তেহরানের উপর ইউরোপীয় 'স্ন্যাপব্যাক' নিষেধাজ্ঞার কারণে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) সঙ্গে স্বাক্ষরিত কায়রো চুক্তি আর সক্রিয় বা বৈধ নয় বলে জানিয়েছে ইরান।
রবিবার (৫ অক্টোবর) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, "কায়রো চুক্তির অধীনে আইএইএ’র সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা আর প্রাসঙ্গিক নয়।" দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালের খবর।
আব্বাস আরাঘচি আরও বলেন, "অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে ইরানের পারমাণবিক সমস্যার কূটনৈতিক ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান ছাড়া আর কোনও সমাধান নেই।"
তিনি আরও যোগ করেন, "তিনটি ইউরোপীয় দেশ (ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি) ভেবেছিল, তারা স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি ভালো ফল পাবে, কিন্তু সেই হাতিয়ারটি অকার্যকর ছিল এবং সেটি আসলে কূটনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখন নিঃসন্দেহে, আসন্ন আলোচনায় ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকা ও কূটনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।"
প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) সঙ্গে ইরান এক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল, যার আওতায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের আবারও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথা ছিল। তবে চলতি বছরের জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তেহরান এই সহযোগিতা স্থগিত করে দেয়।
এমন প্রেক্ষাপটে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে কায়রো চুক্তি ইরানের কাছে অর্থহীন হয়ে গেছে।
আরাঘচি উল্লেখ করেন, তিন ইউরোপীয় দেশ (ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি) মনে করেছিল নিষেধাজ্ঞা হুমকি দিয়ে তারা আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারবে। কিন্তু এখন তারা নিজেদের কূটনৈতিক প্রভাব হারিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করে আসছে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে। তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে লাল রেখা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
তবে ইরান এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে উদ্দেশে পরিচালিত হচ্ছে এবং তারা পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী, এই সমৃদ্ধকরণের অধিকার রাখে।
এদিকে, কিছু ইরানি সংসদ সদস্য এনপিটি থেকে বেরিয়ে আসার প্রস্তাব দিলেও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, ইরান এখনো চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। আরাঘচি জানান, আইএইএর সঙ্গে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে তেহরানের সিদ্ধান্ত শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। তবে তিনি এও বলেন, কূটনীতির পথ এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
বলে রাখা ভালো, চলতি বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানের ওপর স্ন্যাপব্যাক নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হয়েছে। ওয়াশিংটন ইউরোপের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ (UNSC) ইরানের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খসড়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর নিষেধাজ্ঞাগুলো আটকে দেওয়ার আলোচনা ব্যর্থ হয়।
রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান এবং আলজেরিয়া নিষেধাজ্ঞা পুনঃপ্রবর্তন রোধের পক্ষে ভোট দেয়। বিপরীতে নিরাপত্তা পরিষদের নয়টি সদস্য দেশ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে ভোট দেয়। দুটি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
এরপর জার্মানি, ফ্রান্স এবং ইতালি থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে তেহরান। সেই সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বজায় রাখার অধিকারের উপর জোর দিয়ে বিবৃতি দেয়।
সুলতানা দিনা/