জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য সহিংসতা ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। শেখ হাসিনার সেসব উসকানিমূলক বক্তব্য সাইবার স্পেসে প্রচার করা অপরাধ বলে গণ্য হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে ফেইসবুক পোস্টে এ কথা বলেছেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
জুলাই অভ্যুত্থানে আন্দোলনরত ছাত্র জনতার ওপর গুলিবর্ষণের নির্দেশ, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের মতো ৩টি গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১ এ তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান কামালের বিবৃতি ও বক্তব্য প্রচার করে।
এর প্রতিক্রিয়ায় বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, 'আপনি যদি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো শুনেন, সেখানে দেখবেন অধিকাংশ বক্তব্য ওপেন কল ফর ভায়োলেন্স। কিছু কিছু ওপেন কল ফর ক্রিয়েটিং ন্যাশনাল ওয়াইড ভায়োলেন্স। ফলে এ ধরনের সহিংসতা তৈরির আহ্বান-সংবলিত বক্তব্য ডিজিটাল মিডিয়া বা সাইবার স্পেসে প্রচার করাও অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।'
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দাবি করেছেন, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ- ২০২৫ প্রণয়নের মানবাধিকার কর্মীরাও একমত হয়েছিলেন যে, 'হেট স্পিচ দ্যাট ইনষ্টিগেটস ভায়োলেন্স', 'হেট স্পিচ দ্যাট কলস ফর ভায়োলেন্স'- এই দুটি অপরাধ।
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিদ্বেষমূলক বক্তব্য অপরাধ না হলেও সেই বক্তব্য সহিংসতা ছড়ালে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে সতর্ক করে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, 'সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ- ২০২৫ মতে, হেট স্পিচ অপরাধ না। ফ্রিডম অফ স্পিচ বা বাক্স্বাধীনতা হিসেবে হেট স্পিচকে রেসপেক্ট করা হয়েছে। তবে হেট স্পিচ যদি ভায়োলেন্স বা সহিংসতা তৈরি করে অথবা ভায়োলেন্স কল করে তখন সেটা অপরাধ।'
তিনি জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার বন্ধ করতে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি সচেতনতামূলক প্রজ্ঞাপন এবং সতর্কতা জারি করেছে।
জয়ন্ত/মেহেদী/