হোয়াইট হাউসের ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, চলতি সপ্তাহান্তে বজ্রগতির সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর দেশটির নেতৃত্বে নামমাত্র এক মিত্রকে বসাননি ডোনাল্ড ট্রাম্প, কারণ ওই ব্যক্তি (মারিয়া কোরিনা মাচাদো) তার (ট্রাম্পের) ব্যক্তিগত ইগুতে আঘাত করেছিলেন।
অনেকে ধারণা করেছিলেন, মাদুরোকে শনিবার ভোরে আটক করার পর ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেলসমৃদ্ধ রাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিরোধী মাচাদোকে নিয়োগ দিতে পারে।
কিন্তু হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ দু’টি সূত্র আজ সোমবার মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছে, ট্রাম্প তা করেননি, কারণ মাচাদো তার ‘চূড়ান্ত অপরাধ’ করেছেন, আর সেটি হলো ট্রাম্পের আত্মসম্মানে আঘাত।
সূত্রগুলো বলেছে, গত নভেম্বর নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করার সময় মাচাদো সেটি প্রত্যাখ্যান করেননি, যদিও নোবেল কমিটি ট্রাম্পকে পুরস্কার না দেওয়ার প্রতিবাদ হিসেবে তিনি তা ফিরিয়ে দিতে পারতেন। ট্রাম্প এটাকেই অপমান হিসেবে দেখেছেন।
সূত্রগুলোর ভাষায়, “যদি মাচাদো পুরস্কারটি ফিরিয়ে দিয়ে বলতেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পকে না দেওয়া হলে আমি এটা নিতে পারি না,’ তাহলে আজ তিনিই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হতেন।”
এর আগে ট্রাম্প ও তার মিত্ররা প্রকাশ্যে ও আড়ালে একটি সমন্বিত প্রচার চালাচ্ছিলেন—তাকে ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে তুলে ধরে বিশ্বের নানা জটিল ও চলমান সংঘাতের সমাধানকারী হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কার আদায়ের লক্ষ্যে।
সমালোচকদের মতে, ট্রাম্পের নির্দেশে মাদুরোকে আটক করার এই অভিযান প্রায় নিশ্চিতভাবেই অবৈধ এবং আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। এর আগে বড়দিনে যুক্তরাষ্ট্র নাইজেরিয়ায় উগ্র বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালায়। যদিও নাইজেরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র।
এরপর ট্রাম্প কলম্বিয়ার বিরুদ্ধেও সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন, যা আরেকটি মার্কিন মিত্র দেশ। একই সঙ্গে তার মিত্ররা আবারও পানামা এবং ডেনমার্কের ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড দখলের পুরোনো হুমকি নতুন করে উসকে দেন।
শনিবার সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, মাচাদোকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট করা হবে কি না, তিনি জবাব দেন, “ওর পক্ষে নেতা হওয়া খুব কঠিন হবে, কারণ দেশের ভেতরে তার যথেষ্ট সমর্থন বা সম্মান নেই।”
উল্লেখ্য, বিরোধী জোটের বিকল্প প্রার্থী এদমুন্দো গঞ্জালেস গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। কিন্তু মাদুরো ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকার করায় সেই ফল বাস্তবায়িত হয়নি।
নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর মাচাদো ও তার দল কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল। তিনি পুরস্কারটি গ্রহণ করলেও প্রকাশ্যে সেটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেন এবং ভেনেজুয়েলার বিপর্যস্ত রাজনৈতিক বিরোধীদের সমর্থক হিসেবে তাকে তুলে ধরেন।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ট্রাম্প তাকে অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেও বিবেচনা না করায় মাচাদো পুরোপুরি বিস্মিত হন। এখনো পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক রূপান্তর কীভাবে পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে খুব সামান্য তথ্যই প্রকাশ করেছে। সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
মাহফুজ/