ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯,৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
Nagad desktop

বাংলাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের নামে দমন-পীড়ন করছে: এইচআরডব্লিউ

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৫, ১১:১৯ এএম
আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
বাংলাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের নামে দমন-পীড়ন করছে: এইচআরডব্লিউ
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সমর্থকদের গ্রেপ্তারের জন্য সম্প্রতি সংশোধিত সন্ত্রাসবাদ দমন আইনের ব্যবহারের মাধ্যমে দমন-পীড়ন বৃদ্ধি করছে। তাই, বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার দলকে অবিলম্বে নির্বিচারে আটক এসব ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি জানাতে হবে এবং কর্তৃপক্ষকে বেআইনি রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের বিচার করতে উৎসাহিত করতে হবে। 

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।

এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারে সদ্য সংশোধিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। 

সংস্থাটি বলছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়কে অবিলম্বে এই বেআইনি আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি জানাতে ও রাজনৈতিক সহিংসতার নামে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা উচিত।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়,  ২০২৪ সালের আগস্টে তিন সপ্তাহব্যাপী সহিংস আন্দোলনের পর তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার পতনের মধ্য দিয়ে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসে। ওই সময় অন্তত এক হাজার ৪০০ জন নিহত হয়। 

২০২৫ সালের ১২ মে সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের কঠোর সংশোধনী ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর আওতায় দলটির সভা, প্রকাশনা ও অনলাইন বক্তব্য নিষিদ্ধ করা হয়। আর সেটি ব্যবহার করে এখন দলটির নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ‘বাংলাদেশিরা একসময় শেখ হাসিনার অধীনে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ সহ্য করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারও যেন সেই একই পথে না হাঁটে। জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়কে এখনই হস্তক্ষেপ করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেপ্তার ঠেকাতে হবে।’

এ পর্যন্ত হাজারো মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে, অনেককে হত্যা মামলার আসামি বানানো হয়েছে। বেশ কয়েকজন অভিযোগ করেছেন, তাদের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে—যা শেখ হাসিনার আমলের নির্যাতনের স্মৃতি জাগিয়ে তুলছে।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ আগস্ট ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মঞ্চ ৭১’ আয়োজিত এক আলোচনাসভা থেকে সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদসহ ১৬ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ইত্যাদির কথা স্মরণ ও প্রচারের পক্ষে কাজ করা ওই প্ল্যাটফর্মের সভায় হামলা চালানো উগ্রপন্থি একদল লোকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং অংশগ্রহণকারীদেরই আটক করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালোয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।

পরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেয়া হয়। পুলিশ দাবি করে, তারা সরকারের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দিচ্ছিলেন—যা প্রত্যক্ষদর্শীরা অস্বীকার করেছেন। জামিন শুনানিতে সাংবাদিক মনজুরুল আলম পান্নাকে হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পরিয়ে আদালতে আনা হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রণীত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ২০২৫ সালের সংশোধনীকে সরকার ন্যায়বিচারের অজুহাতে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ সম্পাদক পরিষদও সতর্ক করেছে, এই আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের পরিসর সীমিত করবে। যদিও ড. ইউনুস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানিয়েছে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৫২ জনকে মব হামলায় হত্যা করা হয়েছে। 

২০২৫ সালের জুলাইয়ে জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকার মানবাধিকার সহযোগিতার জন্য তিন বছরের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক বলেন, এটি বাংলাদেশের মানবাধিকার অঙ্গীকারের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।

এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

গাঙ্গুলি বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে রাজনৈতিক দমননীতির অস্ত্রে পরিণত করা উচিত নয়। অন্তর্বর্তী সরকার বরং মনোযোগ দিক নিরাপদ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে।

সুলতানা দিনা/

প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’
প্রতীকী ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের একটি ভ্যাকসিন তৈরি করেছেন গবেষকরা। এই ভ্যাকসিনটি ভাইরাসের বড় একটি গ্রুপকে ধ্বংস করতে পারে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো মহামারি প্রতিরোধে সাহায্য করবে। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এই দাবি করেছেন।

গবেষকরা জানান, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এবারই প্রথম ভ্যাকসিনের মূল উপাদানটি সম্পূর্ণভাবে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে। এরপর সেটি মানুষের শরীরে ট্রায়াল বা পরীক্ষা করা হয়েছে। এই ভ্যাকসিনটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা সব ধরনের করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করবে। এর মধ্যে কোভিডের সব ভ্যারিয়েন্ট যেমন থাকবে, তেমনি পশুপাখির শরীরে থাকা অন্যান্য করোনাভাইরাসও থাকবে, যা ভবিষ্যতে মানুষের মধ্যে মহামারি ছড়াতে পারে।

এই কাজটির এখনো প্রাথমিক ধাপ চলছে। তবে গবেষক দলটি ইতোমধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু) ও ইবোলার জন্য আলাদা ভ্যাকসিন তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে।

ভ্যাকসিনটি যেভাবে কাজ করে
সাধারণত প্রচলিত ভ্যাকসিনগুলো ভাইরাসের বর্তমান কোনো স্ট্রেন বা রূপ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। কিন্তু কেমব্রিজের গবেষকরা একটু ভিন্ন পথ বেছে নেন। বিভিন্ন নজরদারি কর্মসূচির মাধ্যমে আগে থেকে রেকর্ড করা একগুচ্ছ করোনাভাইরাসের জেনেটিক কোড সংগ্রহ করেন তারা। 

এই জেনেটিক কোডগুলোকে বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। এরপর এআই একটি ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’ ডিজাইন করে। অ্যান্টিজেন হলো ভ্যাকসিনের সেই গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শেখায়। এআইয়ের ডিজাইন করা এই সুপার-অ্যান্টিজেন মানুষের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে এমনভাবে তৈরি করে, যাতে পুরো ভাইরাস পরিবার মিউটেশন বা রূপবদল করলেও শরীর তার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে। এমনকি পশু থেকে মানুষের শরীরে নতুন কোনো সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লেও এটি কাজ করবে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোনাথন হীনি বলেন, ‘এটিই প্রথম এআইয়ের ডিজাইন করা কোনো অ্যান্টিজেন মানুষের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হয়েছে।’ প্রযুক্তিটির সাফল্যে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বিবিসি নিউজকে বলেন, ‘এর উদ্দেশ্য হলো এমন ভ্যাকসিন তৈরি করা, যা শুধু আজকের ভাইরাস থেকেই আমাদের বাঁচাবে না, বরং ভবিষ্যতে যে ভাইরাসগুলো পরবর্তী মহামারি বা রোগ ছড়াতে পারে, সেগুলো থেকেও সুরক্ষা দেবে। মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতিতে এটি একটি মৌলিক পরিবর্তন।’

ট্রায়ালের ফলাফল ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ভ্যাকসিনটি নিরাপদ কি না, তা যাচাই করতে ৩৯ জন মানুষের ওপর প্রথম পরীক্ষা চালানো হয়। এরপর প্রায় ২০০ জনের ওপর দ্বিতীয় আরেকটি গবেষণা করা হবে, যা থেকে বোঝা যাবে এটি মানুষের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে কতটা ভালোভাবে প্রস্তুত করছে।

‘জার্নাল অব ইনফেকশন’-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব এখনো ‘পরিমিত’ বা মাঝারি। তবে তা সত্ত্বেও এটি বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের অধ্যাপক সল ফস্ট, যিনি এই ট্রায়ালের কিছু অংশ পরিচালনা করেছেন, তিনি বলেন, ‘ভাইরাস যখন দ্রুত রূপ পরিবর্তন করে, তখন সম্ভাব্য মহামারির জন্য ভ্যাকসিন ডিজাইনে এই প্রযুক্তিটি অনেক বেশি কার্যকর।’

কেমব্রিজের দলটি এখন একটি সর্বজনীন ‘সিজনাল ফ্লু’ ভ্যাকসিনের ওপর এনিম্যাল ট্রায়াল বা পশুর ওপর গবেষণা চালাচ্ছে, যা প্রতিবছর পরিবর্তন করার প্রয়োজন হবে না। এ ছাড়া তারা ‘এইচ৫এন১’ বার্ড ফ্লু ও ইবোলার মতো রক্তক্ষরণকারী জ্বরের ভ্যাকসিনের ওপরও কাজ করছে। কঙ্গোতে বর্তমানে ইবোলার এমন একটি প্রজাতির প্রাদুর্ভাব চলছে, যার কোনো ভ্যাকসিন নেই।

অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপের পরিচালক অধ্যাপক অ্যান্ডি পোলার্ড এই গবেষণার প্রশংসা করে বলেন, এআই প্রযুক্তি ভ্যাকসিন গবেষণায় আমূল পরিবর্তন আনবে। এটি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কেমন হবে তা আগে থেকেই অনুমান করতে পারবে। ফলে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ দ্রুত হবে ও মানুষের জীবন বাঁচবে।

যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞান মন্ত্রী লর্ড ভ্যালেন্স একে ব্রিটিশ বিজ্ঞানের আরেকটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রথম মানব ট্রায়ালে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ায় এই কাজ ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে মানুষের কল্যাণে দ্রুত ভ্যাকসিন পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে।’
সূত্র: বিবিসি

কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম
ফিরহাদ হাকিম | ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ফিরহাদ হাকিম।

শুক্রবার (৫ জুন) কলকাতা পৌরসভায় সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে প্রায় সাড়ে সাত বছর মেয়র পদে ছিলেন কলকাতা বন্দরের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ফিরহাদ। কলকাতা পৌরসভার চেয়ারম্যান মালা রায়ের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

ফিরহাদ কলকাতা পৌরসভার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। ২০০০, ২০০৫ এবং ২০১০ সালে এই ওয়ার্ড থেকেই তৃণমূলের টিকিটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে ফিরহাদ পৌরভোটে লড়েননি। ২০১৫ সালে ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রণব বিশ্বাস। ২০১৮ সালে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পর কলকাতার মেয়র হওয়ার পর ওই ওয়ার্ড থেকেই উপনির্বাচনে জিতে আসেন ফিরহাদ। ২০২১ সালে ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

মেয়র হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার মাস ছয়েক আগেই পদত্যাগ করলেন ফিরহাদ। তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে লালবাড়িতে (কলকাতার পৌরসভার লালরঙা ভবন) তৃণমূল শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান হলো বলে মনে করা হচ্ছে।

এসএন/

তৃণমূলে বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘ভাইপোবিরোধী’ হাওয়া

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
তৃণমূলে বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘ভাইপোবিরোধী’ হাওয়া
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ঘটে গেল এক বিরাট রাজনৈতিক বিস্ফোরণ। রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস এখন আনুষ্ঠানিকভাবে দুই শিবিরে বিভক্ত। দলের বিক্ষুব্ধ নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দলের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনকে সঙ্গে নিয়ে একটি সম্পূর্ণ আলাদা গোষ্ঠী গঠন করেছেন। বিধানসভার স্পিকারের কাছ থেকে প্রধান বিরোধী দলের নেতার স্বীকৃতিও আদায় করে নিয়েছেন তিনি। মাত্র তিন দিন আগেই মমতা তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। তবে বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার পর ঋতব্রত স্পষ্ট জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তার একমাত্র নেত্রী। দল ভাঙার কোনো উদ্দেশ্য তার নেই। তার এই লড়াই মূলত দলের ভেতরে থাকা ‘এক ব্যক্তির’ একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে। তিনি চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন আগের মতোই তাদের পথপ্রদর্শক হিসেবে পাশে থাকেন।

স্বভাবতই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, কে সেই রহস্যময় ব্যক্তি, যার কারণে আজ তৃণমূল কংগ্রেসে এই নজিরবিহীন ভাঙন ধরল? বাংলার রাজনৈতিক মহল এবং খোদ দলের অন্দরের মানুষ ভালো করেই জানেন, এই ব্যক্তি আর কেউ নন, তিনি হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

কিন্তু কেন দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই একজন মাত্র মানুষের বিরুদ্ধে এভাবে এককাট্টা হলেন? বিষয়টি বুঝতে হলে তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক কাঠামো ও তার বিবর্তনকে খুঁটিয়ে দেখতে হবে। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন নিজের একক পরিশ্রমে বাংলায় বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের দুর্ভেদ্য দুর্গের পতন ঘটান, তার পরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সক্রিয় রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে। দ্রুত তাকে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি করা হয়। ২০১৪ সাল থেকে তিনি ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের এমপি এবং বর্তমানে দলের সাধারণ সম্পাদক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো হওয়ার সুবাদে দলে অভিষেকের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি দিনে দিনে আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। তাকে অলিখিতভাবে দলের প্রধান উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখা হতে থাকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তার বহু পুরোনো ও বিশ্বস্ত সহকর্মীদের চেয়ে অভিষেককে বেশি ভরসা করতে শুরু করেন। এর ফলে দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা ধীরে ধীরে কোণঠাসা হয়ে পড়েন এবং সংগঠনের রাশ পুরোপুরি অভিষেকের মুঠোয় চলে যায়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলের ভালো ফলের পর অভিষেকের এই দাপট আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। যে দলটিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, রাজপথে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন করে গড়ে তুলেছিলেন, তা ভেতর থেকে এভাবে ক্ষয়ে যাচ্ছিল অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টেরই পাননি।

তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতার মতে, দলের অভিজ্ঞ নেতারা অভিষেকের এই আগ্রাসী এবং করপোরেট ধাঁচের দল চালনা পদ্ধতি একদমই মেনে নিতে পারেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির মূল ভিত্তি ছিল মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং আবেগের বন্ধন। অন্যদিকে অভিষেক তৃণমূলের চিরাচরিত ‘নিচ থেকে ওপরে’ ওঠার রাজনীতির বদলে ‘ওপর থেকে নিচে’ নিয়ন্ত্রণ চাপানোর নীতি চালু করে। রাজনীতিতে যুক্ত হয় ডেটাচালিত কৌশল এবং ক্ষমতার জবরদস্তিমূলক আধিপত্য। ফলে দল থেকে দিদির সেই পরিচিত মানবিক স্পর্শ হারিয়ে যায়, আর তার জায়গা নেয় শুষ্ক পরিসংখ্যান ও দর-কষাকষির সংস্কৃতি। দলের একজন প্রবীণ নেতা মমতা ও অভিষেকের এই কার্যপদ্ধতির তুলনা করতে গিয়ে চমৎকার একটি মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘একজন হলেন রবীন্দ্রসংগীত, আর অন্যজন হলেন ডিজে মিউজিক।’

অভিষেকের এই আধিপত্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল একধরনের দূরত্ব ও অহংকার। কলকাতার রাজনৈতিক মহলে কান পাতলেই শোনা যায়, সাধারণ কাউন্সিলর থেকে শুরু করে বিধায়কদের পক্ষেও অভিষেকের সঙ্গে দেখা করা ছিল একপ্রকার অসম্ভব। বহু নেতাকে তার বিলাসবহুল বাড়ির বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হতো, এরপর হয়তো বার্তা আসত যে সাক্ষাৎ সম্ভব নয়। অথচ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করা ছিল অনেক সহজ।

আজ যখন বিধানসভা নির্বাচনের এক মাসের মাথায় এসে তৃণমূল কংগ্রেস তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে, তখন দলের ভেতরের সব আঙুল উঠছে একজনের দিকেই—তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহীরা এখনো প্রকাশ্যেই বলছেন যে দিদিই তাদের নেত্রী এবং তারা দিদির নির্দেশেই চলতে চান। কিন্তু একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিপত্য সংস্কৃতি তারা আর কোনোমতেই বরদাশত করবেন না। সূত্র: এনডিটিভি

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় চারজন বিদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন।

এদের মধ্যে দুজন সিরীয় ও দুজন বাংলাদেশি।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)-কে উদ্ধৃত করে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

এনএনএ জানিয়েছে, একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়া জেলার আব্বা ও আল-দুওয়াইর শহরের মধ্যবর্তী ওয়াতা আব্বার আল-মাশাল এলাকায় দুই দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে।

দিল্লির মালব্য নগরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হোটেল মালিক

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
দিল্লির মালব্য নগরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হোটেল মালিক
ছবি: সংগৃহীত

দিল্লির মালব্য নগরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলের মালিক লাভকেশ বাজাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৩ জুন) গভীর রাতে হোটেলটির মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

দিল্লি পুলিশ জানায়, ওই অগ্নিকাণ্ডের পরেই গা-ঢাকা দিয়েছিলেন লাভকেশ বাজাজ এবং তার স্ত্রী।

বুধবার সকালে আগুন লাগে মালব্য নগরের ঝাঁ চকচকে বেড-অ্যান্ড-ব্রেকফাস্ট হোটেলে। এ ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৮ জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ২১ জনের।

চিকিৎসার জন্য আসা দেশ-বিদেশের অনেকেই উঠতেন হোটেলটিতে। ধারণা করা হচ্ছে নিচ তলায় থাকা রেস্তোরাঁ থেকে সূত্রপাত আগুনের।

হোটেলটি থেকে প্রায় ৪০ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ এবং দমকলবাহিনী। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ওই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে হোটেলটির বিরুদ্ধে। অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ঠিক না থাকাসহ অনুমোদন ছাড়া ঘর তৈরি করা।

আমান/