদারুলের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় নিউজার্সির টোটোওয়া ইসলামিক কবরস্থানে। সেখানে তাকে দাফন করা হয়। দাফনের সময়ও পুলিশ সদস্য ও সাধারণ মানুষ ভিড় করে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
দিদারুলের স্মরণে গঠিত হয়েছে একটি সাহায্য তহবিল। তার পরিবারকে সহায়তা করতে এই তহবিলে ইতোমধ্যে ৬৫ হাজার ডলারের বেশি জমা পড়েছে। আরও অনেকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই ঘটনার পর নিউইয়র্কে আবারও আইনশৃঙ্খলা, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, দিদারুলের মতো বীরদের আত্মত্যাগ কখনোই ভুলে যাওয়া যাবে না। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স