যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) অবরোধ শুরু হওয়া এক দিন পর এ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় মার্কিন নৌ অবরোধ ভেদ করে কোনো জাহাজই এগোতে পারেনি। ইতোমধ্যে ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ ফিরে যাওয়ার নির্দেশ মেনেছে।
যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনী জানায়, সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধ শুধুমাত্র ইরানগামী বা ইরান থেকে আসা জাহাজগুলোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এর মধ্যে পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানের সব বন্দর অন্তর্ভুক্ত।
যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজই অবরোধ অতিক্রম করতে পারেনি এবং ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ নির্দেশনা মেনে ওমান উপসাগরে অবস্থিত একটি ইরানি বন্দরে ফিরে গেছে।
এতে বলা হয়, ১০ হাজারের বেশি যুক্তরাষ্ট্রের সেনা, এক ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং কয়েক ডজন বিমান এই অবরোধ কার্যকরে কাজ করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশকারী বা সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া সব দেশের জাহাজের বিরুদ্ধে এই অবরোধ নিরপেক্ষভাবে কার্যকর করা হচ্ছে।
গত সোমবার অবরোধ প্রসঙ্গে নাবিকদের কাছে পাঠানো এক নোটে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনী বলেছে, ‘অনুমতি ছাড়া অবরোধ অঞ্চলে প্রবেশ বা সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া যেকোনো জাহাজ আটক, পথ পরিবর্তন এবং জব্দ করা হবে।’
নোটে আরও বলা হয়, এই অবরোধ ইরানের সমগ্র উপকূলজুড়ে থাকবে, তবে খাদ্য, চিকিৎসাসামগ্রী এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্যসহ মানবিক চালানগুলো পরিদর্শন সাপেক্ষে প্রবেশের অনুমতি পাবে।
ইরানের সঙ্গে ছয় সপ্তাহব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শেষ করার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প এই অবরোধের ঘোষণা দেন।
আরও আলোচনার আশায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেলেও মঙ্গলবার তা কিছুটা কমে আসে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই অবরোধ একটি বড় ও অনির্দিষ্টকালের সামরিক প্রচেষ্টা, যা তেহরানের পক্ষ থেকে নতুন করে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা উসকে দিতে পারে এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সূত্র: রয়টার্স
অমিয়/