ইরান-সমর্থিত হুথিদের একের পর এক হামলার জবাবে রবিবার (২৪ আগস্ট) ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী (আইএএফ)। এতে অন্তত ছয়জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
গত শুক্রবার রাতে ইয়েমেন থেকে নিক্ষেপিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তদন্তে আইএএফ জানায়, এবার প্রথমবারের মতো হুথিরা ক্লাস্টার বোমা যুক্ত ওয়ারহেড ব্যবহার করেছে। ওই ক্ষেপণাস্ত্রের একটি অংশ ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের একটি বাড়িতে আঘাত হানে। তবে বাড়ির মালিক নারীটি বোমা-আশ্রয়ে গিয়ে নিরাপদে ছিলেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রবিবারের হামলায় সানায় প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের অবস্থান করা একটি সামরিক স্থাপনা, একটি জ্বালানি গুদাম এবং দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। সেনাদের ভাষ্য, ইয়েমেনি প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসটি এমন এক সামরিক ঘাঁটির ভেতরে অবস্থিত, যেখান থেকে হুথি যোদ্ধারা সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে স্থানীয় কিছু সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ভবনটি বহু বছর ধরেই পরিত্যক্ত।
হুথি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানায়, হামলায় ছয়জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছে।
আইএএফ-এর প্রায় ডজনখানেক বিমান, যার মধ্যে যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ছিল, এই অভিযানে অংশ নেয়। ইয়েমেনে যাওয়া ও ফেরার পথে একাধিকবার আকাশে জ্বালানি ভরার প্রয়োজন হয়। মোট ৩৫টি বোমা চারটি লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা হয়।
তেল আবিবে সেনা সদর দপ্তরে আইএএফ কমান্ড সেন্টার থেকে সরাসরি অভিযান পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এবং সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ দাবি করেন, ইসরায়েল ইয়েমেনের হুথি প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস ধ্বংস করেছে। তবে ইয়েমেন থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন আসেনি। নেতানিয়াহু শুধু বলেছেন, প্যালেসটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
রবিবারের এই হামলা ছিল ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের ওপর ইসরায়েলের ১৫তম আক্রমণ। প্রায় ১,৮০০ কিলোমিটার (১,১০০ মাইল) দূরের এ দেশটিতে অধিকাংশ হামলাই চালানো হয়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে। তবে সর্বশেষ ১৭ আগস্টের হামলা চালানো হয়েছিল ইসরায়েলি নৌবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র নৌকা থেকে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
মাহফুজ/