কপ৩০ জলবায়ু আলোচনার পর একটি খসড়া কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যেটিতে ঠাঁই পায়নি জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার বিষয়টি। অথচ একাধিক ভুক্তভোগী দেশ এটি অন্তর্ভুক্ত রাখার পক্ষে মত দিয়েছিল। এমনকি এটি না থাকলে সমঝোতা আটকে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিল।
গত বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানায়, অন্তত ২৯টি দেশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রাখার অনুরোধ জানিয়ে কপ৩০ সভাপতিকে চিঠি দিয়েছে। সে চিঠিতে সমঝোতা আটকে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। তবে এতে কোনো কাজ হয়নি। দিনশেষে কর্তৃপক্ষ আমলে নেয়নি তাদের কথা। নতুন পরিস্থিতিতে দ্য গার্ডিয়ান বলছে, আলোচনা গতকাল শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা সপ্তাহান্তে গড়াতে পারে।
গত মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রথম খসড়ায় ‘জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার’ রোডম্যাপ প্রণয়নের একটি বিকল্প রাখা হয়েছিল। কিন্তু গত শুক্রবার সকালে ব্রাজিলের প্রকাশিত সমষ্টিগত খসড়া নথিতে রোডম্যাপেরও কোনো উল্লেখ ছিল না। এমনকি ‘জীবাশ্ম জ্বালানি’ শব্দটিও নেই খসড়ায়।
দেশগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সৌদি আরব, রাশিয়া ও ভারতের মতো বড় ভোক্তা দেশগুলোর চাপেই ব্রাজিল রোডম্যাপটি বাদ দিয়েছে। এরপর কিছু প্রতিনিধি গত বৃহস্পতিবার আলোচনা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেন। ঠিক তখনই সম্মেলন কেন্দ্রের একটি অংশে আগুন লাগে। এর ফলে ৬ ঘণ্টারও বেশি স্থগিত থাকে আলোচনা।
গার্ডিয়ানের দেখা আরেকটি চিঠিতে রোডম্যাপ-সমর্থক দেশগুলো এটিকে ‘সতর্ক সীমা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা সে চিঠিতে লিখেছে, ‘জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে একটি ন্যায়সংগত, সুশৃঙ্খল ও সমতাভিত্তিক রূপান্তর নিশ্চিত করতে রোডম্যাপ ছাড়া আমরা কোনো ফলাফল মেনে নিতে পারি না। বিজ্ঞান ও বৈশ্বিক জনগোষ্ঠীও একই প্রত্যাশা করে। কপ৩০ থেকে এর কম কিছু হলে তা অবশ্যই পিছিয়ে যাওয়া হিসেবে দেখা হবে।’
এটি কপ২৮-এর গ্লোবাল স্টকটেকের প্রসঙ্গ টানে, যেখানে প্রথমবারের মতো সব দেশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতি দেয়, যদিও সময়সীমা বা বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়নি সে সময়। এর পর থেকেই সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশ ওই প্রতিশ্রুতিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। কপ২৯-এ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
চলতি বছর রোডম্যাপ সমর্থনকারী দেশগুলো নতুন কৌশল নেয়। যাতে সব দেশ অংশ নিয়ে আলোচনা করতে পারে, এমন একটি ফোরাম তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে কাউকে তাৎক্ষণিক সময়সীমা মানতে হতো না, প্রত্যেক দেশ নিজস্ব পথে রূপান্তর পরিকল্পনা করতে পারত। ৮০টিরও বেশি দেশ এই উদ্যোগে যোগ দেয় এবং মঙ্গলবার যৌথভাবে ঘোষণা করে।
কিন্তু সৌদি আরব, মিসর, ইরান, বলিভিয়াসহ ‘লাইক-মাইন্ডেড ডেভেলপিং কান্ট্রিজ’ নামক গোষ্ঠী এ ধরনের রোডম্যাপের কঠোর বিরোধিতা করছে এবং তাদের চাপেই খসড়া থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাষা বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রসঙ্গত, রোডম্যাপটি এই কপেই চূড়ান্ত করার কথা ছিল না। বরং আগামী এক বছর বা আরও বেশি সময় ধরে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।