রাজনৈতিক বিবেচনায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ঠিকাদারদের পাওয়া কাজ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে জেলার সন্দ্বীপ উপজেলাকে রক্ষায় বেড়িবাঁধ নির্মাণে চার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৫৬২ কোটি টাকার কাজ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা আত্মগোপনে চলে গেলে সন্দ্বীপ সুরক্ষা বাঁধের কাজ শুরুই করা যায়নি। এতে উপজেলাবাসীর মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে কাজ শুরুর দাবিতে তারা মানববন্ধনও করেছেন।
পাউবো সূত্র জানায়, চার ঠিকাদারের মধ্যে অর্ধেক অর্থাৎ আট প্যাকেজের প্রায় ২৬৩ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে বিশ্বাস বিল্ডার্স। প্রতিষ্ঠানটির মালিক নজরুল ইসলাম (দুলাল) ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি।
সন্দ্বীপের সাবেক এমপি মাহফুজুর রহমান মিতার ঘনিষ্ঠজন দুলাল ৫ আগস্টের পর গা-ঢাকা দিয়েছেন। পটিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা দিদারুল আলমের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েল অ্যাসোসিয়েট যৌথভাবে এম এম বিল্ডার্সের সঙ্গে দুই প্যাকেজের প্রায় ৫৬ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে। চার প্যাকেজে ১১১ কোটি ৭৭ লাখ টাকার কাজ পেয়েছে ই-ইঞ্জিনিয়ার্স এবং ৮৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকার কাজ পেয়েছে খুলনা শিপ ইয়ার্ড। এ ছাড়া মেসার্স হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্স ও জামান ব্রাদার্স নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১৪ কোটি টাকার মাটির বাঁধ নির্মাণের কাজ পেয়েছে।
গত ২৮ নভেম্বর বিকেলে সন্দ্বীপের হরিশপুর ইউনিয়ন বেড়িবাঁধে সন্দ্বীপ রক্ষাবাঁধের কাজ দ্রুত শুরুর দাবিতে মানববন্ধন করা হয়। এ সময় পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল মাওলা শিমুল বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। সাগরও শান্ত। নির্বিঘ্নে নির্মাণসামগ্রী আনা-নেওয়ার সুযোগ চলে যাচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনো কাজ করছে না। চার লাখ বাসিন্দার দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের মানুষের কপালের দুঃখ কপালেই রয়ে গেল। আওয়ামী লীগের লোকজনকে বিনা প্রতিযোগিতায় কাজ দেওয়ায় আজ সন্দ্বীপবাসী এই দশা।’
উপজেলা জাসাসের সভাপতি মাস্টার আবকর হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সারিকাইত ইউনিয়নের বাংলাবাজার ঘাটের দক্ষিণাংশ, মুছাপুর স্লুইস গেট এলাকা, রহমতপুর ঘাট ও গুপ্তচরা ঘাট দিয়ে নিয়মিত ভারী পণ্য আনা-নেওয়া করছেন। কাঠের তৈরি বড় বোট ও মাঝারি আকারের ভলগেট দিয়ে পণ্য ওঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া জোয়ারের সময় বড় নৌযান দিয়ে ভারী পণ্য ওঠানামা করাতেও কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে না।’
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর-২ বিভাগ) ড. তানজির সাইফ আহমদ বলেন, ‘কাজটি চর এলাকায় হওয়ায় ঠিকাদাররা সেখানে কাজ করতে যেতে চান না। তাই যারা দরপত্রে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের সবাই কাজ পেয়েছেন। গত জানুয়ারি ও মার্চ মাসে তাদের কার্যাদেশ দেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘সন্দ্বীপের চারদিকে চর জেগেছে। তা ছাড়া খালটিও ভরাট হয়ে গেছে। এ কারণে ঠিকাদারদের নির্মাণসামগ্রী নিতে বেগ পেতে হচ্ছে। তাদের দুই দফায় তাগাদাপত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বাস বিল্ডার্স নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে তাই তারা কাজ করবে। যারা কাজ করছে না তাদের আবারও তাগাদাপত্র দেওয়া হবে।’ সব ঠিকাদারই কাজ শুরু করবেন বলেন তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তবে বিশ্বাস বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপক ফিরোজুর রহমানের দাবি, তারা গত চার মাস ধরে সেখানে কাজ করছেন। একটি লটের মাটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সন্দ্বীপে তারা আগেও কাজ করেছেন। সেসব কাজের জন্য নেওয়া ইকুইপমেন্ট তারা বর্তমান প্রকল্পে ব্যবহার করছেন। তবে দ্বীপের চারপাশে চর পড়ে যাওয়ায় মালামাল পরিবহনে খরচ বেড়েছে। তিনি জানান, বিশ্বাস বিল্ডার্স এবং খুলনা শিপইয়ার্ড কাজ করছে। অন্য দুই প্রতিষ্ঠান কাজ ধরেনি।