প্লাস্টিক বর্জ্য ও মহাসাগরের দূষণ গত কয়েক দশক ধরে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি। এটি পরিবেশের ওপর গুরুতর ক্ষতি এবং সামুদ্রিক প্রাণীর জন্য বড় বিপদ ডেকে এনেছে। জাতিসংঘের পরিবেশ প্রোগ্রামের (ইউএনইপি) পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, প্রতিবছর ৮০ লাখ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে গিয়ে পড়ছে। এই প্লাস্টিক দূষণ সামুদ্রিক প্রাণীদের জন্য বিশাল হুমকির সৃষ্টি করে। কেননা তারা প্রায়ই ভুল করে প্লাস্টিককে খাবার মনে করে খেয়ে ফেলে বা বিভিন্ন ভাবে তাদের শরীর প্লাস্টিকের সঙ্গে জড়িয়ে যায়।
তবে এখন মনে হচ্ছে, এই অবস্থার অবসান ঘটতে চলেছে। জাপানের রিকেন সেন্টার ফর ইমার্জেন্ট ম্যাটার সায়েন্সের গবেষকরা একটি বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক ডিজাইন করেছেন, যা সমুদ্রজলে দ্রবীভূত হয়। এই প্লাস্টিকের উপাদান শক্তিশালী এবং বিভিন্ন ব্যবহারের জন্য উপযোগী। এই প্লাস্টিকের বিশেষ সংমিশ্রণ থাকবে, যা খাদ্য নিরাপদ উপাদান থেকে তৈরি। এর অর্থ হলো যে, উপাদানটি বিষক্রিয়াহীন এবং বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহারের জন্য নিরাপদ।
জাপানি গবেষকদের তৈরি প্লাস্টিকের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর দ্রুত প্রাকৃতিক পরিবেশে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা। ঐতিহ্যবাহী প্লাস্টিকগুলো বহু বছর ধরে অবক্ষয় হতে থাকে এবং মহাসাগর ও অন্যান্য পরিবেশে তার অবশিষ্টাংশ পূর্ণ হয়ে ওঠে। এটা বন্য জীবনের জন্য আরও বেশি ক্ষতি ও দূষণ সৃষ্টি করে। রিকেন সেন্টারের গবেষক দলের নতুন বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক এই পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত।
প্লাস্টিক দূষণের সবচেয়ে ভয়ের দিকটি হচ্ছে এর দীর্ঘস্থায়িত্ব। প্লাস্টিকের পচনে বহু বছর কেটে যায়। বহু বছর পরও এটি ভেঙে গিয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক নামের ক্ষুদ্রাংশে পরিণত হয়। মাইক্রোপ্লাস্টিকের আকার ৫ মিলিমিটারের চেয়েও কম। সমুদ্রের তলদেশ থেকে শুরু করে যে বাতাসে আমরা শ্বাস নিই, তার সবখানেই এখন মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এই ছোট কণাগুলো খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে আমাদের দেহে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির জন্ম দেয়।
খবরে বলা হয়েছে, জাপানি গবেষকদের তৈরি প্লাস্টিকটির পরীক্ষা এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে আবিষ্কার যদি পূর্ণতা লাভ করে তাহলে আগামী দিনে এই প্লাস্টিক বিশ্বে অনেক কিছুই বদলে দিতে পারে। সূত্র: আজকাল


