ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আসন্ন আলিম পরীক্ষা নিয়ে মাদ্রাসা বোর্ডের নির্দেশনা নওগাঁয় চীনা পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগে টিকটকার গ্রেপ্তার কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী! Two Friends and a Bear বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা,  ১ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র বিরোধীদলীয় নেতার ১০ কেজি উপহার, পেলেন এমপি থেকে পিয়ন সবাই আ.লীগের অপতৎপরতা রুখতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফেনীতে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সভা দেম্বেলে রহস্য! ঘানাকে উড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার রাশফোর্ডের নাটোরে এক গ্রামেই ৪ শতাধিক ঘরজামাই! ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু নয়নের খাল খননে নয়ন কি জুড়াবে এবার? বিশ্বকাপে মিশরকে প্রথম ম্যাচ জয় উপহার দিয়ে উচ্ছ্বসিত সালাহ ঘরছাড়া মানুষের বাস্তবতা ও বৈশ্বিক দায়িত্ব আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে ভাইরাল ভেড়া অপরাধ নির্মূলে কার্যকর ভূমিকার বিকল্প নেই চুয়েট হলে চলন্ত ফ্যান ছিঁড়ে পড়ায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা ‘মাথা উঁচু করে বিদায় নিচ্ছি’- ড্রেসিংরুমে ইরানের বার্তা যার শেষ পরিণতি হবে জাহান্নাম চকরিয়ায় সৌদিয়া বাস উল্টে আহত ৭ আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হবে ঈশ্বরগঞ্জে কৃষকদের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে আগুন অসংক্রামক রোগের আগ্রাসন মোকাবিলায় ৩৫ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে অভ্যন্তরীণ রুটে ১৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় গুজব মোকাবিলায় ফ্যাক্ট-চেকিং সেল ২৪ ঘণ্টা সক্রিয়: তথ্যমন্ত্রী শিবপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই মেশিন বিতরণ সাতকানিয়ায় মিলল মহাবিপন্ন হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১৬টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নোবিপ্রবিতে শিক্ষামন্ত্রী

বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বে এখনও কয়লাই রাজা

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৩, ০৩:১২ পিএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:২৪ এএম
বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বে এখনও কয়লাই রাজা
ছবি: সংগৃহীত

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে পরিবেশ দূষিত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনেও এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। এর পরেও এখন পর্যন্ত বৈশ্বিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিজের শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে কয়লা।

কানাডাভিত্তিক পরিসংখ্যান নির্ভর সংবাদমাধ্যম ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

পুরো পৃথিবীতে ২০২২ সালে ঘণ্টায় গড়ে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে ২৯ হাজার ১৬৫ দশমিক ২ টেরাওয়াট। এর মধ্যে ৩৫.৪ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। 

কয়লার পরই ২২.২ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। হাইড্রোইলেকট্রিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত হয়েছে ১৪.৯ শতাংশ, পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে হয়েছে ৯.২ শতাংশ।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহারের প্রধানতম কারণ হিসেবে রয়েছে, এটি দিয়ে সবচেয়ে স্বস্তায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।

আশার কথা এই যে - সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ কয়লা থেকে আসলেও এনার্জি ইনস্টিটিউটের গ্রাফ বলছে, বেশ কয়েক বছর ধরেই পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার অবদান ছিল ৪০ শতাংশের ওপর। ২০১৪ সালের পর প্রতিবছরই ধারাবাহিক ভাবে কয়লা নির্ভরতা কমছে। এর পরেও কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন এখন পর্যন্ত কার্বন নিঃসরণের সবচেয়ে বড় একক উৎস। 

বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি কয়লা ব্যবহার করে চীন। ২০২২ সালে বৈশ্বিক মোট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫৩.৩ শতাংশই উৎপাদন করেছে দেশটি। ১৩.৬ শতাংশ উৎপাদন করে তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। ৮.৯ শতাংশ উৎপাদন করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।  

কয়লার মতোই বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতাও কমেছে গত ১৪ বছরে কমেছে।  তবে এ সময়ের মধ্যে গ্যাসকেন্দ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মোট অবদানের খুব একটা তারতম্য হয়নি। কেবল ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানে ইউরোপে রুশ গ্যাসের রপ্তানি সীমিত হওয়ার প্রভাবে বৈশ্বিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সে বছর গ্যাসের প্রভাব কমেছে। 

এ ছাড়া পরিবেশ বান্ধব পুর্নব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। ২০০৮ সাল থেকেই ধারাবাহিকভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ছে।

২০২২ সালে পরিবেশবান্ধব বাতাস(উইন্ড) নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন করেছে মোট বিদ্যুতের ৭.২ শতাংশ। সৌরশক্তি কেন্দ্রিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এসেছে ৪.৫ শতাংশ এবং অন্যান্য শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র অবদান রেখেছে ২.৭ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে।

মঙ্গল ও চাঁদে অভিযানের জন্য নাসার নতুন রোভার আরনেস্ট

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
মঙ্গল ও চাঁদে অভিযানের জন্য নাসার নতুন রোভার আরনেস্ট
ছবি: নাসা

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এমন একটি রোভার পরীক্ষা করছে, যা আগের চেয়ে দ্রুত চলতে পারে এবং চাকা ওপরে তুলে বাধা পেরিয়ে যেতে পারে। ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে মঙ্গলে প্রথম রোভার অবতরণের পর থেকে নাসার রোভারগুলো অনেক সাফল্য পেয়েছে। তবে এখনো এগুলোর বেশকিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

বর্তমান রোভারগুলো বেশ ধীরগতির। নাসার সবচেয়ে উন্নত রোভার ‘পারসিভারেন্স’ সমতল ভূমিতে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ১ মাইলেরও কম গতিতে চলতে পারে। এছাড়া পাথুরে ও বালুময় খাড়া পাহাড়ি পথ রোভারের চাকার ক্ষতি করে। অনেক সময় নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হয়।

এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে নাসা ‘এক্সপ্লোরেশন রোভার ফর নেভিগেটিং এক্সট্রিম স্লোপড টেরেন’ বা সংক্ষেপে ‘আরনেস্ট’ নামের একটি প্রোটোটাইপ রোভার তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো মরুভূমিতে বর্তমানে এটির পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। ভবিষ্যতের মঙ্গল ও চন্দ্র অভিযানে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে।

বর্তমান মঙ্গল রোভারগুলোর ছয়টি চাকা থাকলেও আরনেস্টের চাকা চারটি। এটি দৈর্ঘ্যে চার ফুট। তবে মূল অভিযানে যে রোভারটি পাঠানো হবে, সেটির আকার হবে এর দ্বিগুণ। মরুভূমির সাম্প্রতিক পরীক্ষায় রোভারটি সাত দিনে মোট ৩৭ ঘণ্টার বেশি সময় চলেছে এবং প্রায় ১৬ মাইল পথ অতিক্রম করেছে। এর সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় শূন্য দশমিক ৬ মাইল। এটি প্রতিটি চাকা আলাদাভাবে ওপরে তুলে যেকোনো বাধা টপকে যেতে পারে।

জেপিএলের বিজ্ঞানী জেমস কিন বলেন, এই যানটি দিয়ে চাঁদ ও মঙ্গলে দীর্ঘ বৈজ্ঞানিক সফর করা সম্ভব। আগের রোভারগুলো চাকার ওপর ওজন ধরে রাখতে প্যাসিভ সাসপেনশন সিস্টেম ব্যবহার করত। তবে আরনেস্টের গতিশীলতা বাড়াতে প্রকৌশলীরা অ্যাক্টিভ সাসপেনশন ব্যবহার করছেন। এর সামনের দুটি জয়েন্ট রোভারটিকে চাকা দিয়ে হাঁটা ও বাধা টপকানোর মতো বিভিন্ন উপায়ে চলতে সাহায্য করে।

কাজের ধরন ও শক্তির প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে এটি অ্যাক্টিভ ও প্যাসিভ সাসপেনশনের মধ্যে পরিবর্তন করতে পারে। এর চারটি চাকাই ঘোরানো সম্ভব হওয়ায় এটি যেকোনো দিকে চলতে পারে। ২০২২ সালে এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে আরনেস্টের একাধিক সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে।

এই নতুন সংস্করণে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উন্নত ক্ষমতা যুক্ত করা হয়েছে। আরনেস্টের মূল লক্ষ্য হলো এমন প্রযুক্তি তৈরি করা, যা পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ কক্ষের উপর কম নির্ভরশীল থেকে আরও দ্রুত এবং বেশি পথ পাড়ি দিতে পারবে।

প্লেগের জীবাণু আবিষ্কার

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:২৯ এএম
প্লেগের জীবাণু আবিষ্কার
সাইবেরিয়ার বৈকাল হ্রদ এলাকায় আবিষ্কৃত একটি কঙ্কাল। এটি থেকেই প্লেগের জীবাণুর সন্ধান পাওয়া গেছে । ছবি: সংগৃহীত

সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে এক অপ্রত্যাশিত জনগোষ্ঠীর ওপর প্লেগ রোগটি কীভাবে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল, তা উন্মোচন করেছে প্রাচীন ডিএনএ। দক্ষিণ-পূর্ব সাইবেরিয়ার প্রাচীন সমাধিক্ষেত্র থেকে উদ্ধার করা ডিএনএ বিশ্লেষণ করে প্লেগের সম্পূর্ণ অজানা কিছু স্ট্রেন বা ধরন খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ গত বুধবার প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় এই তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটিই মানুষের মধ্যে প্লেগ রোগের উপস্থিতির সবচেয়ে প্রাচীন প্রমাণ।

প্লেগ রোগটি মূলত ‘ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস’ নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে ঘটে। মানব ইতিহাসে এটি বেশ কয়েকবার ভয়াবহ মহামারির জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে চতুর্দশ শতাব্দীর কুখ্যাত ‘ব্ল্যাক ডেথ’ অন্যতম। ওই মহামারিতে মাত্র পাঁচ বছরে আনুমানিক আড়াই কোটি মানুষের মৃত্যু হয়। নতুন এই স্ট্রেনটি আবিষ্কারের আগে বিউবনিক প্লেগের সঙ্গে সম্পর্কিত সবচেয়ে প্রাচীন স্ট্রেনটির সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল প্রায় ৩,৮০০ বছর আগের নথিতে।

আগের গবেষণাগুলো থেকে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, প্রাচীনতম স্ট্রেনগুলোতে রোগ ছড়ানোর মতো প্রয়োজনীয় জেনেটিক বৈশিষ্ট্য ছিল না। ফলে তারা ভাবতেন যে, শুরুর দিকের প্লেগগুলো বড় আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারত না। গবাদি পশু ও সংক্রমিত মাছি থেকে কীভাবে এই ব্যাকটেরিয়া মানুষের মধ্যে প্রথম ছড়িয়েছিল, তা নিয়েও বিজ্ঞানীদের মনে প্রশ্ন ছিল।

তবে নতুন আবিষ্কৃত স্ট্রেনটি এই পুরো ধারণাকে বদলে দিয়েছে। গবেষকরা মূলত লেক বৈকাল অঞ্চলের শিকারি-সংগ্রাহক মানুষের অবশিষ্টাংশের একটি রহস্য সমাধানের চেষ্টা করছিলেন। তখনই তারা অপ্রত্যাশিতভাবে এই স্ট্রেনটির সন্ধান পান। ওখানকার দুটি বড় সমাধিতে অস্বাভাবিক সংখ্যায় শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু তাদের শরীরে কোনো আঘাত বা স্পষ্ট মৃত্যুর কারণ ছিল না।

এই যাযাবর ও ছোট ছোট গোষ্ঠীর ৪৬ জন মানুষের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৮ জনের দেহে প্রাচীন ডিএনএ বিশ্লেষণে প্লেগ ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। একই সঙ্গে সেখানে এমন একটি জেনেটিক উপাদানের সন্ধান মিলেছে, যা সংক্রমণের তীব্রতা অনেক বাড়িয়ে দিতে পারত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আবিষ্কার প্লেগের উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে নতুন ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে ছড়াত, সেই তত্ত্বকেও চ্যালেঞ্জ করছে।

এই গবেষণার প্রধান লেখক এবং যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো রুয়ারিধ ম্যাকলিওড গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শিকারি-সংগ্রাহকরা ক্রমাগত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়াতেন। প্রচলিত মহামারিসংক্রান্ত তত্ত্ব হলো–এই ধরনের গতিশীল ও বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রামক রোগ সহজে জেঁকে বসতে বা পুরো সম্প্রদায়কে ধ্বংস করতে পারে না। সাধারণত কেউ অসুস্থ হলে তারা অন্য কোথাও চলে যায়। কিন্তু একটি বিচ্ছিন্ন প্রাগৈতিহাসিক শিকারি-সংগ্রাহক গোষ্ঠীর মধ্যে এমন ঘটনা ঘটার প্রমাণ মেলায় আগের সেই তত্ত্ব এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

লেক বৈকালের চারপাশের এই প্রাচীন সমাধিক্ষেত্রগুলোতে প্রত্নতাত্ত্বিকরা কয়েক দশক ধরে খননকাজ চালাচ্ছেন। এই অঞ্চলটি মাছ ধরাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ ছিল। ম্যাকলিওড জানান, এই যাযাবর মানুষরা নিজেদের এলাকার ওপর অধিকার ধরে রাখতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তাদের মৃতদেহ এখানেই সমাহিত করত।

গবেষকরা উন্নত ডিএনএ সিকোয়েন্সিং, প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা ও রেডিওকার্বন ডেটিং পদ্ধতি একসঙ্গে ব্যবহার করে হাজার বছর আগের এই ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করেছেন। ম্যাকলিওড আরও বলেন, রেডিওকার্বন ডেটিং থেকে খুব স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, এই ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনাটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘটেছিল। অর্থাৎ, এসব মানুষের মৃত্যু প্রায় একই সময়ে হয়েছিল।

জেনেটিক গবেষণা থেকে সমাধিতে সমাহিত শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের পারস্পরিক আত্মীয়তার সম্পর্কও জানা গেছে। গবেষণার সহ-লেখক এবং ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তনীয় জিনতাত্ত্বিক অধ্যাপক এস্কে উইলারসলেভ বলেন, কোনো কোনো কবরে ভাইবোন, বাবা-মা এবং শিশুদের একসঙ্গে সমাহিত করা হয়েছিল। এটি ইঙ্গিত করে যে, একে অপরের যত্ন নেওয়ার সময় রোগটি পরিবারের এক সদস্য থেকে অন্য সদস্যের দেহে ছড়িয়েছিল। একই সঙ্গে এ রোগটি কীভাবে ছড়ায় তা নিয়ে তাদের অজ্ঞতাকেও প্রকাশ করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু কবরে আত্মীয়দের আলাদাভাবে সমাহিত করা হয়েছিল। সম্ভবত তারা মহামারির ভিন্ন ভিন্ন তরঙ্গে মারা গিয়েছিলেন।

গবেষকদের মতে, ওই অঞ্চলে কয়েক শ বছরের ব্যবধানে দুটি পৃথক প্লেগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল। গবেষকরা প্রাচীন মানুষের দাঁত থেকে এই ব্যাকটেরিয়ার জিনোম বা পূর্ণাঙ্গ নকশা উদ্ধার করতে পেরেছেন। এটি ইঙ্গিত করে, এই বিশেষ প্লেগ স্ট্রেনটি ৫,৭০০ বছর আগে উৎপন্ন হয়েছিল।

গবেষকদের মতে, এটি প্রাচীন ও আধুনিক অন্য সব জানা প্লেগ স্ট্রেনের চেয়ে আলাদা। এই জিনোম থেকে একটি অনন্য ‘সুপারঅ্যান্টিজেন’ বা অণুজীবজনিত টক্সিনের সন্ধান মিলেছে। এই টক্সিনটি সংক্রমণের তীব্রতা বাড়াতে পারে ও মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে অতিরিক্ত মাত্রায় সক্রিয় করে তোলে। এটি মূলত সাড়ে সাত বছর থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছিল।

ম্যাকলিওড বলেন, এর একটি মর্মান্তিক উদাহরণ হলো একটি কবর, যেখানে তিনটি খুব কম বয়সী মেয়েকে একসঙ্গে সমাহিত করা হয়েছে। সম্ভবত তারা একই সময়ে মারা গিয়েছিল। এটি স্পষ্ট যে এই রোগটি ওই সম্প্রদায়ের শিশুদের ওপর অত্যন্ত দুঃখজনক প্রভাব ফেলেছিল। মৃত মেয়েরা একে অপরের কাজিন ছিল। তাদের মধ্যে দুজন ছিল আপন বোন। সবচেয়ে ছোটটির বয়স ছিল ৪ বা ৫ বছর এবং সবচেয়ে বড়টির বয়স ছিল সম্ভবত ৯ বছর।

এই সুপারঅ্যান্টিজেনটি আধুনিক যুগের ‘ইয়ারসিনিয়া সিউডোটুবারকিউলোসিস’ নামক ব্যাকটেরিয়ায়ও উপস্থিত রয়েছে, যা স্বাভাবিকভাবে প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়। মানুষ সাধারণত দূষিত কাঁচা বা আধাসিদ্ধ খাবার খেলে কিংবা অনিরাপদ পানি পান করলে এতে আক্রান্ত হয়। এই সংযোগটি প্লেগের একদম শুরুর দিকের সংক্রমণ পদ্ধতি সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের সূত্র দিতে পারে।

তাহলে এই যাযাবর মানুষরা কীভাবে প্রথম সংক্রমিত হয়েছিল? গবেষকরা নির্ধারণ করেছেন, এটি সম্ভবত ‘মারমোট’ নামক বড় ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ঘটেছিল। এই প্রাণীদের দেহে প্লেগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া বহনের একটি দীর্ঘ বিবর্তনের ইতিহাস রয়েছে। এই অঞ্চলে মারমোট এখনো প্লেগ ছড়ানোর প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে।

গবেষকদের একাংশ মনে করেন, কৃষিকাজের প্রসার, ঘনবসতি বা জনাকীর্ণ শহর গড়ে ওঠার অনেক আগেই প্লেগের উৎপত্তি হয়েছিল মধ্য বা উত্তর-পূর্ব এশিয়ায়। সেখান থেকে এটি ইউরেশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

সূত্র: সিএনএন

পালকযুক্ত নতুন ডাইনোসরের ফসিল আবিষ্কার

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
পালকযুক্ত নতুন ডাইনোসরের ফসিল আবিষ্কার
পালকযুক্ত নতুন প্রজাতির ডাইনোসর।

চীনের লিয়াওনিং প্রদেশে প্রায় ১২ কোটি বছরের পুরনো একটি নতুন পালকযুক্ত ডাইনোসর প্রজাতির জীবাশ্ম শনাক্ত করেছেন গবেষকরা। জীবাশ্মটি ভালোভাবে সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং এতে ডাইনোসরের কঙ্কালের চারপাশে বিস্তৃত পালকের স্পষ্ট ছাপও রয়েছে।


চীনা বিজ্ঞানীদের গবেষণাটি বৈজ্ঞানিক জার্নাল ভার্টিব্রাটা প্যালএশিয়াটিকায় প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়, নতুন প্রজাতিটি পেনার‌্যাপটোরান গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, যা আধুনিক পাখির নিকটাত্মীয় হিসেবে বিবেচিত। এটি একমাত্র পরিচিত ডাইনোসর, যেখানে একসঙ্গে বড় আকারের পায়ের পালক, লম্বা পাখার মতো লেজের পালক এবং সামনের অঙ্গে ডানার মতো পালকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।


গবেষকদের মতে, ডাইনোসরটির লেজে প্রায় ১৬টি পালক ছিল, যা ময়ূরের মতো ছড়ানো আকৃতি তৈরি করত। প্রজাতিটি ড্রোমিওসরিড পরিবারভুক্ত, যার মধ্যে ভেলোসির‌্যাপ্টর ও মাইক্রোর‌্যাপ্টরের মতো ডাইনোসর রয়েছে। সূত্র: সিএমজি

নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত
বাম থেকে ডানে আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারী আন্দ্রে ডগলাস, লুকা পারমিটানো, র‍্যান্ডি ব্রেসনিক এবং ফ্রাঙ্ক রুবিও। ছবি: নাসা

ইতিহাসের অন্যতম জটিল মহাকাশ অভিযানের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে নাসা। এই অভিযানের নাম আর্টেমিস থ্রি। সম্প্রতি এই মিশনের জন্য চারজন নভোচারীর নাম ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি। আগামী ২০২৭ সালে তারা পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে যাত্রা করবেন। সেখানে স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিনের তৈরি বাণিজ্যিক মুন ল্যান্ডারের ডকিং বা মহাকাশযানের সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়া পরীক্ষা করা হবে।

আর্টেমিস থ্রি মিশনের চার নভোচারীর মধ্যে রয়েছেন নাসার কমান্ডার র‍্যান্ডি ব্রেসনিক। তিনি একজন সাবেক টেস্ট পাইলট। মিশনের পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার নভোচারী লুকা পারমিতানো। তিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের প্রথম ইতালীয় কমান্ডার ছিলেন। মিশন বিশেষজ্ঞ হিসেবে থাকছেন নাসার আন্দ্রে ডগলাস ও ফ্র্যাঙ্ক রুবিও। এর মধ্যে ফ্র্যাঙ্ক রুবিও টানা ৩৭১ দিন মহাকাশে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে সর্বোচ্চ সময় মহাকাশে কাটানোর রেকর্ড গড়েছেন। এছাড়া নাসার ব্যাকআপ ক্রু হিসেবে প্রস্তুত থাকবেন রবার্ট হাইন্স।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলবে এই মিশন। এটি আগের আর্টেমিস টু মিশনের চেয়ে চার দিন বেশি দীর্ঘ হবে। এই বাড়তি সময়ে নাসা তাদের গুরুত্বপূর্ণ লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম এবং উড্ডয়নের সময় ডকিং ব্যবস্থা ভালোভাবে পরীক্ষা করার সুযোগ পাবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৮ সালে আর্টেমিস ফোর মিশন পরিচালিত হবে। এই মিশনের মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চাঁদের বুকে পা রাখবেন মার্কিন নভোচারীরা।

প্রাথমিকভাবে আর্টেমিস থ্রি মিশনের মাধ্যমেই চাঁদে অবতরণের কথা ছিল। কিন্তু ল্যান্ডার রকেটগুলোর প্রস্তুতিগত বিলম্বের কারণে এই মিশনকে পৃথিবীর কক্ষপথের পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে রূপান্তর করা হয়। চাঁদে অবতরণের বিষয়টি এখন আর্টেমিস ফোর এবং আর্টেমিস ফাইভ মিশনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আর্টেমিস ফাইভ মিশনের মাধ্যমে চাঁদে নাসার স্থায়ী ঘাঁটির ভিত্তি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই অভিযান নাসার ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চাঁদে পৌঁছাতে স্পেসএক্সের ‘স্টারশিপ’ এবং ব্লু অরিজিনের চন্দ্র অবতরণ যানের ওপর নির্ভর করছে নাসা। সম্প্রতি এই দুই ব্যবস্থার কিছু কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। তবে প্রতিষ্ঠান দুটি জানিয়েছে, তারা সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

মহাকাশযানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীরা বিজ্ঞানীদের সঙ্গেও কাজ করবেন। তারা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল, মহাকাশের আবহাওয়া এবং অরবিটাল ড্র্যাগ নিয়ে গবেষণা করবেন। পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে থাকা মহাকাশযানের উচ্চতা সময়ের সঙ্গে কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে অরবিটাল ড্র্যাগ বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

নাসার বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী প্রশাসক নিকি ফক্স জানিয়েছেন, আগের মিশনটি শুধু চাঁদকে ঘিরে আবর্তিত হলেও এবারের মিশনটি পৃথিবীর পরিবেশ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে। এর মাধ্যমে মহাকাশের আবহাওয়া আমাদের বায়ুমণ্ডলকে কীভাবে প্রভাবিত করে এবং মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তিগুলোকে কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, সে সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানা সম্ভব হবে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে উদ্ভাবনী সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে চান মোশাহিদ

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
প্রত্যন্ত অঞ্চলে উদ্ভাবনী সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে চান মোশাহিদ
ছবি: মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার

হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নিশাপাট গ্রামের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার। ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি ছিল তার তীব্র ঝোঁক। পড়াশোনার পাশাপাশি অব্যবহৃত জিনিসপত্র দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করা ছিল তার নেশা। 

মোশাহিদ যখন দশম শ্রেণিতে পড়তেন তখন তার দাদার পুরানো নষ্ট ডিভিডি ভেঙে তার ড্রাইভ ব্যবহার করে মিনি সিএনসি প্লটার মেশিন তৈরি করেছিলেন। এটাই ছিল তার তৈরি করা প্রথম প্রজেক্ট। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি মোশাহিদকে।

২০১৯ সালে হবিগঞ্জের জেকে অ্যান্ড এইচ কে হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০২১ সালে শায়েস্তাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ১০০ শতাংশ স্কলারশিপ পেয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন।

এই ইউনিভাসিটির উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা বিভাগ থেকে ২০২৬ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি মোশাহিদ নাসা (জিএলইই) মিশন প্রজেক্টের টিম বাংলাদেশের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন।

এ ছাড়াও সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রজেক্টেও কাজ করেছেন।

হবিগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান চর্চায় আকৃষ্ট করতে উদ্ভাবনে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে কাজ করছেন মোশাহিদ। তাই ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি ১১ জন সমমনা বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীকে নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ক্লাব’।

এছাড়া তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘শায়েস্তাগঞ্জ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট’, প্রযুক্তিপণ্য বিক্রির প্ল্যাটফর্ম ‘রোবটিক্স শপ বিডি’, প্রশিক্ষণের জন্য ‘রোবটিক্স একাডেমি’ এবং তরুণদের ভাবনা তুলে ধরার জন্য ‘দৈনিক দুর্বার’ দৈনিক যুবকণ্ঠ ও ‘অদম্য ম্যাগাজিন’-এর মতো অনলাইন গণমাধ্যম। তার এই প্রতিটি উদ্যোগই একটি আরেকটির পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে।

তার এসব কাজের স্বীকৃতি হিসেবে মোশাহিদ মজুমদার পেয়েছেন ‘জাতীয় ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ২০২৩’। এই অ্যাওয়ার্ড দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ যুব সম্মাননা।

মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিজ্ঞান আমার ধ্যানে জ্ঞানে। বিজ্ঞান নিয়ে উদ্ভাবন আমি সবসময় স্বপ্ন ছিল নিজের অঞ্চলের জন্য ও দেশের জন্য ভিন্ন কিছু করার। তাই আমি আমার গবেষণা ও উদ্ভাবন কোনো একক প্রজেক্ট বা একাডেমিক গবেষণাপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখিনি। আমার মূল উদ্ভাবন হলো একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম তৈরি করা, যা হবিগঞ্জ তথা বাংলাদেশের হাজারো তরুণকে বিজ্ঞান গবেষণা ও উদ্ভাবনে সরাসরি সম্পৃক্ত করবে।’

বিজ্ঞানমেলা অংশগ্রহণের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে নিজের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন উল্লেখ করে মোশাহিদ বলেন, ‘স্কুলজীবন থেকে আমি বিজ্ঞানমেলায় অংশগ্রহণ করি। আমি দেখলাম বিজ্ঞানমেলা এলেই কেবল স্কুলগুলোতে নামমাত্র অংশগ্রহণের জন্য তাড়াহুড়ো শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা প্রায়ই ইউটিউব থেকে ধারণা নকল করে কোনোমতে একটি প্রজেক্ট দাঁড় করায়। মেলার পর সেই চর্চার আর কোনো ধারাবাহিকতা থাকে না। আমি চিন্তা করলাম এমন একটি স্থায়ী ঠিকানা তৈরি করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা সারা বছর বিজ্ঞান নিয়ে ভাবতে পারবে, গবেষণা করতে পারবে।’

এই ভাবনা থেকেই মোশাহিদ ২০১৯ সালে ১১ জন সমমনা বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীকে নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ক্লাব’।

সংগঠনটি শুরুর দিকের প্রতিকূলতা, সামাজিক ও পারিবারিক সংশয় থাকলেও কোনো কিছুই দমাতে পারেনি মোশাহিদ ও তার দলকে। তাদের নিরলস পরিশ্রমে ক্লাবটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১১ জন সদস্য নিয়ে প্রতিষ্ঠাতা করা এই ক্লাব আজ ২৭ হাজারের বিশাল পরিবার। এই ক্লাবের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে হবিগঞ্জসহ দেশের ২৩৩টিরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

মোশাহিদ গর্বের সঙ্গে বলেন, এই বিজ্ঞান ক্লাবের হাত ধরেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বারবার উচ্চারিত হয়েছে আমার জেলা হবিগঞ্জের নাম। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের অধীনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ২৭ বারেরও বেশি বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে আমাদের ক্লাবটি। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বারবার প্রথম হয়ে ক্লাবের সদস্যরা প্রমাণ করেছে, সুযোগ পেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণরাও ইতিহাস গড়তে পারে।

তিনি বলেন, আমি শুধু ক্লাব নয়, শিক্ষার্থীরা রোবটিক্স, প্রোগ্রামিং, ইলেকট্রনিক্স এবং বিজ্ঞানের বিভিন্ন জটিল বিষয়ে হাতে-কলমে জ্ঞান অর্জন করছে। ক্লাবের সদস্যরা শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, জাতীয় পর্যায়েও নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছে।

উদ্ভাবনী বাংলাদেশ তৈরিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার বলেন, আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইনোভেশন কালচার বা উদ্ভাবনী সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা চাই,বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে আমাদের আজকের এই কনিষ্ঠ বিজ্ঞানীরা। 

শাকিলা ববি/খাদিজা রুমি/