পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনায় গুলিতে নিহত বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের জীবনপথ ছিল বেশ ব্যতিক্রমধর্মী। ভারতীয় বিমান বাহিনীতে দীর্ঘদিন চাকরি করার পর তিনি ধীরে ধীরে রাজনীতির অন্দরে গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ৪১ বছর বয়সী রথের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে- যে অঞ্চল শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক উত্থানের অন্যতম কেন্দ্র। মৃদুভাষী ও প্রচারবিমুখ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই তিনি জনসমক্ষে খুব একটা আসতেন না, যদিও অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে তিনি ছিলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি।
রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনে পড়াশোনা শেষ করে রথ প্রায় দুই দশক ভারতীয় বিমান বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। পরিবার-ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, ছাত্রজীবনে রামকৃষ্ণ মিশনের আদর্শে প্রভাবিত হয়ে তিনি একসময় আধ্যাত্মিক জীবন বেছে নেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।
বিমান বাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার পর তিনি কিছুদিন কর্পোরেট খাতে কাজ করেন। পরে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক সমন্বয় ও প্রশাসনিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত হন।
অধিকারী পরিবারের মতো তার পরিবারও একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ ছিল। তার মা হাসি রথ ২০২০ সালে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূল আমলে একটি স্থানীয় পঞ্চায়েতের দায়িত্ব পালন করেন।
পরিবারের পরিচিতরা জানান, রথ পরিবারের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সম্পর্ক দুই দশকেরও বেশি পুরোনো। ২০১৯ সালের দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেন্দু অধিকারীর দাপ্তরিক দলে যুক্ত হন, যখন অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। পরে শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরও তিনি একইভাবে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ চালিয়ে যান।
বছরের পর বছর ধরে রথ শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম নেপথ্য সংগঠক হয়ে ওঠেন। সাংগঠনিক সমন্বয়, প্রচার ব্যবস্থাপনা, রসদ তদারকি এবং দলীয় কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তিনি সামলাতেন।
বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্রের ভাষ্য, তিনি ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর সম্পূর্ণ আস্থাভাজন এবং সংবেদনশীল রাজনৈতিক দায়িত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন।
বিজেপির ভবানীপুর অভিযানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। দলীয় মহলে এমন আলোচনাও ছিল, ভবিষ্যতে শুভেন্দু অধিকারী সরকারে আরও বড় ভূমিকা পেলে চন্দ্রনাথ রথকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
কিন্তু বুধবার (৬ মে) রাতে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী দুষ্কৃতকারীরা তার গাড়ি থামিয়ে খুব কাছ থেকে গুলি চালালে সেই সম্ভাবনার আকস্মিক অবসান ঘটে।
তার হত্যাকাণ্ড পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে এবং বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সূত্র: এনডিটিভি
>> চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ডে রোমহর্ষক তথ্য পেল পুলিশ
অমিয়/