তুরস্কের পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘কান’ (KAAN) প্রকল্পে সৌদি আরবের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প প্রশাসন। সৌদি আরব অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে অংশীদার দেশগুলোর তালিকা বহুমুখী করার চেষ্টা করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র রপ্তানি আধিপত্যের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা। তাদের মতে, তুরস্কের মতো দেশের সঙ্গে সৌদির চুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্র সৌদির অস্ত্রবাজারে নিজেদের অংশ হারাতে পারে।
গত নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে সংবর্ধনা দিয়ে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, সৌদি আরব উন্নতমানের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কিনবে এবং একটি বড় কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি হবে। তবে সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা সৌদি আরবের কাছে জানতে চাইছেন—অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাদের অস্ত্র আলোচনা কতদূর এগিয়েছে।
ওয়াশিংটনের চাপের পর সৌদি আরব পাকিস্তানের জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা বাদ দিয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে। কিন্তু তুরস্কের ‘কান’ প্রকল্পে সৌদি অংশগ্রহণ বিষয়ে এখনো একই ধরনের নিশ্চয়তা দেয়নি।
ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বিলাল সাব বলেন, সৌদি আরবের অস্ত্রভাণ্ডার ইতোমধ্যে শক্তিশালী। তাদের কাছে উন্নত এফ-১৫ রয়েছে, ইউরো টাইফুনও আছে এবং তারা এফ-৩৫ পেতে যাচ্ছে। ফলে তুরস্কের যুদ্ধবিমান তাদের জন্য কতটা প্রয়োজনীয় তা প্রশ্নসাপেক্ষ।
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, এটি এফ-৩৫-এর বিকল্প নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও অস্ত্র কেনার সুযোগ সৌদি আরব নষ্ট করছে। তাদের ভাষ্য, ট্রাম্প প্রশাসন চায় যুক্তরাষ্ট্রই যেন সৌদি আরবের একমাত্র প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব এফ-৩৫ ও কান—দুই ধরনের যুদ্ধবিমানই কিনতে পারে। তবে কান প্রকল্পে জেনারেল ইলেকট্রিকের এফ১১০ ইঞ্জিন প্রয়োজন। অন্যদিকে, সৌদি আরব উৎপাদন সহযোগী ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চায়, যা যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলক ধীরগতিতে দিচ্ছে। ভিশন ২০৩০ অনুযায়ী সৌদি আরব প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ৫০ শতাংশ স্থানীয় উৎপাদনে আনতে চায়। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সৌদিকে বিকল্প অংশীদারদের দিকে আরও এগিয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
মাহফুজ/