সম্প্রতি তিনটি চীনা জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। গতকাল মঙ্গলবার এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ তথ্য জানান। তার দেওয়া তথ্যানুসারে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ওই জাহাজ তিনটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। ব্রিফিংয়ে তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার আহ্বানও জানান।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। মুখপাত্র মাও জাহাজগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, দুটি চীনা কনটেইনার জাহাজ সোমবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর আগে গত শুক্রবার তারা ফিরে গিয়েছিল, পরে দ্বিতীয় চেষ্টায় সফল হয়।
মেরিন ট্রাফিক প্ল্যাটফর্মের তথ্য বলছে, জাহাজ দুটি কাছাকাছি অবস্থানে থেকে প্রণালি পার হয়ে খোলা সমুদ্রে প্রবেশ করে। কেপলারের ডেটা বিশ্লেষক রেবেকা গার্ডেস বলেন, ‘দুটি জাহাজই আজ (মঙ্গলবার) দ্বিতীয় চেষ্টায় সফলভাবে পার হয়েছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ ছাড়া এটিই প্রথম কনটেইনার জাহাজ যা পারস্য উপসাগর ছেড়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে জাহাজ দুটি তুলনামূলক বেশি গতিতে ওমান উপসাগরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’
এই জাহাজ দুটি পরিচালনাকারী চীনা শিপিং প্রতিষ্ঠান কসকো কোনো মন্তব্যের- অনুরোধের জবাব দেয়নি। এর আগে ২৫ মার্চ কসকো এক পরামর্শ বার্তায় জানায়, তারা আবারও সাধারণ কার্গো কনটেইনার বুকিং চালু করেছে, যা এশিয়া থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত ও ইরাকে যাবে।
ইরান উপসাগরে জাহাজ চলাচলে হামলা চালিয়েছে এবং আরও হামলার হুমকি দিয়েছে, যার ফলে শত শত জাহাজ এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক সেখানে আটকে পড়েছেন। সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল এবং কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসসহ জ্বালানি রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
ইরানসহ ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশের সঙ্গে কিছু আলোচনা হলেও, তেল ও ট্যাঙ্কার বাজার এখন অপেক্ষা করছে কখন জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে তার কোনো ইঙ্গিত পাওয়ার জন্য।
এই জলপথ দিয়ে যে অল্প কিছু জাহাজ চলাচল করেছে, তার বেশির ভাগই ইরানের তেল রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। প্রতিদিন খুব অল্প কিছু জাহাজই পার হতে পেরেছে।
এদিকে, একটি গ্রিক পরিচালিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার, যা সৌদি তেল নিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল, সেটিও সম্প্রতি প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে। মাল্টার পতাকাবাহী ‘মারাথি’ নামের জাহাজটি ২ মার্চ উপসাগরের ভেতরে সর্বশেষ অবস্থান জানায় এবং পরে ২৬ মার্চ ভারতের উপকূলের কাছে তার অবস্থান সম্প্রচার শুরু করে।
সোমবার সেটিকে ভারতের পশ্চিম উপকূলের কাছে দেখা গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গ্রিক প্রতিষ্ঠান ডাইনাকম পরিচালিত এটি তৃতীয় তেলবাহী জাহাজ, যা উপসাগর থেকে বের হতে পেরেছে।
ডাইনাকমও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ডাইনাকম এমন কিছু জাহাজমালিকদের মধ্যে একটি, যারা হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের ঝুঁকি নিতে রাজি, যেখানে ইরানের সম্ভাব্য হুমকির মধ্যে রয়েছে ভাসমান মাইন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন।
সূত্র জানায়, এই পথে যাওয়া অনেক কোম্পানি নিজেদের জাহাজকে কম দৃশ্যমান রাখতে ট্র্যাকিং ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা এবং রাতে যাত্রার মতো কৌশল ব্যবহার করছে। এ ছাড়া ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি এলপিজি ট্যাঙ্কার শনিবার প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর আগে আরও দুটি জাহাজ ভারতে রান্নার গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উপসাগর ছেড়েছে। সূত্র: রয়টার্স