মেক্সিকোর এক জঙ্গলে হাজার হাজার অজানা কাঠামো, পিরামিডসহ একটি সুবিশাল মায়ান নগরী আবিষ্কার করেছেন একজন আমেরিকান ছাত্র। পাবলিক ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে তিনি এই শহরের সন্ধান পান।
কাম্পেচ অঞ্চলের লেজার স্ক্যানের ডেটা বিশ্লেষণ করে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ অজানা স্থাপনা খুঁজে পাওয়া যায়। এই হারিয়ে যাওয়া নগরীর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভ্যালেরিয়ানা’। মধ্য আমেরিকার ইউকাটান উপদ্বীপে প্রাচীন মায়ান স্থাপনাগুলো খুঁজে বের করতে প্রত্নতত্ত্ববিদরা লেজার স্ক্যানিং লিডার প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। এ প্রযুক্তির সাহায্যে তারা পিরামিড, সাধারণ মানুষের বাসস্থান এবং অন্যান্য মায়ান স্থাপনা খুঁজে পেয়েছেন।
আগে কয়েক শ বর্গকিলোমিটার এলাকা জরিপ করে প্রাচীন স্থাপনা খুঁজে বের করা হতো। নর্দার্ন অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির পিএইচডির শিক্ষার্থী লুক অউল্ড-থমাস জানান, এই জরিপের কাজে প্রত্নতাত্ত্বিকরা প্রতিটি বর্গমিটার পরীক্ষা করতেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গবেষকরা মায়ান স্থাপনার প্রমাণ খুঁজতে লিডার স্ক্যানের ডেটা বিশ্লেষণ করছেন। অল্ড-থমাস ২০১৩ সালে এমনই এক লিডার প্রকল্পের ডেটা বিশ্লেষণ করেন। এর মাধ্যমে তিনি মেক্সিকোর বনাঞ্চলে ৫০ বর্গমাইল এলাকায় কী লুকিয়ে আছে তা খুঁজে বের করেন। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল মেক্সিকোর বনাঞ্চলে কার্বন পরিমাপ ও পর্যবেক্ষণ করা।
তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘গুগল সার্চের প্রায় ১৬তম পাতায় গিয়ে পরিবেশ পর্যবেক্ষণের জন্য মেক্সিকোর একটি সংস্থার করা লেজার জরিপের তথ্য পাই।’
আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক পদ্ধতিতে এই তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘনবসতিপূর্ণ ও বিচিত্র মায়ান জনবসতির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে ২৫০ থেকে ৯০০ খ্রিষ্টাব্দ অবধি সময়ের এক বিশাল নগরী। অল্ড-থমাস বলেন, ‘সরকার বা বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায় এই শহরের বিষয়ে কিছুই জানত না। এটি প্রমাণ করে, এখনো অনেক কিছু আবিষ্কার করার বাকি আছে।’ সম্প্রতি অ্যান্টিকুইটি জার্নালে তার গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। গবেষক অল্ড-থমাসের মতে, সম্প্রতি আবিষ্কৃত এই প্রাচীন নগরীতে একটি ক্লাসিক্যাল মায়া রাজনৈতিক রাজধানীর সব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু গ্রামীণ এলাকা বা ছোটখাটো বসতি নয়, বরং পিরামিডসহ বিশাল এক নগরীর সন্ধান পেয়েছি, যা ওই এলাকার একমাত্র মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত। স্থানীয়রা বহু বছর ধরে এই ধ্বংসাবশেষের আশপাশে চাষাবাদ করছেন।’
গবেষকরা মনে করেন, প্রাচীন এই নগরীর নির্মাণশৈলী আধুনিক শহুরে উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। অল্ড-থমাস বলেন, ‘এমন অনেক মায়া নগরী ছিল যা কৃষিভিত্তিক এবং উচ্চ ঘনবসতিপূর্ণ। আমাদের বর্তমান পরিবেশগত ও সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখে, প্রাচীন এই নগরীগুলোর গবেষণা আমাদের শহর পরিকল্পনার ধারণাকে আরও সম্প্রসারিত করতে সাহায্য করতে পারে।’
অতীতের নগরী নির্মাণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার এই উদাহরণগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আধুনিক নগরায়ণের উন্নয়ন করা যেতে পারে বলে গবেষকদের অভিমত।
/আবরার জাহিন


