প্রিম্যাচিউরড বা সময়ের আগে জন্ম নেওয়া শিশুরা দীর্ঘ মেয়াদে কী ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে, তা নিয়ে নতুন গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। অকল্যান্ডের লিগিন্স ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রিম্যাচিউরড শিশুদের প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে ডায়াবেটিস, প্রিডায়াবেটিস বা ডিসলিপিডেমিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে তেমন উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই। ৫০ বছর বয়সের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পূর্ণ মেয়াদে জন্ম নেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় তাদের কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা কম ছিল।
গর্ভধারণের ৩৭ সপ্তাহের আগে জন্ম নেওয়াকে প্রিম্যাচিউরড জন্ম বলা হয়। বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় একজন শিশুর জন্ম এভাবে হয়। আগের গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে, সময়ের আগে জন্ম নিলে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর হৃদরোগজনিত সমস্যা, বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।
তবে এই গবেষণাগুলোতে আধুনিক নবজাতক পরিচর্যার উন্নত যুগে মধ্যবয়সে পৌঁছেছেন এমন ব্যক্তিদের খুব কম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে বর্তমান প্রজন্মের প্রিম্যাচিউরড শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য প্রভাব মূল্যায়নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
‘হেলথ আউটকামস ফিফটি ইয়ার্স আফটার প্রিটার্ম বার্থ ইন পার্টিসিপেন্টস অব এ ট্রায়াল অব অ্যান্টিনেটাল বেথামেথাসোন’ শিরোনামে পেডিয়াট্রিক্স জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। এতে প্রিম্যাচিউরড জন্ম নেওয়া ৫০ বছর বয়সী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য মূল্যায়ন করা হয়, যারা অকল্যান্ডের ন্যাশনাল উইমেন্স হাসপাতালের একটি ডাবল-ব্লাইন্ড, প্লাসিবো-কন্ট্রোল্ড ট্রায়ালে অংশ নিয়েছেন।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর ও প্রশাসনিক স্বাস্থ্য ডেটা পর্যালোচনার জন্য সম্মতি নেওয়া হয়। হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, প্রিডায়াবেটিস, ডিসলিপিডেমিয়া ও হৃদরোগজনিত গুরুতর ঘটনার হার মূল্যায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্বাসতন্ত্র, মানসিক স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সূচক নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
গবেষণায় সময়ের আগে জন্ম নেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের হার বেশি দেখা গেছে। তবে পূর্ণ মেয়াদে জন্ম নেওয়া সমবয়সীদের তুলনায় বড় ধরনের হৃদরোগজনিত সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলক কম ছিল। ডায়াবেটিস, প্রিডায়াবেটিস ও ডিসলিপিডেমিয়ার হারে তেমন উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়নি। শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ও দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের প্রাদুর্ভাবেও কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়নি। প্রিম্যাচিউরড জন্ম নেওয়া অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার হার কম দেখা গেছে। তাদের মধ্যে ডিপ্রেশনের হারও তুলনামূলক কম ছিল। এ ছাড়া শিক্ষাগত অর্জন ও এক বছর পরবর্তী জীবনের মৃত্যুহারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ছিল না।
গবেষণার ফলাফল থেকে বোঝা যায়, প্রিম্যাচিউরড জন্মের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি সব ক্ষেত্রে একরকম নয়। বিশেষ করে মাঝারি গর্ভকালীন জন্ম গ্রহণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
গবেষকরা বলছেন, এ ধরনের ফলাফল বর্তমান যুগের অ্যান্টিনেটাল কর্টিকোস্টেরয়েড ব্যবহারের ফলে প্রিম্যাচিউরড শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য প্রভাব সম্পর্কে নতুন ধারণা দেয়। অ্যান্টিনেটাল কর্টিকোস্টেরয়েড হলো এক ধরনের ওষুধ যা গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে প্রয়োগ করা হয় যখন সময়ের আগে প্রসবের ঝুঁকি থাকে। এটি মূলত স্টেরয়েড হরমোন, যা গর্ভের শিশুর ফুসফুসের পরিপক্বতা ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে।


