দারিদ্র্য, সংগ্রাম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য উদাহরণ কলিতা মাজি। একসময় জীবিকার তাগিদে অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করা এই নারী আজ রাজ্যের মন্ত্রিসভার সদস্য।
তার এই উত্থান শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং সমাজের প্রান্তিক মানুষের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম।
সোমবার (১ জুন) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন কলিতা মাজি।
রাজভবনে আয়োজিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী এবং সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা। শপথের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করলেন তিনি।
জানা যায়, অত্যন্ত সাধারণ একটি পরিবারে জন্ম নেওয়া কলিতা মাজির শৈশব কেটেছে অভাব-অনটনের মধ্যে। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে অল্প বয়সেই তাকে কাজের সন্ধানে বের হতে হয়। একসময় জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেছেন। তবে কঠিন বাস্তবতা তার স্বপ্নকে থামিয়ে রাখতে পারেনি।
পরবর্তীতে তিনি স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হন। সাধারণ মানুষের সমস্যা, বিশেষ করে নারী, শ্রমজীবী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এলাকায় জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ধীরে ধীরে দলের তৃণমূল পর্যায়ে নিজের অবস্থান শক্ত করেন এবং নেতৃত্বের গুণাবলি দিয়ে পরিচিতি লাভ করেন।
রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে তিনি জনগণের সমর্থন নিয়ে বিজয়ী হন। তার দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, জনসম্পৃক্ততা এবং দলীয় আনুগত্যের মূল্যায়ন হিসেবেই মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর কলিতা মাজি বলেন, “আমি সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি। জীবনের কঠিন বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখেছি। তাই মানুষের সমস্যাগুলোও ভালোভাবে বুঝি। আমি চাই, আমার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে।”
তার মন্ত্রিত্বের খবরে নিজ এলাকায় আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একজন সাধারণ নারী কীভাবে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সমাজের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেন, তার উজ্জ্বল উদাহরণ কলিতা মাজি।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও তার এই উত্থান নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকের মতে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে উঠে আসা নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে। কলিতা মাজির জীবনসংগ্রাম সেই বার্তাই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
অমিয়/