একটি বিশাল গ্রহাণু ২০৩২ সালে পৃথিবীতে আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল, তবে সেটি হয়তো পৃথিবীকে পাশ কাটিয়ে চাঁদে আঘাত হানতে পারে বলে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে।
নাসার সেন্টার ফর নিয়ার আর্থ অবজেক্ট স্টাডিজ (সিএনইওএস)-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ‘২০২৪ ওয়াইআর৪’ নামের গ্রহাণুটি ২০৩২ সালে পৃথিবীতে আঘাত হানার আশঙ্কা ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। তবে অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডেভিড র্যাঙ্কিনের নতুন হিসাব অনুযায়ী, ৯০ মিটার প্রশস্ত এই গ্রহাণুটির চাঁদে আঘাত হানার ০ দশমিক ৩ শতাংশ আশঙ্কা রয়েছে।
চাঁদে বায়ুমণ্ডল না থাকায় সেখানে গ্রহাণু আঘাত করলে কয়েকশ মিটার চওড়া গর্ত তৈরি এবং মহাকাশে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, যদি ২০২৪ ওয়াইআর৪ গ্রহাণুটি চাঁদে আঘাত হানে, তবে কিছু ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে। এটি বড় কোনো হুমকি সৃষ্টি করবে না বলে মনে করেন গবেষক ডেভিড র্যাঙ্কিন। তিনি নিউ সায়েন্টিস্টকে বলেন, ‘এতে কিছু উপাদান পৃথিবীর দিকে ফিরে আসতে পারে, তবে তা গুরুতর কোনো হুমকি সৃষ্টি করবে বলে মনে হয় না।’
প্রথমবার ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর শনাক্ত হওয়া এই গ্রহাণুর কক্ষপথ নিয়ে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। নাসা বলছে, অতীতেও এমন অনেক গ্রহাণু ছিল, যেগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে পর্যবেক্ষণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো খুব একটা ঝুঁকিপূর্ণ নয় বলে জানা গেছে ।
নাসা জানিয়েছে, ‘নতুন তথ্যের ভিত্তিতে এই গ্রহাণুর ঝুঁকি সূচক শূন্যতে নেমে আসতে পারে।’
বিশ্বের বিভিন্ন মহাকাশ সংস্থা ‘সিটি-কিলার’ গ্রহাণুর হুমকি মোকাবিলার উপায় নিয়ে গবেষণা করছে। এর মধ্যে রয়েছে মহাকাশযানকে সরাসরি গ্রহাণুর ওপর আছড়ে ফেলা বা পরমাণু বিস্ফোরণের মাধ্যমে এর গতিপথ পরিবর্তনের মতো পদ্ধতি।
সম্প্রতি চীনও এই প্রচেষ্টায় যোগ দিয়েছে। চীনের সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট সম্প্রতি জানিয়েছে, দেশটি মহাকাশ প্রকৌশল গবেষণার জন্য একাধিক পদে লোকবল নিয়োগ দিচ্ছে। চীনের ন্যাশনাল স্পেস সায়েন্স সেন্টারের গবেষক লি মিংতাও বলেন, ‘আমাদের গ্রহাণু প্রতিরক্ষায় নিবেদিত বিশেষজ্ঞ দল গড়ে তুলতে হবে এবং পৃথিবী রক্ষায় চীনের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে।’
২০২৩ সালে চীন একটি গ্রহাণু পর্যবেক্ষণ ও মহাকাশযান দিয়ে সেটির গতিপথ পরিবর্তনের ধারণাগত পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিল। ২০৩০ সালের দিকে এই মিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
২০২৪ ওয়াইআর৪ গ্রহাণুটি ২০২৮ সালে আবারও পৃথিবীর কাছাকাছি আসবে। তখন বিজ্ঞানীরা আরও নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করতে পারবেন, ২০৩২ সালে এটি পৃথিবীতে আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে কি না।


