দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ইন্টারন্যাশনাল থার্মোনিউক্লিয়ার এক্সপেরিমেন্টাল রিঅ্যাক্টর (আইটিইআর) প্রকল্প অবশেষে অগ্রগতি করেছে। এই প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী চুম্বক তৈরি করা, যার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফিউশন প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যে এটি একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত আইটিইআর প্রকল্পে যুক্ত রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান ও রাশিয়াসহ ৩০টিরও বেশি দেশ। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো পারমাণবিক ফিউশনের মাধ্যমে উচ্চ তাপমাত্রায় পারমাণবিক কণাগুলোর সংঘর্ষ ঘটিয়ে শক্তি উৎপাদন করা। এতে প্রচণ্ড উত্তপ্ত প্লাজমা কণাকে একটি ‘অদৃশ্য খাঁচা’য় আবদ্ধ করে রাখা হবে। এই অদৃশ্য খাঁচা তৈরির জন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী চৌম্বকীয় ব্যবস্থা।
গত বুধবার আইটিইআর জানিয়েছে, এই চুম্বক ব্যবস্থার সর্বশেষ উপাদান ‘সেন্ট্রাল সোলেনয়েড’ যুক্তরাষ্ট্রে সফলভাবে তৈরি ও পরীক্ষিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এখন চূড়ান্ত সংযোজন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মূলত ২০২১ সালের মধ্যেই এই চুম্বকের নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে একাধিক জটিলতায় প্রকল্পটি চার বছর পিছিয়ে পড়ে। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং পারমাণবিক ফিউশন বিষয়ক লেখক চার্লস সাইফ বলেন, ‘১০ বছরের প্রচেষ্টার পর চার বছর পিছিয়ে থাকাটা দেখায়, এই প্রকল্প কতটা সমস্যায় জর্জরিত।’
আইটিইআরের মহাপরিচালক পিয়েত্রো বারাবাসচি বলেন, ‘এটি এক বোতলের মধ্যে আরেক বোতল রাখার মতো। হ্যাঁ, বোতলের ভেতরের মদ হয়তো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে মদ রাখার জন্য তো বোতল প্রয়োজন।’
বারাবাসচি আশ্বস্ত করেছেন, সংকট এখন কেটে গেছে। এখন নির্মাণ কাজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুতগতিতে চলছে। ২০৩৩ সালে এই প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে প্লাজমা উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ভৌগোলিক উত্তেজনার মধ্যেও দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বজায় রয়েছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট এবং এখন পর্যন্ত কেউ প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়নি।’
বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক ফিউশন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বেড়েছে। বহু বেসরকারি উদ্যোগ আগামী দশকের মধ্যে বাণিজ্যিক ফিউশন রিঅ্যাক্টর তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। তবে বারাবাসচি এই বিষয়ে আশাবাদী হলেও কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে জানি যে ফিউশন সম্ভব। প্রশ্ন হলো, এটি কি এমনভাবে সম্ভব যে, তা খরচ সাশ্রয়ী হবে। আমার ধারণা, আগামী এক বা দুই দশকে তা অর্জন সম্ভব নয়। খোলাখুলি বললে, এতে আরও সময় লাগবে।’ সূত্র: রয়টার্স


