ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী সবার সহযোগিতায় বাসডুবিতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী নতুনধারার ‘কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল লক্ষ্মীপুরে হাসপাতালে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরকে বলাৎকার, ওয়ার্ডবয় আটক জিয়া স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী চীনের ইভি প্রযুক্তিতে গাড়ি বানাবে ভারতের টাটা পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইন ঠেকালো বিজিবি, বিএসএফকে কড়া প্রতিবাদ হবিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাবা-ছেলের মৃত্যু দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও সীমান্তে পুশইনের আশঙ্কা: বিজিবির নজরদারি জোরদার
Nagad desktop

রয়টার্সের প্রতিবেদন জামায়াতের উত্থানে উদ্বিগ্ন মধ্যপন্থি ও সংখ্যালঘুরা

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
জামায়াতের উত্থানে উদ্বিগ্ন মধ্যপন্থি ও সংখ্যালঘুরা

দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে সমালোচিত থাকা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামী এখন নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলটি নতুন সমর্থন পাচ্ছে। এই উত্থান মধ্যপন্থি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। গতকাল বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৭৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বে হওয়া এক গণ-অভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারান। ওই ঘটনার পর থেকেই জামায়াত নিজেদের সংগঠন ও কৌশলে বড় পরিবর্তন আনে। শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে। জামায়াত সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে।

দলটি দুর্নীতিবিরোধী ভাবমূর্তি, সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং তুলনামূলকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক বক্তব্যকে সামনে এনে নির্বাচনে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো ফল অর্জনের আশা করছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের ডিসেম্বর মাসের এক জরিপে জামায়াত দেশের সবচেয়ে ‘পছন্দের’ রাজনৈতিক দল হিসেবে দেখানো হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দলটি বিএনপির সঙ্গে শীর্ষ অবস্থানের জন্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতি করি না। আমরা কল্যাণমূলক রাজনীতি শুরু করেছি।’ তিনি জানান, দলটি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করেছে, বন্যাকবলিত মানুষকে সহায়তা দিয়েছে এবং আন্দোলনে নিহতদের পরিবারকে সাহায্য করেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারান।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াত ও তাদের সহযোগীরা এখন যে গঠনমূলক রাজনীতি করছে, তাতে মানুষ আস্থা ও বিশ্বাস রাখবে।’ তার মতে, জনগণ এই রাজনীতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।

জামায়াতে ইসলামীর জন্ম ১৯৪০-এর দশকের শুরুতে ব্রিটিশ ভারতের প্রেক্ষাপটে। দলটি ইসলামি নীতির ভিত্তিতে সমাজ ও 

রাষ্ট্র পরিচালনার পক্ষে ছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জামায়াত স্বাধীনতার বিরোধিতা করে। শেখ হাসিনার শাসনামলে দলটির অনেক শীর্ষ নেতা যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন এবং কারাগারে পাঠানো হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো ওই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করেছিল।

২০১৩ সালে বাংলাদেশের একটি আদালত জামায়াতের গঠনতন্ত্রকে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে। এরপর দলটিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা গত বছর তুলে নেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয় পায়। তারা শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের গড়া জাতীয় নাগরিক পার্টিকেও (এনসিপি) পরাজিত করে।

এরপর জামায়াত ওই এনসিপির সঙ্গে জোট গঠন করে। বিশ্লেষকদের মতে, এই জোট জামায়াতের ভাবমূর্তি কিছুটা নরম করতে সাহায্য করেছে। ঢাকার এক ব্যস্ত বাজারে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে ডাব বিক্রি করা ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ জালাল বলেন, ‘মানুষ নতুন কিছু চায়। তার ভাষায়, নতুন অপশন হলো জামায়াত। তাদের ভাবমূর্তি পরিষ্কার। তারা দেশের জন্য কাজ করে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ধর্মতাত্ত্বিক শাফি মোস্তাফা বলেন, একসময় বিতর্কিত ও সীমিত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে পরিচিত জামায়াত এখন বাস্তববাদী ও কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বী দলে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকারের কর্তৃত্ববাদী আচরণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করেছে। সেই ক্ষোভের সুযোগ নিয়ে জামায়াত আবার ‘ইসলামই সমাধান’ স্লোগান তুলে ধরছে এবং নিজেকে নৈতিক বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করছে।

এই প্রথম জামায়াত একজন হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। দলটি সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হওয়া হামলার 
বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে কথা বলেছে। দলের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তারা ইসলামি মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চায়।

দলটির নেতারা নারীদের সমান অধিকারের আশ্বাস দিলেও, ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে একজন নারী প্রার্থীও মনোনয়ন পায়নি। শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের পর সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মাধ্যমে নারীরা প্রতিনিধিত্ব পাবে।’ তবে নারী অধিকার সংগঠন নারীপক্ষের নেতা শিরীন হক বলেন, ‘এই আশ্বাস কেবল একটি নির্বাচনি কৌশল। তার মতে, ক্ষমতায় গেলে দলটি আবার তাদের পুরোনো মতাদর্শে ফিরে যাবে, যেখানে নারীদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।’

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সামনের সারিতে থাকা ২৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী উমামা ফাতেমা বলেন, ‘জামায়াতের বক্তব্যে দ্বিচারিতা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এক দিন তারা নারী ক্ষমতায়নের কথা বলে। পরের দিন নারীদের পাঁচ ঘণ্টা কাজ করার প্রস্তাব দেয়, যাতে তারা পরিবার দেখাশোনা করতে পারে।’ তিনি জামায়াত প্রধানের এমন বক্তব্যের কথাই উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীগুলো আরও সাহসী হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ও সুফি মাজারে হামলা হয়েছে। ধর্মীয়ভাবে ‘অইসলামিক’ বলা অনুষ্ঠান, যেমন লোকসংগীত পরিবেশনা ও নারীদের ফুটবল ম্যাচেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

অন্তর্বর্তী সরকার এসব ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে শূন্য সহনশীলতা নীতি প্রয়োগের কথা বলেছে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাংলাদেশে হিন্দুরা সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু। তারা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ। এরপর বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।

একজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘সংখ্যালঘুরা কোনো সরকারের আমলেই প্রকৃত সুরক্ষা পায়নি। তবে বর্তমানে যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা আগে কখনো দেখা যায়নি।’ তিনি বলেন, ‘যদি জামায়াত নেতৃত্বাধীন কোনো জোট ক্ষমতায় আসে, তাহলে বাংলাদেশ একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’ তার ভাষায়, আজ তিনি নিজের জীবনের জন্য ভয় পাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা থাকবে কি না, তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বিগ্ন।

জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র আহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘জামায়াত কখনো ধর্মের নামে সহিংসতা বা অসহিষ্ণুতা সমর্থন করেনি এবং কখনো এতে জড়িতও ছিল না।’ তিনি এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।

জামায়াতে ইসলামী আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের শরিক ছিল। বর্তমানে দলটি দেশের প্রায় সব ইসলামপন্থি দলের সঙ্গে নির্বাচনি জোট গঠন করেছে। এর মধ্যে কিছু দল আরও রক্ষণশীল। জামায়াত গত বছরের শুরুতেই প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করে এবং ভোটারদের মনোভাব বুঝতে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়।

জামায়াত নেতা মীর আহমদ বিন কাসেম বলেন, ‘জামায়াত তাকে গত বছরের এপ্রিল মাসে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তার বাবা একজন জামায়াত নেতা ছিলেন এবং শেখ হাসিনার শাসনামলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি হয়।’ মীর আহমদ জানান, জামায়াত তাদের কাছে তথ্য উপস্থাপন করে দেখায় যে, মানুষ পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর বিরক্ত এবং পরিবর্তন চায়। তিনি বলেন, ‘দলটি মনে করেছিল বাস্তব সুযোগ আছে। সে কারণেই তিনি জামায়াতে যোগ দেন।’

কিছু বিশ্লেষকের মতে, জামায়াত ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে পারে। এতে শেখ হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে গড়ে ওঠা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ব্যতিক্রম ঘটতে পারে। তবে শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াত কোনো নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকতে চায় না।’ তিনি বলেন, ‘দলটি সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চায় এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।’

প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’
প্রতীকী ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের একটি ভ্যাকসিন তৈরি করেছেন গবেষকরা। এই ভ্যাকসিনটি ভাইরাসের বড় একটি গ্রুপকে ধ্বংস করতে পারে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো মহামারি প্রতিরোধে সাহায্য করবে। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এই দাবি করেছেন।

গবেষকরা জানান, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এবারই প্রথম ভ্যাকসিনের মূল উপাদানটি সম্পূর্ণভাবে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে। এরপর সেটি মানুষের শরীরে ট্রায়াল বা পরীক্ষা করা হয়েছে। এই ভ্যাকসিনটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা সব ধরনের করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করবে। এর মধ্যে কোভিডের সব ভ্যারিয়েন্ট যেমন থাকবে, তেমনি পশুপাখির শরীরে থাকা অন্যান্য করোনাভাইরাসও থাকবে, যা ভবিষ্যতে মানুষের মধ্যে মহামারি ছড়াতে পারে।

এই কাজটির এখনো প্রাথমিক ধাপ চলছে। তবে গবেষক দলটি ইতোমধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু) ও ইবোলার জন্য আলাদা ভ্যাকসিন তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে।

ভ্যাকসিনটি যেভাবে কাজ করে
সাধারণত প্রচলিত ভ্যাকসিনগুলো ভাইরাসের বর্তমান কোনো স্ট্রেন বা রূপ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। কিন্তু কেমব্রিজের গবেষকরা একটু ভিন্ন পথ বেছে নেন। বিভিন্ন নজরদারি কর্মসূচির মাধ্যমে আগে থেকে রেকর্ড করা একগুচ্ছ করোনাভাইরাসের জেনেটিক কোড সংগ্রহ করেন তারা। 

এই জেনেটিক কোডগুলোকে বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। এরপর এআই একটি ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’ ডিজাইন করে। অ্যান্টিজেন হলো ভ্যাকসিনের সেই গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শেখায়। এআইয়ের ডিজাইন করা এই সুপার-অ্যান্টিজেন মানুষের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে এমনভাবে তৈরি করে, যাতে পুরো ভাইরাস পরিবার মিউটেশন বা রূপবদল করলেও শরীর তার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে। এমনকি পশু থেকে মানুষের শরীরে নতুন কোনো সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লেও এটি কাজ করবে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোনাথন হীনি বলেন, ‘এটিই প্রথম এআইয়ের ডিজাইন করা কোনো অ্যান্টিজেন মানুষের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হয়েছে।’ প্রযুক্তিটির সাফল্যে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বিবিসি নিউজকে বলেন, ‘এর উদ্দেশ্য হলো এমন ভ্যাকসিন তৈরি করা, যা শুধু আজকের ভাইরাস থেকেই আমাদের বাঁচাবে না, বরং ভবিষ্যতে যে ভাইরাসগুলো পরবর্তী মহামারি বা রোগ ছড়াতে পারে, সেগুলো থেকেও সুরক্ষা দেবে। মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতিতে এটি একটি মৌলিক পরিবর্তন।’

ট্রায়ালের ফলাফল ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ভ্যাকসিনটি নিরাপদ কি না, তা যাচাই করতে ৩৯ জন মানুষের ওপর প্রথম পরীক্ষা চালানো হয়। এরপর প্রায় ২০০ জনের ওপর দ্বিতীয় আরেকটি গবেষণা করা হবে, যা থেকে বোঝা যাবে এটি মানুষের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে কতটা ভালোভাবে প্রস্তুত করছে।

‘জার্নাল অব ইনফেকশন’-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব এখনো ‘পরিমিত’ বা মাঝারি। তবে তা সত্ত্বেও এটি বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের অধ্যাপক সল ফস্ট, যিনি এই ট্রায়ালের কিছু অংশ পরিচালনা করেছেন, তিনি বলেন, ‘ভাইরাস যখন দ্রুত রূপ পরিবর্তন করে, তখন সম্ভাব্য মহামারির জন্য ভ্যাকসিন ডিজাইনে এই প্রযুক্তিটি অনেক বেশি কার্যকর।’

কেমব্রিজের দলটি এখন একটি সর্বজনীন ‘সিজনাল ফ্লু’ ভ্যাকসিনের ওপর এনিম্যাল ট্রায়াল বা পশুর ওপর গবেষণা চালাচ্ছে, যা প্রতিবছর পরিবর্তন করার প্রয়োজন হবে না। এ ছাড়া তারা ‘এইচ৫এন১’ বার্ড ফ্লু ও ইবোলার মতো রক্তক্ষরণকারী জ্বরের ভ্যাকসিনের ওপরও কাজ করছে। কঙ্গোতে বর্তমানে ইবোলার এমন একটি প্রজাতির প্রাদুর্ভাব চলছে, যার কোনো ভ্যাকসিন নেই।

অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপের পরিচালক অধ্যাপক অ্যান্ডি পোলার্ড এই গবেষণার প্রশংসা করে বলেন, এআই প্রযুক্তি ভ্যাকসিন গবেষণায় আমূল পরিবর্তন আনবে। এটি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কেমন হবে তা আগে থেকেই অনুমান করতে পারবে। ফলে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ দ্রুত হবে ও মানুষের জীবন বাঁচবে।

যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞান মন্ত্রী লর্ড ভ্যালেন্স একে ব্রিটিশ বিজ্ঞানের আরেকটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রথম মানব ট্রায়ালে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ায় এই কাজ ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে মানুষের কল্যাণে দ্রুত ভ্যাকসিন পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে।’
সূত্র: বিবিসি

কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম
ফিরহাদ হাকিম | ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ফিরহাদ হাকিম।

শুক্রবার (৫ জুন) কলকাতা পৌরসভায় সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে প্রায় সাড়ে সাত বছর মেয়র পদে ছিলেন কলকাতা বন্দরের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ফিরহাদ। কলকাতা পৌরসভার চেয়ারম্যান মালা রায়ের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

ফিরহাদ কলকাতা পৌরসভার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। ২০০০, ২০০৫ এবং ২০১০ সালে এই ওয়ার্ড থেকেই তৃণমূলের টিকিটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে ফিরহাদ পৌরভোটে লড়েননি। ২০১৫ সালে ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রণব বিশ্বাস। ২০১৮ সালে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পর কলকাতার মেয়র হওয়ার পর ওই ওয়ার্ড থেকেই উপনির্বাচনে জিতে আসেন ফিরহাদ। ২০২১ সালে ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

মেয়র হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার মাস ছয়েক আগেই পদত্যাগ করলেন ফিরহাদ। তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে লালবাড়িতে (কলকাতার পৌরসভার লালরঙা ভবন) তৃণমূল শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান হলো বলে মনে করা হচ্ছে।

এসএন/

তৃণমূলে বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘ভাইপোবিরোধী’ হাওয়া

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
তৃণমূলে বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘ভাইপোবিরোধী’ হাওয়া
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ঘটে গেল এক বিরাট রাজনৈতিক বিস্ফোরণ। রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস এখন আনুষ্ঠানিকভাবে দুই শিবিরে বিভক্ত। দলের বিক্ষুব্ধ নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দলের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনকে সঙ্গে নিয়ে একটি সম্পূর্ণ আলাদা গোষ্ঠী গঠন করেছেন। বিধানসভার স্পিকারের কাছ থেকে প্রধান বিরোধী দলের নেতার স্বীকৃতিও আদায় করে নিয়েছেন তিনি। মাত্র তিন দিন আগেই মমতা তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। তবে বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার পর ঋতব্রত স্পষ্ট জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তার একমাত্র নেত্রী। দল ভাঙার কোনো উদ্দেশ্য তার নেই। তার এই লড়াই মূলত দলের ভেতরে থাকা ‘এক ব্যক্তির’ একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে। তিনি চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন আগের মতোই তাদের পথপ্রদর্শক হিসেবে পাশে থাকেন।

স্বভাবতই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, কে সেই রহস্যময় ব্যক্তি, যার কারণে আজ তৃণমূল কংগ্রেসে এই নজিরবিহীন ভাঙন ধরল? বাংলার রাজনৈতিক মহল এবং খোদ দলের অন্দরের মানুষ ভালো করেই জানেন, এই ব্যক্তি আর কেউ নন, তিনি হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

কিন্তু কেন দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই একজন মাত্র মানুষের বিরুদ্ধে এভাবে এককাট্টা হলেন? বিষয়টি বুঝতে হলে তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক কাঠামো ও তার বিবর্তনকে খুঁটিয়ে দেখতে হবে। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন নিজের একক পরিশ্রমে বাংলায় বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের দুর্ভেদ্য দুর্গের পতন ঘটান, তার পরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সক্রিয় রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে। দ্রুত তাকে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি করা হয়। ২০১৪ সাল থেকে তিনি ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের এমপি এবং বর্তমানে দলের সাধারণ সম্পাদক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো হওয়ার সুবাদে দলে অভিষেকের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি দিনে দিনে আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। তাকে অলিখিতভাবে দলের প্রধান উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখা হতে থাকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তার বহু পুরোনো ও বিশ্বস্ত সহকর্মীদের চেয়ে অভিষেককে বেশি ভরসা করতে শুরু করেন। এর ফলে দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা ধীরে ধীরে কোণঠাসা হয়ে পড়েন এবং সংগঠনের রাশ পুরোপুরি অভিষেকের মুঠোয় চলে যায়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলের ভালো ফলের পর অভিষেকের এই দাপট আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। যে দলটিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, রাজপথে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন করে গড়ে তুলেছিলেন, তা ভেতর থেকে এভাবে ক্ষয়ে যাচ্ছিল অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টেরই পাননি।

তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতার মতে, দলের অভিজ্ঞ নেতারা অভিষেকের এই আগ্রাসী এবং করপোরেট ধাঁচের দল চালনা পদ্ধতি একদমই মেনে নিতে পারেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির মূল ভিত্তি ছিল মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং আবেগের বন্ধন। অন্যদিকে অভিষেক তৃণমূলের চিরাচরিত ‘নিচ থেকে ওপরে’ ওঠার রাজনীতির বদলে ‘ওপর থেকে নিচে’ নিয়ন্ত্রণ চাপানোর নীতি চালু করে। রাজনীতিতে যুক্ত হয় ডেটাচালিত কৌশল এবং ক্ষমতার জবরদস্তিমূলক আধিপত্য। ফলে দল থেকে দিদির সেই পরিচিত মানবিক স্পর্শ হারিয়ে যায়, আর তার জায়গা নেয় শুষ্ক পরিসংখ্যান ও দর-কষাকষির সংস্কৃতি। দলের একজন প্রবীণ নেতা মমতা ও অভিষেকের এই কার্যপদ্ধতির তুলনা করতে গিয়ে চমৎকার একটি মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘একজন হলেন রবীন্দ্রসংগীত, আর অন্যজন হলেন ডিজে মিউজিক।’

অভিষেকের এই আধিপত্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল একধরনের দূরত্ব ও অহংকার। কলকাতার রাজনৈতিক মহলে কান পাতলেই শোনা যায়, সাধারণ কাউন্সিলর থেকে শুরু করে বিধায়কদের পক্ষেও অভিষেকের সঙ্গে দেখা করা ছিল একপ্রকার অসম্ভব। বহু নেতাকে তার বিলাসবহুল বাড়ির বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হতো, এরপর হয়তো বার্তা আসত যে সাক্ষাৎ সম্ভব নয়। অথচ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করা ছিল অনেক সহজ।

আজ যখন বিধানসভা নির্বাচনের এক মাসের মাথায় এসে তৃণমূল কংগ্রেস তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে, তখন দলের ভেতরের সব আঙুল উঠছে একজনের দিকেই—তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহীরা এখনো প্রকাশ্যেই বলছেন যে দিদিই তাদের নেত্রী এবং তারা দিদির নির্দেশেই চলতে চান। কিন্তু একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিপত্য সংস্কৃতি তারা আর কোনোমতেই বরদাশত করবেন না। সূত্র: এনডিটিভি

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় চারজন বিদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন।

এদের মধ্যে দুজন সিরীয় ও দুজন বাংলাদেশি।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)-কে উদ্ধৃত করে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

এনএনএ জানিয়েছে, একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়া জেলার আব্বা ও আল-দুওয়াইর শহরের মধ্যবর্তী ওয়াতা আব্বার আল-মাশাল এলাকায় দুই দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে।

দিল্লির মালব্য নগরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হোটেল মালিক

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
দিল্লির মালব্য নগরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হোটেল মালিক
ছবি: সংগৃহীত

দিল্লির মালব্য নগরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলের মালিক লাভকেশ বাজাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৩ জুন) গভীর রাতে হোটেলটির মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

দিল্লি পুলিশ জানায়, ওই অগ্নিকাণ্ডের পরেই গা-ঢাকা দিয়েছিলেন লাভকেশ বাজাজ এবং তার স্ত্রী।

বুধবার সকালে আগুন লাগে মালব্য নগরের ঝাঁ চকচকে বেড-অ্যান্ড-ব্রেকফাস্ট হোটেলে। এ ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৮ জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ২১ জনের।

চিকিৎসার জন্য আসা দেশ-বিদেশের অনেকেই উঠতেন হোটেলটিতে। ধারণা করা হচ্ছে নিচ তলায় থাকা রেস্তোরাঁ থেকে সূত্রপাত আগুনের।

হোটেলটি থেকে প্রায় ৪০ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ এবং দমকলবাহিনী। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ওই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে হোটেলটির বিরুদ্ধে। অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ঠিক না থাকাসহ অনুমোদন ছাড়া ঘর তৈরি করা।

আমান/