পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে একটি বিশাল গ্রহাণু। নাসার বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি গ্রহাণুটি খুঁজে পেয়েছেন, যা ২০৩২ সালে পৃথিবীতে আঘাত হানতে পারে। নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ‘২০২৪ ওয়াইআর৪ (2024 YR4)’ নামের গ্রহাণুটির ১ দশমিক ২ শতাংশ আশঙ্কা রয়েছে পৃথিবীতে আঘাত হানার। যদিও এটি মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করার মতো বড় নয়, তবে এটি একটি শহরকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
নাসার অ্যাস্টেরয়েড টেরেস্ট্রিয়াল-ইমপ্যাক্ট লাস্ট অ্যালার্ট সিস্টেমের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর গ্রহাণুটিকে শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, এটি যদি পৃথিবীতে আঘাত হানে, তা হলে একটি সম্পূর্ণ নগরী ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
২০২৪ ওয়াইআর৪ গ্রহাণুর ব্যাস প্রায় ৫৫ মিটার, এর মানে এটি এতটাই ছোট যে পৃথিবীতে আঘাত করলে মানবসভ্যতা ধ্বংস হওয়ার মতো ঘটনা ঘটবে না। তবে এর ধাক্কায় বিশাল বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন, এটি আঘাতের পর প্রায় ৮ মেগাটন শক্তি নির্গত করবে, যা জাপানের হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত পরমাণু বোমার চেয়ে ৫০০ গুণ বেশি শক্তিশালী।
বর্তমানে গ্রহাণুটি পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তবে আগামী ৫০ বছরে এটি পৃথিবীর বেশ কয়েকবার কাছাকাছি আসবে। প্রথমবার এটি ২০২৮ সালের শেষদিকে পৃথিবীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে। এর পর ২০৩২ থেকে ২০৭৪ সালের মধ্যে মোট ছয়বার পৃথিবীর খুব কাছাকাছি আসবে গ্রহাণুটি।
সবচেয়ে বড় ঝুঁকির সময় হতে পারে ২০৩২ সালের ২২ ডিসেম্বর। নাসার তথ্য অনুযায়ী, এই সময় গ্রহাণুটির পৃথিবীতে আঘাত হানার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি রয়েছে।
এ সমস্ত কারণে ২০২৪ ওয়াইআর৪ গ্রহাণুটিকে টুরিনো ইমপ্যাক্ট হ্যাজার্ড স্কেলে লেভেল ৩-এ রাখা হয়েছে। এই সিস্টেমটি বিজ্ঞানীরা কোনো গ্রহাণুর হুমকির মাত্রা নির্ধারণ করতে ব্যবহার করেন। এই স্কেলে লেভেল ৩ মানের গ্রহাণুটিকে জনসাধারণ ও কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাধারণত এই পর্যায়ের গ্রহাণুগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লেভেল ০-তে নেমে আসে, যার অর্থ সংঘর্ষের আশঙ্কা প্রায় শূন্য হয়ে যায়।
এ ধরনের মহাজাগতিক হুমকি ঠেকাতে নাসা ও অন্যান্য মহাকাশ সংস্থা প্রতিরক্ষামূলক প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে। সম্প্রতি ডাবল অ্যাস্টেরয়েড রিডাইরেকশন টেস্ট মিশনের মাধ্যমে গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনের পরীক্ষা করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ২০২৪ ওয়াইআর৪ গ্রহাণু ডাইনোসর যুগের ধ্বংসকারী বিশাল গ্রহাণুর মতো বিপজ্জনক না, যা ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে মেক্সিকোতে (বর্তমানে) আঘাত করেছিল। তবে এটি পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। কারণ, মহাকাশের যেকোনো পরিবর্তন ভবিষ্যতে এর গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। সূত্র: লাইভ সায়েন্স


