কলম্বিয়ার রেইনফরেস্টে বিজ্ঞানীরা একটি বিরল প্রজাতির বিছে আবিষ্কার করেছেন, যা কয়েকগুণ দূরত্বে বিষ ছুড়তে পারে। নতুন এই প্রজাতির নাম ‘টিটিয়াস অ্যাকিলিস’। সম্প্রতি ‘জুলজিক্যাল জার্নাল অব দ্য লিনিয়ান সোসাইটি’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই বিছের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এটি প্রায় ৩৬ সেন্টিমিটার (১ ফুট) দূরত্বে বিষ ছুড়তে পারে। এটি শিকারি প্রাণীর চোখে বিষ নিক্ষেপ করে আঘাত করতে সক্ষম।
গবেষণার প্রধান লেখক লিও ল্যাবোরিউক্স জানিয়েছেন, শিকারিদের প্রতিহত করতে এই বিষ ছুড়ে মারার কৌশল বিছের মধ্যে বিকশিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিছেটি দুই ধরনের পদ্ধতিতে বিষ ছুড়ে মারে।
প্রথমত এটি স্পিটিং কোবরার মতো জোরালোভাবে বিষ স্প্রে করে। দ্বিতীয়ত এটি লেজের দ্রুত নড়াচড়ার মাধ্যমে বিষের ফোঁটা ছুড়ে দেয়।
এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ প্রজাতির বিছের মধ্যে মাত্র দুটি প্রজাতি বিষ স্প্রে করতে সক্ষম বলে নথিভুক্ত করা হয়েছে। একটি প্রজাতি উত্তর আমেরিকায় ও অন্য প্রজাতিটি আফ্রিকায় শনাক্ত হয়েছিল। দক্ষিণ আমেরিকায় এই ধরনের প্রজাতি এই প্রথম আবিষ্কৃত হলো।
আবিষ্কারের পেছনের গল্প
জার্মানির লুডভিগ ম্যাক্সিমিলিয়ান ইউনিভার্সিটি অব মিউনিখের মাস্টার্সের ছাত্র ল্যাবোরিউক্সের প্রথমে কলম্বিয়ার সেন্ট্রাল রেইনফরেস্টে বিছে নিয়ে গবেষণা করার পরিকল্পনা ছিল না। মথ ধরার প্রাথমিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে, তিনি বিছে নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তার পাত্রে ধরা পড়া বিছে বিষ স্প্রে করে। পরে ল্যাব পরীক্ষায় ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটি সত্যিই বিষের ফোঁটা স্প্রে করছে।
গবেষকদের ধারণা, এই বিষ মূলত শিকার ধরার জন্য নয়; বরং ইঁদুরের মতো শিকারিদের প্রতিহত করার অভিযোজন হিসেবে বিকশিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, টিটিয়াস অ্যাকিলিস প্রজাতির বিছেটি সাধারণত কম ক্ষতিকর ‘প্রিভেনম’ ব্যবহার করে স্প্রে করে। তবে যখন বিপদ বেশি হয় তখন এটি আরও শক্তিশালী ও বিষাক্ত তরল ছোড়ে।
গবেষক ল্যাবোরিউক্স বলেছেন, ‘এই প্রজাতি বিষ স্প্রে করার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকভাবে বেশি পরিমাণ প্রিভেনম ব্যবহার করে, যা অন্যান্য বিষ স্প্রে করা বিছার তুলনায় বেশ ব্যতিক্রমী।’ তবে গবেষকরা এখনো নিশ্চিত নন যে, এই বিষ মানুষের জন্য কতটা ক্ষতিকারক হতে পারে। আফ্রিকান প্রজাতি ‘প্যারাবুথাস ট্রান্সভালিকা’-এর বিষ মানুষের চোখে লাগলে সাময়িক অন্ধত্ব সৃষ্টি করতে পারে। তবে টিটিয়াস অ্যাকিলিসের বিষের প্রভাব সম্পর্কে অস্পষ্টতা রয়েছে। এ নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা চলছে।


