সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে করা পৃথক তিন মামলার মধ্যে, শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এ মামলায় পরবর্তী দিন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ধার্য করা হয়েছে। অপর দুটিতে তদন্ত কর্মকর্তাকে আংশিকভাবে জেরা করা হয়েছে।
আগামী ১৭ নভেম্বর তিন মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।
সোমবার (১০ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
এর আগে শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার আসামি, রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের আইনজীবী, তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়াকে জেরা শেষ করেন।
এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত ২৯ জন সাক্ষীর সবাই আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।
শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে করা অপর মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান এবং দুদকের উপপরিচালক সালাউদ্দিনকে জেরা করা হয়েছে।
আংশিক জেরা শেষে অবশিষ্ট জেরার জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। এই মামলায় ২৭ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।
এছাড়া শেখ হাসিনা ও পুতুলসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে করা আরেকটি মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়াকে জেরার জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
দুদকের প্রসিকিউটর খান মো. মইনুল হাসান লিপন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত ১৪ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন।
তদন্ত শেষে, গত ১০ মার্চ ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।
শেখ হাসিনা ছাড়াও মামলায় অপর আসামিরা হলেন- জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, রাজউকের সাবেক সদস্য শফি উল হক, খুরশীদ আলম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সচিব শহিদ উল্লাহ খন্দকার এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে পৃথক ছয়টি মামলা করে দুদক। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।
এসব মামলায় একটিতে শেখ রেহানা, টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ ১৭ জন, আরেকটিতে আজমিনা, টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ ১৮ জন এবং অপর মামলায় রাদওয়ান, টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত ৩১ জুলাই তিন মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অন্য তিন মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। অযোগ্য হলেও তারা পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নং সেক্টরে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন।
জলিল উজ্জ্বল/রিফাত/