সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে আগামী ২২ নভেম্বর (শনিবার) রাজধানী ঢাকায় সমাবেশ করবেন শিক্ষক-সংস্কৃতিকর্মীরা।
জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলনের ব্যানারে শনিবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে হবে এ সমাবেশ। শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের বক্তব্য পর্বের পাশাপাশি গান, নাচ, আবৃত্তির নানা পরিবেশনা থাকবে এই সমাবেশে।
জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ২৩টি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষক, ছাত্র ও শিশু সংগঠন।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম এ তথ্য জানান।
এর আগে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিলের প্রতিবাদ এবং মূল প্রজ্ঞাপন পুনর্বহালের দাবিতে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায়ের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলনের নেতারা। বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমবেত হন তারা। পরে তারা সচিবালয়ে যান।
জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলনের পক্ষ থেকে উপদেষ্টার হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন মাহমুদ সেলিম, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. আবু সাঈদ এবং রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থার সভাপতি ড. মকবুল হোসেন।
মাহমুদ সেলিম বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার একটি বিশেষ মহলের চাপে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক নিয়োগের গেজেট বাতিল করেছে। মহলটি সংগীত শিক্ষকের পরিবর্তে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছে। অথচ প্রতিটি বিদ্যালয়ে আগে থেকেই ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োজিত আছেন। শিশুর সর্বাঙ্গীন বিকাশের জন্য শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতি ও শরীরচর্চার যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, তা বিশ্বের শিক্ষাবিদ ও মনস্তত্ত্ববিদরা দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন।’
ড. মকবুল হোসেন বলেন, ‘ধর্মের নামে যারা সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষা বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন তারা একটি মেধাহীন, বোধহীন অবিকশিত-বুদ্ধির প্রজন্ম গড়ে তোলার ষড়যন্ত্র করছেন।’
স্মারকলিপিতে তারা সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ বাতিল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি প্রত্যাহারের দাবি জানান। একইসঙ্গে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সংগীত, চারুকলা ও শরীরচর্চা বিষয়ে পাঠদান বাধ্যতামূলক করার দাবিও জানান।
জয়ন্ত/এসজি/