ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দৌলতদিয়া ফেরিতে বাস দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল মধুখালীতে জাল সনদে মাদরাসায় চাকরির অভিযোগ তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর গাইবান্ধায় ট্রেন থেকে পড়ে পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই যুবকের মৃত্যু দৈনিক খবরের কাগজের শাকিলা ববিসহ সিলেটের ৬ সাংবাদিকে প্রেস লিগেসি অ্যাওয়ার্ড প্রদান নড়াইলে বাস উল্টে আহত ১৫ দক্ষিণ এশিয়ার মুকুট হারাল বাংলাদেশ নড়াইলে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নিহত ২ সরু একটি আইলই এখন তাদের আশ্রয়স্থল ১২০০ ফুট লম্বা পতাকা নিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের র‍্যালি কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত শহিদ জিয়ার প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অথচ বাজেট বরাদ্দ তলানিতে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী অধস্তনকে চড় মারায় সিলেটের এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে লঘু দণ্ড তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করবে সরকার আরেকবার সাফের ফাইনালে ঋতুপর্ণার গোল দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩ এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ রামিসার  মামলার  দ্রুত রায় মা হচ্ছেন সোহিনী গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন চামড়া নিয়ে দুর্ভোগ আর দুর্গতির শেষ কোথায় লালমনিরহাটে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর রাতেই গ্রেপ্তার ১৫ বাংলাদেশ লোক গবেষণা পরিষদের বার্ষিক সম্মেলন
Nagad desktop

স্পেসএক্সের রকেটে ফিরছেন আটকে পড়া নভোচারীরা

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৪, ০৪:৫১ পিএম
স্পেসএক্সের রকেটে ফিরছেন আটকে পড়া নভোচারীরা
স্পেসএক্সের ক্যাপসুলে ফিরছেন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে আটকে পড়া নভোচারীরা

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) মাসের পর মাস আটকে থাকার পর অবশেষে পৃথিবীতে ফিরছেন নাসার দুই নভোচারী। স্পেসএক্সের একটি ক্যাপসুল আইএসএস-এ ডকিং করেছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুনিতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোরকে নিয়ে পৃথিবীতে ফিরবে স্পেসএক্সের এই ক্যাপসুল। বোয়িংয়ের স্টারলাইনার রকেটে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে দুই নভোচারীর আইএসএস-এ আটকে থাকার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ৫ জুন বোয়িংয়ের স্টারলাইনার রকেটে আইএসএস-এর উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন এ দুই নভোচারী। প্রাথমিকভাবে তাদের আট দিন সময় কাটানোর কথা থাকলেও স্টারলাইনারের প্রোপালশন সিস্টেমে সমস্যার কারণে তারা বেশ কয়েক মাস ধরেই মহাকাশ স্টেশনে আটকে আছেন। আগস্টে নাসা নিশ্চিত করেছে, ২০২৫ সালের আগ পর্যন্ত তাদের ফেরার সম্ভাবনা নেই। এরপর ‘ক্রু ড্রাগন’ ক্যাপসুলে করে তাদের ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব পায় স্পেসএক্স।

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় ড্রাগন ক্যাপসুল। এরপর রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৩টায় নাসার নভোচারী নিক হগ ও রাশিয়ান নভোচারী আলেকজান্ডার গরবুনভকে নিয়ে আইএসএস অবতরণ করে। মহাকাশযানটিতে নিক হেগ ও আলেকজান্ডার গরবুনভ থাকলেও সুনিতা উইলিয়ামস এবং বুচ উইলমোরের ফেরার জন্য দুটি আসন খালি রাখা হয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মহাকাশ স্টেশনে আটকে পড়া দুই নভোচারীকে নিয়ে পৃথিবীতে ফেরত আসবে ড্রাগন ক্যাপসুল। তবে ওই ফিরতি যাত্রায় হগ ও গরবুনভ ফিরবেন না বলে ব্রিটিশ গণমাধ্যম স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

নাসা বলেছে, মহাকাশ স্টেশনে দুই নতুন নভোচারীর আগমনের মানে দাঁড়ায়, আইএসএস-এ এখন থেকে ১১ জন ব্যক্তি থাকবেন। রকেট উৎক্ষেপণের আগে হগ বলেছেন, ‘মহাকাশ যাত্রায় সবসময়ই কোনো না কোনো পরিবর্তন দেখা যায়। তবে এবার হয়তো সেটা জনসমক্ষে একটু বেশিই স্পষ্টভাবে ওঠে এসেছে।’

তিনি গত সপ্তাহে কেপ ক্যানাভেরালে পৌঁছে বলেছিলেন, ‘আমাদের জন্য সামনে বড় এক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। আমরা একে অপরকে চিনি। আর আমরা পেশাদার হওয়ায় আমাদের কাছে যে নির্দেশনাই আসুক না কেন, আমরা তার জন্য প্রস্তুত আছি।’

সেপ্টেম্বরে আইএসএস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কাউকে না নিয়েই পৃথিবীতে ফিরে এসেছে বোয়িংয়ের স্টারলাইনার। এর থ্রাস্টার ব্যর্থতা ও হিলিয়াম ছিদ্র এতটাই গুরুতর ছিল যে নাসা কোনো যাত্রী না নিয়েই রকেটটির ফিরতি যাত্রা পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেয়। একই মাসে দেওয়া এক সংবাদ সম্মেলনে সুনিতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর জানিয়েছেন, মহাকাশ স্টেশন তাদের জন্য আনন্দের জায়গা হয়ে উঠেছে।

প্রসঙ্গত, নাসার নভোচারী সুনিতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর স্টারলাইনারের প্রথম যাত্রী হিসেবে মহাকাশে ভ্রমণ করছেন। তারা এখন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অবস্থানকারী অন্য নভোচারীদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের গবেষণামূলক কাজ করছেন।

/আবরার জাহিন

মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী
ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির নভোচারী প্যানেলের সদস্য জন ম্যাকফল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের একজন প্যারালিম্পিয়ান ও সার্জন বিশ্বের প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে মহাকাশে গিয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তৈরি ছোট বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশনে থাকার বিষয়ে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ইসা) নভোচারী প্যানেলের সদস্য জন ম্যাকফল গত বছর মহাকাশে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২৭ সালে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তাবিত ‘হেভেন-১’ মহাকাশ স্টেশনে তিনি একটি অভিযানে অংশ নিতে পারেন। ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন প্রতিষ্ঠান ‘ভাস্ট’ এই হেভেন-১ স্টেশনটি তৈরি করছে। একটি একতলা বাসের চেয়ে কিছুটা ছোট এই স্টেশনে চারজন নভোচারী থাকতে পারবেন। এর ভেতরে রয়েছে ম্যাপল কাঠের আস্তরণ, পৃথিবী দেখার জন্য একটি বড় জানালা এবং একটি গবেষণাগার।

ম্যাকফল বলেন, এটি একটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর সুযোগ। দুই সপ্তাহের এই অভিযানে মহাকাশের পরিবেশ তার শরীরে কেমন প্রভাব ফেলে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গ বা প্রস্থেটিক লিম্বসের ওপর মহাকাশের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা হবে। এই আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গগুলো সাধারণত সেন্সর এবং মাইক্রোপ্রসেসরের সাহায্যে কাজ করে।

ম্যাকফলের এই গবেষণাটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বড় সুবিধা নিয়ে আসতে পারে। এটি হালকা এবং সহজে মানিয়ে নেওয়া যায় এমন কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির নকশায় সাহায্য করবে। এছাড়া হাড়ের ক্ষয় ও পেশি কমে যাওয়ার মতো শারীরিক সমস্যাগুলো বুঝতে এটি অবদান রাখবে। অঙ্গ হারানোদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরও উন্নত করতে এই গবেষণা পথ দেখাবে।

বিজ্ঞানের লক্ষ্য ছাড়াও ম্যাকফল মনে করেন এই অভিযান প্রতিবন্ধী মানুষের কাজের পরিধি সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা বদলে দেবে। তিনি বলেন, আমরা দেখাতে চাই যে, শারীরিক প্রতিবন্ধীরাও নভোচারী হতে পারেন। আমরা প্রমাণ করেছি যে, এটি সম্ভব এবং সুযোগ দিলে তারাও সমান পারদর্শী।

ইউকে স্পেস এজেন্সি এই অভিযানের জন্য তহবিল সংগ্রহে ভাস্টকে সহায়তা করবে। ম্যাকফল ও অন্য নভোচারীরা স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলে করে ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে হেভেন-১ স্টেশনে যাবেন। এছাড়া আগামী বছর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) ভাস্টের একটি ব্যক্তিগত অভিযানে অংশ নেওয়ার বিকল্প সুযোগও তার রয়েছে।

৪৫ বছর বয়সী ম্যাকফল ১৯ বছর বয়সে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তার ডান পা হারান। হাসপাতাল ছাড়ার পর তিনি খেলাধুলায় মনোযোগ দেন এবং ২০০৮ সালের বেইজিং প্যারালিম্পিকে ১০০ মিটার দৌড়ে ব্রোঞ্জ জেতেন। পরে তিনি একজন অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২২ সালে তিনি ইসার ‘ফ্লাই’ প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত হন।

ম্যাকফল বলেন, একজন ভালো নভোচারী হওয়া এবং নিজের কাজ সঠিকভাবে করা আমার মূল অগ্রাধিকার। আমি এটিকে কোনো প্রচারণার অংশ বানাতে চাই না। আমি একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে নতুন কিছু করতে পেরে আনন্দিত। তবে সবার আগে আমি এমন কাজ করতে চাই যা মহাকাশ বিজ্ঞান এবং পৃথিবীর সমাজ উভয়ের জন্য মূল্যবান হয়।

এই অভিযান সফল হলে ২০১৬ সালের পর ম্যাকফল হবেন মহাকাশে যাওয়া প্রথম ব্রিটিশ নাগরিক। তার এই যাত্রাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব মহাকাশ অভিযানের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/আবরার জাহিন

থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল
থিয়েনচিনে হয়ে গেল ২০২৬ বিশ্ব বুদ্ধিমান শিল্প এক্সপো

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় থিয়েনচিনে হয়ে গেল ২০২৬ বিশ্ব বুদ্ধিমান শিল্প এক্সপো। চার দিনের এই আয়োজন যৌথভাবে আয়োজন করেছে থিয়েনচিন ও ছোংছিং প্রশাসন। স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি খাতে ক্ষেত্রে জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে এই প্রদর্শনী।

 

 

এবারের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে ছিল ছয়টি থিমভিত্তিক অঞ্চল—যার মধ্যে ছিল কোর এআই প্রযুক্তি, এমবডিড ইন্টেলিজেন্স ও স্মার্ট লিভিং। পাশাপাশি ছিল একটি নিমজ্জিত অভিজ্ঞতা অর্জনের অঞ্চল, যেখানে স্মার্ট প্রযুক্তির সবচেয়ে সর্বাধুনিক উদ্ভাবন ও পণ্য প্রদর্শিত হয়েছে।

থিয়েনচিন মিউনিসিপ্যাল ব্যুরোর শিল্প ও তথ্য প্রযুক্তি গবেষণা অফিসের পরিচালক শেন মামাও জানালেন, ‘এই বছরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি একই সঙ্গে পেশাদার ও সর্বজনীন। একজন পেশাদার ক্রেতা কিংবা একজন বিজ্ঞানী—উভয়েই এখানে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি খুঁজে পাবেন।’

এক্সপোয় অংশ নিয়েছিল ফরচুন গ্লোবাল-৫০০ কোম্পানির ২৮টি প্রতিষ্ঠান, ৩৭টি চীনের শীর্ষ ৫০০ প্রতিষ্ঠান এবং ৪০০টিরও বেশি স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি।

এবারের আয়োজনে আরও ছিল এআই থিম ডে, এন্টারপ্রাইজ ইকোলজি কনফারেন্স, বাজারভিত্তিক ফোরাম, ব্র্যান্ড প্রতিযোগিতা, বিনিয়োগ প্রচার এবং চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। এক্সপো চলাকালে থিয়েনচিনে ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

কাঠামোনির্ভর বুদ্ধিমত্তা বা এমবডিড এআই, মূল এআই প্রযুক্তি, বুদ্ধিমান সংযুক্ত যানবাহন, নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক মহাকাশ অনুসন্ধান, ইন্টেলিজেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং স্মার্ট লিভিং-এর জন্য ছয়টি বিশেষ জোন ছিল প্রদর্শনীতে।

 

 

নজর কেড়েছে এমন কিছু রোবট, যেগুলো কফি তৈরি, সকালের নাস্তা বানানো, রান্না করা ও ক্লাসিক্যাল চীনা বোর্ড গেম ‘গো’ খেলতে পারে। এমনকি বক্সিং করতে সক্ষম রোবটও ছিল এতে। আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল সিঁড়ি বেয়ে উঠতে সক্ষম একটি হুইলচেয়ার।

স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি এবং ইন্টেলিজেন্ট টার্মিনালের মতো ক্ষেত্রগুলোর উদ্ভাবনী সাফল্যও তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনী এলাকায় ছিল বেশ কয়েকটি ব্রেইন-কম্পিউটার-ইন্টারফেস (বিসিআই) পণ্য। এগুলোয় ছিল স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, চোখ পরীক্ষা, খেলাধুলায় সহায়তা এবং পুনর্বাসন প্রশিক্ষণের সুবিধা।

 

 

হাইহ্য ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন গবেষণাগার ও মানব-যন্ত্র সমন্বিতকরণ বিভাগের উপ-পরিচালক লিউ সিয়ুইয়ুন জানালেন, ‘মস্তিষ্ক-কম্পিউটার ইন্টারফেস একটি বহুশাস্ত্রীয় গবেষণার ক্ষেত্র। আমাদের বিভিন্ন শাখার বিজ্ঞানীদের একত্রিত হয়ে মতামত বিনিময় করে নতুন ধারণা তৈরি করতে হবে এবং এই ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

মস্তিষ্কের প্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে, তা জানতে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের এক ছাদের নিচে এনেছে এই এক্সপো। সূত্র: সিএমজি

মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নজর চীনের

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নজর চীনের
দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ থেকে তারবিহীন পদ্ধতিতে সরাসরি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো সম্ভব হবে।

বিশ্ব সৌরশক্তি খাতে নিজেদের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করতে চীনের শীর্ষস্থানীয় ফোটোভোল্টাইক কোম্পানিগুলো এখন মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তিতে নজর দিচ্ছে। মঙ্গলবার শাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ১৯তম আন্তর্জাতিক ফোটোভোল্টাইক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও স্মার্ট এনার্জি সম্মেলন ও প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৩টি শীর্ষ সৌর ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে স্পেস এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অ্যালায়েন্স গঠন করা হয়।

জোটটির লক্ষ্য সৌরবিদ্যুৎ, শক্তি সঞ্চয়, হাইড্রোজেন শক্তি, কম্পিউটিং এবং চার্জিং প্রযুক্তিকে একত্রিত করে মহাকাশ শিল্প ও সবুজ জ্বালানি খাতের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও দিন-রাতের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই মহাকাশে সৌরশক্তি সংগ্রহ করা সম্ভব। একই সঙ্গে পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির উন্নতির কারণে উৎক্ষেপণ ব্যয়ও কমছে, যা মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকে অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত করে তুলছে।

বিকিরণ-প্রতিরোধী প্রযুক্তির পরীক্ষাগুলো সফল হলে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে মহাকাশে সৌরবিদ্যুতের বাস্তব প্রয়োগ শুরু হতে পারে বলে জানান তারা।

দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ থেকে তারবিহীন পদ্ধতিতে সরাসরি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বা গ্রিডের প্রয়োজন কমে যাবে এবং দুর্গম এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। সূত্র: সিএমজি

এআই-চালিত বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র বানাল চীন

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
এআই-চালিত বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র বানাল চীন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ

বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ (টিইএম) সিস্টেম তৈরি করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। সিস্টেমটি যৌথভাবে তৈরি করেছে তালিয়ান রাসায়নিক পদার্থবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও শেনইয়াং ইনস্টিটিউট অব অটোমেশন।

সম্প্রতি বেইজিংয়ে চায়না পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি ফেডারেশন পরিচালিত প্রযুক্তিগত মূল্যায়নে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয় অণুবীক্ষণ যন্ত্রটি। বিশেষজ্ঞরা একে বিশ্বের প্রথম এআই-চালিত ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ সিস্টেম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

এ আবিষ্কারের জন্য গবেষকদের পাঁচটি মূল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হয়েছিল—উচ্চ-বায়ুশূন্য পরিবেশে নমুনা স্থানান্তর, স্বয়ংক্রিয় ইলেকট্রন অপটিক্স সমন্বয়, ন্যানোস্তরে নির্ভুল অবস্থান নির্ধারণ, স্বয়ংক্রিয় চিত্র গ্রহণ ও বিশ্লেষণ এবং বুদ্ধিমান সময়সূচি ব্যবস্থাপনা।
গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক তং তেহুই জানান, এআই-১ নমুনা সরবরাহ, চিত্র গ্রহণ এবং তথ্য বিশ্লেষণের পুরো প্রক্রিয়া মানবহীনভাবে পরিচালনা করতে পারে। এর চিত্র বিশ্লেষণ ক্ষমতা মানুষের তুলনায় ৩০০ গুণেরও বেশি দ্রুত।

পরীক্ষামূলক ব্যবহারে দেখা গেছে, এআই-১ প্রতিদিন গড়ে ১৬৮টি নমুনা বিশ্লেষণ এবং চার হাজারের বেশি ছবি সংগ্রহ করতে সক্ষম। মাত্র দুই সপ্তাহে এটি যে পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, তা প্রচলিত ব্যবস্থার এক বছরের কাজের সমতুল্য। নতুন এই প্রযুক্তি জিনোমিক্স, সবুজ জ্বালানি ও জীবনবিজ্ঞান গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে আশা করছেন গবেষকরা। সূত্র: সিএমজি

ক্যাথি টাইয়ের বিতর্কিত মিশন ভ্রূণের জিন পরিবর্তনের মাধ্যমে মানব বিবর্তন বদলানোর দাবি

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
আপডেট: ৩০ মে ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
ভ্রূণের জিন পরিবর্তনের মাধ্যমে মানব বিবর্তন বদলানোর দাবি
ক্যাথি টাই। ছবি: সংগৃহীত

এপ্রিলের শেষ সপ্তাহের এক শুক্রবারের সন্ধ্যা। নিউ ইয়র্ক সিটির বিখ্যাত কার্নেগি হলের মঞ্চে পিয়ানো বাজাচ্ছেন ‘বায়োটেক বার্বি’ নামে পরিচিত কানাডিয়ান উদ্যোক্তা ক্যাথি টাই। ঝলমলে গাউন পরিহিত ক্যাথির আঙুলগুলো পিয়ানোর কি-বোর্ডে দ্রুত নড়াচড়া করছিল। কিন্তু তার মুখে কোনো আবেগের প্রকাশ ছিল না, চোখ দুটো ছিল কেবল নোটবুকের পাতায়।

উপস্থাপনা শেষ হতেই পুরো মিলনায়তন জুড়ে করতালি আর জন্মদিনের শুভেচ্ছার গান ভেসে আসে। তবে জমকালো এই আয়োজনে উপস্থিত অধিকাংশ অতিথিই তাকে ভালো করে চেনেন না। আয়োজনটি ছিল ক্যাথি টাইয়ের ৩০তম জন্মদিনের অনুষ্ঠান। কিন্তু এই আয়োজনের আড়ালে রয়েছে এক বিতর্কিত বৈজ্ঞানিক মিশন—মানব ভ্রূণের জিন পরিবর্তন করে রোগমুক্ত শিশু তৈরি।

ক্যাথি টাই সব সময়ই বড় কোনো প্রভাব তৈরি করতে পছন্দ করেন, তবে তাকে সহজে ধরাছোঁয়া যায় না। ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি তিনটি আলাদা বায়োটেক কোম্পানি চালু করেছেন এবং লস অ্যাঞ্জেলেস, টরন্টো ও নিউ ইয়র্কের মতো তিনটি ভিন্ন শহরে থেকেছেন। কিছুদিন আগে তিনি বিশ্বখ্যাত চীনা বিজ্ঞানী হে জিয়ানকুইকে বিয়ে করেন, যিনি বিশ্বের প্রথম জিন-পরিবর্তিত শিশু জন্ম দিয়ে তিন বছর জেল খেটেছেন। বিয়ের মাত্র তিন মাস পর তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

এরপর গত গ্রীষ্মে মাত্র একটি স্যুটকেস আর পোষা কুকুর নিয়ে ক্যাথি নিউ ইয়র্কে আসেন এবং নিজের নতুন স্টার্টআপ শুরুর ঘোষণা দেন। তার উদ্দেশ্য হলো মানুষের ভ্রূণের জিন পরিবর্তন করে সিস্টিক ফাইব্রোসিস, হান্টিংটন এবং বংশগত ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ প্রতিরোধ করা। তবে তার প্রাক্তন স্বামীর মতো গোপনে নয়, বরং তিনি সরকারি অনুমোদন নিয়ে সম্পূর্ণ প্রকাশ্যেই এই কাজ করতে চান। এবং এর পেছনে রয়েছে ভেঞ্চার ক্যাপিটালের বিপুল বিনিয়োগ।

মানব বিবর্তনের নতুন মোড়

২০১২ সালে ক্রিসপার প্রযুক্তি আবিষ্কারের পর থেকে মানুষের জিন পরিবর্তন বা মুছে ফেলার প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ হয়ে গেছে। কিন্তু মানব প্রজনন কোষের এই জিনগত পরিবর্তন পরবর্তী প্রতিটি প্রজন্মের মধ্যে স্থানান্তরিত হবে। বায়োটেকনোলজির ইতিহাসে এটি মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকির বিষয়। আর এ কারণেই যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে প্রজননের উদ্দেশ্যে মানব ভ্রূণের জিন পরিবর্তন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ক্যাথি টাই বলেন, "এটি আমাদের প্রজন্মের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রযুক্তি। কারণ এটি আমাদের নিজেদের প্রজাতিকে পরিবর্তনের ক্ষমতা দেয়।" তবে এই গবেষণার জন্য কোনো সরকারি তহবিল পাওয়া যায় না। পুরো বিষয়টি বেসরকারি এবং ধনকুবেরদের বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল। ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান এবং কয়েনবেসের সিইও ব্রায়ান আর্মস্ট্রংয়ের মতো বিশ্বের ধনী ব্যক্তিরা এখন এই খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই ভ্রূণ স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে ‘সেরা শিশু’ বেছে নেওয়ার প্রযুক্তি বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার নিয়মিত অংশ হয়ে উঠেছে। পাতাল রেলেও বিজ্ঞাপন দিয়ে লম্বা, বুদ্ধিমান ও সুস্থ শিশু বেছে নেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। ক্যাথি টাই মনে করেন, বিজ্ঞানীদের কাজ হলো এই প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ামক সংস্থাগুলোর সামনে তুলে ধরা, যেন তারা কঠোর নিয়ম কিছুটা শিথিল করেন।

চীন ও রাশিয়ার প্রতিযোগিতা

চীন ইতোমধ্যেই জিন প্রযুক্তির ক্ষমতা বিশ্বকে দেখিয়েছে। ২০১৮ সালে বিজ্ঞানী হে জিয়ানকুই যমজ দুই শিশু লুলু এবং নানার ভ্রূণের জিন পরিবর্তন করে তাদের জন্ম দেন। তার দাবি ছিল, এই শিশুরা যেন এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়। তবে এই বিতর্কিত পরীক্ষার জন্য তাকে বড় অঙ্কের জরিমানা ও কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়।

কারাগার থেকে মুক্তির পর তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, ভবিষ্যতে মানুষের বুদ্ধিমত্তা বা সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ‘ডিজাইনার বেবি’ তৈরি করা অনিবার্য। এর পরপরই চীন সরকার বায়োমেডিক্যাল প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণের জন্য নতুন খসড়া নীতিমালা ঘোষণা করে। এর জবাবে ক্যাথি টাই এক পোস্টে লেখেন, "জৈবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ভোরে আপনাকে স্বাগতম।" ভূ-রাজনৈতিক এই গুরুত্বের কারণেই তিনি তার প্রথম জিন-এডিটিং কোম্পানির নাম রেখেছিলেন পরমাণু বোমার প্রকল্পের নামানুসারে—‘ম্যানহাটন প্রজেক্ট’।

ক্যাথি টাইয়ের বর্তমান স্টার্টআপ ‘অরিজিন জেনোমিক্স’ মূলত একক জিনের মিউটেশনের কারণে হওয়া মারাত্মক রোগগুলো প্রতিরোধের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। আমেরিকার আইন অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের ল্যাবের কোনো ভ্রূণই জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয় না বা ১৪ দিনের বেশি বড় হতে দেওয়া হয় না।

অনেকে মনে করেন, জিন থেরাপির মাধ্যমে শিশুর জন্মের পরও এই চিকিৎসা করা সম্ভব, যার জন্য বংশগত পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয় না। তবে ক্যাথি এই যুক্তির সাথে একমত নন। তার মতে, ভ্রূণ ফেলে দেওয়ার চেয়ে তার ভেতরের ছোট সমস্যাটি সংশোধন করে নেওয়া নৈতিকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য।

উচ্চ মূল্য ও বৈষম্যের ঝুঁকি

এই প্রযুক্তির ব্যয় কত হবে—জানতে চাইলে ক্যাথি নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানাতে পারেননি। তবে প্রারম্ভিক পর্যায়ে এই ব্যয়বহুল প্রযুক্তি কেবল ধনীদের নাগালের মধ্যেই থাকবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে একটি বড় বৈষম্য তৈরি করতে পারে।

ক্যাথি টাইয়ের অতীত উদ্যোগগুলোও বেশ বিতর্কিত। এর আগে লস এঞ্জেলেসের একটি স্টার্টআপে খরগোশ বা বিড়ালের মতো প্রাণীদের জিন পরিবর্তন করে অন্ধকারে আলো জ্বলা খরগোশ, অ্যালার্জি-মুক্ত বিড়াল বা ড্রাগন তৈরি করার বাণিজ্যিক চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তিনি ইউনিকর্ন বা কাল্পনিক ঘোড়া তৈরিতেও আগ্রহী ছিলেন।

ক্যাথি টাই ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন এবং মাত্র ১৬ বছর বয়সে তার প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। স্কুলে বিজ্ঞান মেলা থেকে তিনি হাজার হাজার ডলার বৃত্তি পেতেন। ক্লাসে অনুপস্থিত থাকার জন্য শিক্ষিকা বকা দিলে তিনি উল্টো শিক্ষিকাকে চ্যালেঞ্জ করে বসেছিলেন তার কোনো প্রকাশিত পেপার আছে কিনা তা দেখার জন্য। ১৮ বছর বয়সে তিনি থিয়েল ফেলোশিপের এক লাখ ডলার অনুদান পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে সরাসরি সিলিকন ভ্যালিতে ব্যবসায় নামেন। ২০১৮ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের অনূর্ধ্ব-৩০ তালিকায় তার নাম আসে।

হে জিয়ানকুইয়ের সাথে সম্পর্ক ও চীন বিতর্ক

ক্যাথির জীবনে সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায় হলো বিজ্ঞানী হে জিয়ানকুইয়ের সাথে সম্পর্ক। ২০২৫ সালের শুরুতে বেইজিংয়ে তাদের প্রেম ও বিয়ে হয়। তাদের বিয়ের আংটি দুটি ছিল ডিএনএ ডাবল হেলিক্সের আদলে তৈরি। জিয়ানকুইকে তিনি একজন সাহসী ‘ধর্মদ্রোহী’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, যিনি সমাজচ্যুত হওয়ার পরও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন।

তবে বিয়ের মাত্র তিন মাস পরই তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। ক্যাথি যখন বেইজিংয়ে তার স্বামীর সাথে নতুন জীবন শুরু করতে যাচ্ছিলেন, তখন মাঝপথে ম্যানিলাতে তাকে আটকে দেওয়া হয় এবং চীনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কেন চীন সরকার তাকে নিষিদ্ধ করেছিল, তা এখনও রহস্য। এই সংকটের সময় তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন এবং একটি মেম কয়েনও চালু করা হয়েছিল, যেখানে তাঁদের দুজনের ছবি ব্যবহার করা হয়। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্যাথি অস্বস্তিতে পড়েন এবং কথা এড়িয়ে যান।

ইউটোপিয়া বনাম ইউজেনিক্স বিতর্ক

সম্প্রতি ম্যানহাটনে বায়োথিসিস্ট অধ্যাপক আই গ্লেন কোহেনের সাথে এক উন্মুক্ত বিতর্কে অংশ নেন ক্যাথি। সেখানে অধ্যাপক কোহেন সতর্ক করে বলেন, এই প্রযুক্তি মানব প্রজন্মের সম্মতি ছাড়াই তাদের ওপর ঝুঁকি চাপিয়ে দিচ্ছে, যা ‘ইউজেনিক্স’ বা সুপ্রজননবিদ্যার মতো সংবেদনশীল বিতর্ককে সামনে নিয়ে আসে।

জবাবে ক্যাথি বলেন, "ইউজেনিক্স একটি খুব ভারী শব্দ। আমি এই শব্দটির যত্রতত্র ব্যবহার বন্ধ করতে চাই।"

বিতর্ক শেষে ক্যাথি দাবি করেন, মানুষের মনোভাব দ্রুত পাল্টাচ্ছে এবং এই প্রযুক্তি একদিন বৈধতা পাবেই। তবে ম্যানহাটন প্রজেক্ট বা হে জিয়ানকুইয়ের মতো বিতর্কিত অধ্যায়গুলোর ছায়া থেকে তিনি নিজেকে কতটা মুক্ত করতে পারবেন, তা সময়ই বলে দেবে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান