ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার শেরপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবির টহল ঝিনাইদহে ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল ইজিবাইকের যাত্রীর অপেক্ষা ফুরোচ্ছে নেইমারের নোয়াখালীতে পিকআপ-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ২ বন্ধু নিহত সংসদীয় কমিটি গঠনে বিলম্ব নজরদারি প্রশ্নবিদ্ধ নওগাঁ সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা গ্রুপ এল: যেভাবে নকআউটে যেতে পারে ইংল্যান্ড, ঘানা ও ক্রোয়েশিয়া নকআউটের টিকিট পেতে কার সমীকরণ কেমন? পণ্যের মান ও বৈচিত্র্যকরণে রপ্তানি বাড়বে ব্রাজিলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চায় স্কটল্যান্ড বিদেশি ঋণ পরিশোধে রেকর্ড পাবনায় ১৩ মাসে ৫৯ খুন, ৭১ ধর্ষণ নদীবন্দরে সতর্কতা, দেশের ১৬ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা সূচকের উত্থান হলেও কমেছে লেনদেন শিশু ধর্ষণের অভিযোগে কারাগারে ইমাম বদলে গেল গ্রুপ পর্বের টাইব্রেকার নিয়ম! ভাগ্য নির্ধারণ হবে যেভাবে মেম্বার থেকে এমপি, রাজনৈতিক উত্থানের গল্প শোনালেন আবদুল গফুর বরিশাল নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ: এক চেয়ারে নজর ৭ নেতার বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় নিতে চিঠি টানা জয়েও মেক্সিকোর পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট কোচ আগুয়েরে যুদ্ধের পর প্রথম বিদেশ সফরে পাকিস্তানে ইরানের প্রেসিডেন্ট সিন্ডিকেটের কবলে চট্টগ্রাম বন্দর: প্রতিযোগিতা রুখতে সুপরিকল্পিত ‘খেলা’ ২৪ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ২৪ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ছাত্রলীগের রাজনীতি করায় ছেলেকে ত্যাগের ঘোষণা বাবার পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে উ. কোরিয়া: কিম সৌন্দর্যে অনন্য গোলাপি অলকানন্দা ইবিএলের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলার হুঁশিয়ারি দুদকের সুইস-কানাডা মহারণ, বাঁচা-মরার ম্যাচ বসনিয়া-কাতারের

রামিসা হত্যা মামলার রায় যেভাবে কার্যকর হবে

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
রামিসা হত্যা মামলার রায় যেভাবে কার্যকর হবে
মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ছবি: খবরের কাগজ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বিচারিক আদালত। অধস্তন আদালতের রায় ঘোষণার পর এই রায় কার্যকর হবে কীভাবে–এই আলোচনা সামনে এসেছে।

নিয়ম অনুযায়ী অধস্তন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) নিতে হয়। এদিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত শুনানির জন্য আগামী রবিবার (১৪ জুন) থেকে হাইকোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রামিসাকে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণার পর এ তথ্য জানান তিনি। এ-সংক্রান্ত মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল হাইকোর্টে দ্রুত শুনানির জন্য গতকাল আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। এরপর প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের সিদ্ধান্তের কথা জানান। সেই সঙ্গে আগামী রবিবার থেকে ওই বেঞ্চের বিচারিক কার্যক্রম শুরুর কথাও জানান প্রধান বিচারপতি। আদালত থেকে বের হওয়ার পর সাংবাদিকদের এসব কথা জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

অন্যদিকে রামিসা হত্যার ঘটনায় করা মামলাসহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমনসংক্রান্ত মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের একটি প্যানেল গঠন করা হয়েছে বলেও জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

গতকাল মামলার রায় ঘোষণার পর সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে কথা বলেন আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। আমরা আইনের প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে ৬ কার্যদিবসে বিচার-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পেরেছি। এ রায়ে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট। আশা করি, উচ্চ আদালতে গেলেও এ রায় কার্যকর থাকবে।’

আইনমন্ত্রী মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়া-সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সাত দিনের মধ্যে ডেথ রেফারেন্স কনফার্মেশনের জন্য হাইকোর্ট ডিভিশনে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। তিনি বলেন, ‘এসব মামলায় পেপারবুক প্রস্তুত করতে হয়। পেপারবুক সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে হয়। এরপর সুপ্রিম কোর্ট সিরিয়ালি মৃত্যুদণ্ডগুলোর মামলা নিষ্পত্তি করেন। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন সব ডেথ রেফারেন্স খুব দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য আরও বেশি ফোকাসড সিদ্ধান্ত নেবেন।’

আইনমন্ত্রী বলেন, এই হত্যা মামলাসহ নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা এ ধরনের অন্য মামলাগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করবেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘আমি লেগে থাকব; যাতে করে রামিসাসহ এমন সব ঘটনার দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করা যায়। আমরা আদালতের কাছে নিবেদন করব সব দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য।’

এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, বিচারিক আদালত ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানোর পর তারা দ্রুততম সময়ে মামলার শুনানির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবেন। তিনি বলেন, ‘সে ক্ষেত্রে পেপারবুক করতে হতে পারে। এ জন্য প্রধান বিচারপতির বিশেষ নির্দেশনার প্রয়োজন হতে পারে। এ প্রক্রিয়া শেষ হলে আপিল নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করব। সেটা দ্রুততম সময়ে করব।’

এদিকে রায় ঘোষণার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, এই হত্যা মামলায় জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে ডিএনএ টেস্ট ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট সংগ্রহ করে দ্রুত চার্জশিট দিয়ে বিচারে তারা সহযোগিতা করেছেন। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সহযোগিতা করেছি। আদালত ন্যায়বিচার করেছেন। বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এটা মাইলফলক। আমরা সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনব ও অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে বলব যাতে এই হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স একটু এগিয়ে আনা যায়। তাহলে আর রায় বাস্তবায়ন বিলম্বিত হবে না।’

এদিকে আইনজীবীরা বলছেন, অধস্তন আদালতের দেওয়া রায় উচ্চ আদালতে বহাল থাকলেও রায় কার্যকরে আছে আরও আইনি প্রক্রিয়া। তারা জানান, আইন অনুযায়ী অধস্তন আদালতের রায় অনুমোদনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে ডেথ রেফারেন্স পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও আপিল করার সুযোগ পাবেন।

হাইকোর্টে যে পক্ষ হেরে যাবে, সেই পক্ষ আপিল বিভাগে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করতে পারবে। আবার আপিল বিভাগে যে পক্ষ হেরে যাবে ওই পক্ষ রিভিউ আবেদন করতে পারবে। সর্বশেষ রায়ে কারও মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারবেন। রাষ্ট্রপতি ওই আবেদন নামঞ্জুর করলে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করা হয় বলে জানান আইনজীবীরা।

জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, রিমান্ডে আইনজীবী

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, রিমান্ডে আইনজীবী
অ্যাডভোকেট শফিক নজরুল। ছবি: খবরের কাগজ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের মেয়ে আদিবার ছবি ব্যবহার করে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার মামলায় অ্যাডভোকেট শফিক নজরুলকে চার দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল মামুন সাতদিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, 'বার কাউন্সিল পরীক্ষা ও সরকারকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে আসামি প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। 

প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা রহমান ও অ্যাটর্নি জেনারেলের মেয়ের ছবি ব্যবহার করেন ও ফেসবুকে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দেন। তাকে রিমান্ডে নিলে চক্রের অন্যান্য সদস্য ও অর্থ লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।'

শুনানির সময় বিচারকের অনুমতি নিয়ে আসামি বলেন, 'ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। প্রশ্ন বাবদ কার কাছ থেকে কোথায়, কখন টাকা নিয়েছি তার প্রমাণ নেই। কেউ প্রমাণ করতে পারবে না আমি পরীক্ষার আগে সাজেশন দিয়েছি। আমি একজন এক্সপার্ট। ১০০ প্রশ্নের সবটাই কমন পড়েছে। আমি কি সাজেশন দিতে পারব না? মিথ্যে মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার করেছে। তারপর বেঁধে রেখেছে। পুলিশের কি এই ক্ষমতা আছে?’

আসামি পক্ষে রিমান্ডের আবেদন বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে রিমান্ড মঞ্জুর করার আবেদন জানায়। শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন বিচারক। 

মামলার বিবরণে জানা গেছে, অ্যাডভোকেট শফিক নজরুল ‘LAW DOCTOR’ পেজের মাধ্যমে ‘১০০টি এমসিকিউ পড়লেই নিশ্চিত পাস’ এমন বিজ্ঞাপন প্রচার করতেন। 

নিজেকে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করতেন এবং পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করতেন। 

এক ভুক্তভোগীর অভিযোগে বলা হয়, ৮ লাখ টাকা দাবি করে ধাপে ধাপে তার কাছ থেকে ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়। পরে গত ১২ জুনের বার কাউন্সিল পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হলে প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করা হয়।

জলিল উজ্জ্বল/নাঈম

পদত্যাগ করলেন ১৮ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
পদত্যাগ করলেন ১৮ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের অবস্থানের সঙ্গে মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ১৮ জন জামায়াত সমর্থিত আইন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো পৃথক পদত্যাগপত্রে তারা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

পদত্যাগপত্রে তারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন না হওয়া, বিচার বিভাগের জন্য স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা এবং সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। এসব কারণে সাংবিধানিক শাসন, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলরা হলেন, অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভুঁইয়া, আসাদ উদ্দিন এবং মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া পদত্যাগকারী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা হলেন, ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভুঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারুফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির এবং রেজাউল ইসলাম।

পদত্যাগপত্রে তারা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তারা অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার শর্তে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

নাঈম/

সালমান শাহের দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিল

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
সালমান শাহের দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিল
চিত্রনায়ক সালমান শাহ।

চিত্রনায়ক সালমান শাহের খুনের রহস্য উদঘাটনে তার দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা মামলার বাদীর আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

এর আগে মামলার বাদী সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল করার আবেদন করেন। 

আবেদনে বলা হয়, “মামলাটি ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে চলমান আছে। প্রাকৃতিক কারণে চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃতদেহের দেহাবশেষ পাওয়ার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ। ১৯৯৭ সালের ১৩ জানুয়ারি সালমান শাহের মরদেহ আদালতের নির্দেশে উত্তোলন করা হলে তা মাত্রাতিরিক্ত পচনশীল অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল মর্মে উল্লেখ করা হয়। সালমান শাহের মরদেহ হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছিল এবং বর্তমানে সেখানেই কবরস্থ আছে। এজন্য তার মরদেহ বারবার উত্তোলনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানবে, বাধার সৃষ্টি হতে পারে ও সংঘর্ষ হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা রয়েছে। মরদেহ উত্তোলনের বিষয়ে সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীরও ব্যাপক আপত্তি আছে।

গত ২০ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) জিয়াউল মোর্শেদ মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই গত ২৪ মে একই আদালত মরদেহ উত্তোলনের আবেদন মঞ্জুর করেন। 

ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক গত বছর ২০ অক্টোবর রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে। এ বিষয়ে সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিনের অভিযোগ এবং ঘটনায় জড়িত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে হত্যা মামলার নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশে সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম এ মামলাটি করেন।

জলিল উজ্জ্বল/নাঈম

টোল আদায়ে অনিয়ম: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
টোল আদায়ে অনিয়ম: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২০ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারিত ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এদিন প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। এ কারণে আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ আলমগীর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।

এর আগে, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়মের অভিযোগ এনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের ও আনিসুল হক। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, উপসচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, ইবনে আলম হাসান, মো. আফতাব হোসেন খান ও মো. আব্দুস সালাম সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবাল এ মামলার আসামি।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড (সিএনএস)-কে একক উৎসভিত্তিক দরপত্রের মাধ্যমে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পূর্বের বৈধ টেন্ডার বাতিল করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই চুক্তিটি সম্পাদন করা হয়।
সিএনএস লিমিটেডকে টাকার অংকে নয় বরং মোট আদায়কৃত টোলের ১৭.৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জে (ভ্যাট ও আইটি ব্যতীত) কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি ৪৮৯ কোটি টাকার বেশি বিল গ্রহণ করে। অথচ ২০১০-২০১৫ মেয়াদে একই সেতুতে যৌথভাবে এমবিইএল-এটিটি কোম্পানিকে টোল আদায়ের দায়িত্ব দিতে খরচ হয়েছিল মাত্র ১৫ কোটি টাকার কিছু বেশি।

২০২২-২০২৫ মেয়াদে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড একই ধরনের প্রযুক্তিতে তিন বছরের জন্য ৬৭ কোটি টাকায় চুক্তি পায়, যা পাঁচ বছরে রূপান্তর করলে প্রায় ১১২ কোটি টাকা হয়। ফলে সিএনএস লিমিটেডকে একক উৎসভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়ায় সরকারের ৩০৯ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্তরা/

ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যুবকের ফাঁসি

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০২:১২ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০২:২২ পিএম
ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যুবকের ফাঁসি
আদালতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আবু তাহের। ইনসেটে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার শিশু তাবাচ্ছুম

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর চার বছরের শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলার আসামি আবু তাহেরকে ফাঁসি ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২২ জুন) দুপুর ১২টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান এই আলোচিত রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আদালত আসামিকে ফাঁসির আদেশের পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার এই টাকা আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হত্যার পর মরদেহ গুম করার অপরাধে আসামিকে আরও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এদিকে ঘটনার দিন থেকে রায় ঘোষণা পর্যন্ত ১১৬ দিনের মধ্যে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও রায় ঘোষণা হলো, যা ঝিনাইদহের আদালতে এক অনন্য নজির।

আদালত ও মামলায় রায় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া আবু তাহের। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করতে গেলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়।

ঘটনার পরদিন পুলিশ আসামি আবু তাহেরকে কুষ্টিয়া শহরে তার ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে গত ২৬ মে তাবাসসুম ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক জেল্লাল হোসেন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। গত ১৬ জুন মামলার চার্জ গঠন, ১৭ জুন সাক্ষ্য গ্রহন এবং ২১ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সোমবার রায় ঘোষনার দিন ধার্য করেন আদালত।

সরকার পক্ষে পিপি অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম ও আসামি পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করেন।

মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত এই সর্বোচ্চ সাজার রায় দেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সরকার পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম জানান, ১১৬ দিনে এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে ঝিনাইদহের বিচার ব্যবস্থায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো এবং সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ হলো।

অন্যদিকে, শিশু তাবাচ্ছুমের বাবা নজরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আসামি আবু তাহেরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।

মাহফুজুর রহমান/আজহার